সংবাদদাতা, কাঁথি: পর্যটন কেন্দ্র মন্দারমণি ও তাজপুরে ফের অবৈধ হোটেল-লজ নির্মাণের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে পুলিস। কোস্টাল রেগুলেশন জোন আইন না মেনে উপকূল বিধি লঙ্ঘন করে হোটেল-লজগুলি নির্মাণ হচ্ছিল। গত কয়েক দিনে দু’টি পর্যটন কেন্দ্রের ১২টি হোটেলের নির্মাণকাজ বন্ধ করেছে মন্দারমণি কোস্টাল থানার পুলিস। নির্মীয়মাণ হোটেল-লজগুলি থেকে যাবতীয় নির্মাণ ও ইমারতি সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। হোটেল মালিকদের বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করেছে পুলিস এবং তাঁদের এই মর্মে সতর্কতামূলক নোটিস ধরানো হয়েছে। সব মিলিয়ে মন্দারমণি ও তাজপুর এলাকায় বেআইনি নির্মাণ রুখতে তৎপরতা শুরু করেছে পুলিস-প্রশাসন। কোথাও উপকূল বিধি না মেনে সরকারি জায়গায় নতুন করে হোটেল-লজ নির্মাণ হচ্ছে। আবার কোথাও কোনও হোটেল মালিক তাঁদের হোটেলের পাশে নতুন করে নির্মাণ করছেন। মন্দারমণি কোস্টাল থানার ওসি অরিজিৎ চট্টোপাধ্যায় বলেন, অবৈধ নির্মাণের অভিযোগ পেলে কিংবা নজরে এলেই পুলিস অভিযান চালাচ্ছে। আমরা হোটেল নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দিচ্ছি। যাবতীয় সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা হচ্ছে। এই অভিযান লাগাতার চলবে। প্রসঙ্গত, দীঘা, মন্দারমণি কিংবা তাজপুরের সৈকতে অবৈধ হোটেল-লজ নির্মাণের অভিযোগ নতুন নয়। বিশেষ করে মন্দারমণিতে প্রায় সময়ই উপকূল বিধি না মেনে হোটেল-লজ নির্মাণের অভিযোগ উঠে আসে। গত বছর নভেম্বর মাসে জাতীয় পরিবেশ আদালতের নির্দেশ মেনে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন মন্দারমণি এবং সংলগ্ন চারটি মৌজার ১৪৪টি হোটেল-লজ, রিসর্ট ও হোমস্টে ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিল। ২৩ নভেম্বরের মধ্যে ওইসব বেআইনি নির্মাণ ভেঙে ফেলতে হবে বলে জানিয়েছিল জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসনের এই নির্দেশকে মন্দারমণির হোটেল-লজ মালিকদের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় মন্দারমণির হোটেল-লজ মালিকদের সংগঠন। বিষয়টি জানার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হস্তক্ষেপ করেন। তিনি হোটেল-লজ রিসর্ট ভেঙে ফেলার ক্ষেত্রে বুলডোজার নীতির বিরোধিতা করেন এবং জেলা প্রশাসনকে এই সিদ্ধান্তকে কার্যকর না করার নির্দেশ দেন। পরবর্তী সময়ে জেলা প্রশাসনের নির্দেশের উপর স্থগিতাদেশ দেয় কলকাতা হাইকোর্ট। সেই মামলা বর্তমানে হাইকোর্টে বিচারাধীন রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ফের পুলিস-প্রশাসনের নজরে অবৈধ হোটেল-লজ। উপকূল এলাকার থানাগুলির দায়িত্বপ্রাপ্ত ডিএসপি (ডিঅ্যান্ডটি) আবু নুর হোসেন বলেন, উপকূল আইন রক্ষার স্বার্থে অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে লাগাতার অভিযান জারি থাকবে। কাউকেই রেয়াত করা হবে না।



