নিজস্ব প্রতিনিধি, নন্দীগ্রাম: পুজোয় সংকল্পকারী কে হবেন, তা নিয়ে দুই ছাত্র সংসদের সংঘাতে দীর্ঘক্ষণ বন্ধ রইল পুজো। পুজো বন্ধ রেখে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ ও বিজেপির ছাত্র সংগঠনকে নিয়ে জরুরি আলোচনায় বসলেন কলেজের প্রিন্সিপাল। সেখানে অংশ নিলেন পুলিস অফিসাররাও। কেউ কাউকে এই কাজের দায়িত্ব ছাড়তে নারাজ। অগত্যা দুই ছাত্র সংগঠন থেকে দু’জনকে সংকল্পকারী হিসেবে পুজোয় নিযুক্ত করা হল। সোমবার বেনজির এই ঘটনা ঘটে নন্দীগ্রাম সীতানন্দ কলেজে। ৫-৬ফেব্রুয়ারি ওই কলেজে ন্যাক টিম ভিজিট করবে। সেই উপলক্ষ্যে প্রস্তুতির কাজ জোরকদমে চলছে। সেজন্য এদিন সকালে তাড়াতাড়ি অধ্যক্ষ সামু মাহালি কলেজে পৌঁছে যান। তিনি কলেজে ঢোকার পরই জানতে পারেন, সংকল্প করা নিয়ে দুই ছাত্র সংগঠন সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে। সেজন্য আটকে রয়েছে পুজো। তারপর জরুরি ভিত্তিতে ওই সমস্যার সমাধান করা হয়। সামনে ন্যাক ভিজিট থাকায় কলেজে নতুন করে কোনও অশান্তি চাইছে না কর্তৃপক্ষ। তাই দুই ছাত্র সংগঠন থেকে দু’জনকে ওই কাজের অনুমতি দিয়ে মধ্যপন্থা বেছে নেয় কর্তৃপক্ষ।
Advertisement
২০২৪ সালে লোকসভা ভোটের ফল প্রকাশের পর নন্দীগ্রাম সীতানন্দ কলেজে বিজেপির ছাত্র সংগঠন এবিভিপি ইউনিট খোলে। ২০১৭সাল থেকে ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়নি। যেকারণে এখন কলেজে ছাত্র সংসদ নেই। পরিবর্তে ২২টি সাব কমিটি রয়েছে। অধ্যক্ষই প্রতিটি সাব কমিটির চেয়ারম্যান। তারমধ্যে কালচারাল সাব কমিটির মাধ্যমে সরস্বতী পুজো, বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নবীনবরণ প্রভৃতি অনুষ্ঠান পরিচালিত হয়। প্রায় একচেটিয়া কলেজে শাসকদলের ছাত্র নেতারাই ওইসব সাব কমিটির মাথায় আছেন। নন্দীগ্রাম সীতানন্দ কলেজেও তাই। কিন্তু, এই কলেজে যাবতীয় সাব কমিটি নিজেদের দখলে নিতে মরিয়া এবিভিপি। এখান থেকেই সংঘাতের সূচনা। সীতানন্দ কলেজে সরস্বতী পুজো আয়োজন নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই তৃণমূল ছাত্র পরিষদ এবং এবিভিপির মধ্যে রেষারেষি চলছে। এই অবস্থায় পুজো চলাকালীন কলেজ প্রাঙ্গণে পুলিস মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। কিন্তু, সোমবার পুজো শুরুর মুহূর্তে ঝামেলা শুরু হয়। দু’পক্ষের গণ্ডগোলের মুহূর্তে পুজোর সরঞ্জাম একটি ঘরের রেখে তালাবন্দি করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে এক অধ্যাপকের বিরুদ্ধে। যদিও তালা ভেঙে পুজোর সামগ্রী বের করে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ। কলেজের রাশ কার হাতে থাকবে তা নিয়ে দুই ছাত্র সংগঠনের রেষারেষি তুঙ্গে। এই অবস্থায় ৫-৬ফেব্রুয়ারি ন্যাক টিম কলেজ পরিদর্শনে আসবে। ভিজিট চলাকালীন রাতদিন কলেজ ক্যাম্পাসে পুলিস রাখার জন্য চিঠি দিয়েছেন অধ্যক্ষ। ন্যাক টিমের জন্য পুলিস এসকর্ট করারও আর্জি জানানো হয়েছে। নিরাপত্তায় কোনওরকম ঝুঁকি নিতে নারাজ কলেজ কর্তৃপক্ষ। টিএমসিপির নন্দীগ্রাম কলেজ ইউনিট সভাপতি সুমিত মণ্ডল বলেন, বিজেপি আশ্রিত কিছু দুষ্কৃতী ধর্মীয় উস্কানি নিয়ে একটা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে। এই পুজোয় যাতে কোনও বাধাবিপত্তি না আসে সেজন্য পুলিস মোতায়েন করা হয়েছে। এবিভিপির কলেজ ইউনিটের সহ সভাপতি সুজন ভুঁইয়া বলেন, পুজো নিয়ে ছাত্র প্রতিনিধিদের সঙ্গে কলেজ কর্তৃপক্ষের মিটিং হয়। সেখানে ঠিক হয়, কোনও সংগঠনের পতাকা ছাড়াই পুজো হবে। কিন্তু, সেই নির্দেশ অমান্য করে টিএমসিপি নিজেদের সংগঠনের পতাকা টাঙায়। এদিন পুজোর সময় কে সংকল্প করবেন তানিয়ে দুই সংগঠন থেকে দু’জনের নাম সুপারিশ করা হয়। দু’জনকে সংকল্পকারী হিসেবে রাখা হয়।



