Bartaman Logo
৭ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

স্কুলড্রেসেও কারচুপি! বিডিওর নামে নালিশ এসডিওকে

স্কুলড্রেসেও কারচুপি! বিডিওর নামে নালিশ এসডিওকে
  • ২৩ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: সরকারি বিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের পোশাক দেওয়ার জন্য রাজ্য সরকারের তরফ থেকে ভালো কাপড় দেওয়া হচ্ছে। অথচ রঘুনাথপুর ১ নম্বর ব্লকের বিডিও সেই কাপড় বদল করে নিম্নমানের কাপড় দিচ্ছেন। যার জন্য সরকারের বদনাম হচ্ছে। বুধবার বিডিওর বিরুদ্ধে এমনই অভিযোগ তুলে রঘুনাথপুর ১ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সহ কয়েকজন কর্মাধ্যক্ষের তরফ থেকে মহকুমা শাসককে লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিষয়টি তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। ঘটনায় এলাকায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে। রঘুনাথপুর মহকুমা শাসক বিবেক পঙ্কজ বলেন, বিষয়টি সম্পূর্ণ জানা নেই। খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
Advertisement
প্রশাসনের একটি সূত্র থেকে জানা গিয়েছে, বর্তমানে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে সরকার পোষিত প্রতিটি বিদ্যালয়ের প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত ছাত্রছাত্রীদের বিনামূল্যে ২ জোড়া পোশাক দেওয়া হয়। নীল ও সাদা রঙের পোশাকে রাজ্য সরকারের বিশ্ব বাংলার লোগো থাকে। রাজ্য সরকারের তরফ থেকে প্রতি বছর প্রতিটি ব্লককে পোশাক তৈরির কাপড় সরবরাহ করা হয়। ব্লক প্রশাসন সরবরাহকৃত সেই কাপড় স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের হাতে তুলে দেন। তাঁরা কাপড় থেকে পোশাক তৈরি করে বিদ্যালয়গুলিতে বিলি করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ছাত্রছাত্রীদের পোশাক তৈরির কাপড় নিয়ে সোমবার রাত্রে তিনটি লরি রঘুনাথপুর ১ নম্বর ব্লকে আসে। লরি থেকে কাপড়গুলি ব্লকের গোডাউনে নামানো হচ্ছিল। সেই সময় পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ প্রদীপ মাজী, জনস্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ ডি মনোজ, কৃষি কর্মাধ্যক্ষ কালিপদ বাউরি ও শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ হিমাংশু মণ্ডল ঘটনাস্থলে যান। লরিগুলি থেকে কী নামানো হচ্ছে সেই বিষয়ে জানতে চাইলে মাল নামানো কর্মচারীরা পালিয়ে যায়। পঞ্চায়েত সমিতিকে না জানিয়ে রাতের অন্ধকারে কেন পোশাক নামানো হচ্ছে, তাই নিয়ে বিডিওর কাছে জানতে চাওয়া হয়। কিন্তু তিনি নিশ্চুপ থাকেন। যার ফলে ব্যাপক ঝামেলার সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে রাতেই রঘুনাথপুর থানার পুলিস ঘটনাস্থলে যায়। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, পরের দিন পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যদের উপস্থিতিতে মালপত্র (কাপড়) নামানো হবে। সেই মতো গাড়িগুলি ব্লকে‌ রাখা হয়। এদিন সকালে গিয়ে পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যরা দেখেন লরিগুলি উধাও হয়ে গিয়েছে। আর তাতেই তাঁরা ক্ষুব্ধ হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
 পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি শুকুরমণি মুর্মু বলেন, ব্লকে কখন কী আসছে, কী নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, সেই বিষয়ে পঞ্চায়েত সমিতিকে কিছুই জানানো হয় না। বিডিও স্বেচ্ছাচারিতা চালাচ্ছেন। ওইদিন রাত্রে লরিগুলিতে যে পোশাক এসেছিল, আমরা সেগুলি পরের দিন অফিস টাইমে সকলের উপস্থিতিতে নামানোর জন্য বলেছিলাম। কিন্তু অফিস টাইমে এসে দেখি লরিগুলি নেই। পুলিসকে ফোন করা হলে জানানো হয় বিডিওর নির্দেশে লরিগুলি ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এটাতে স্পষ্ট হয় বিডিও নিজে কাপড় বদলের অনিয়মের সাথে জড়িত রয়েছেন।
কর্মাধ্যক্ষরা বলেন, বিষয়টি পূর্ণ তদন্তের দাবি জানিয়ে আমরা মহকুমা শাসককে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছি।
বিজেপির রঘুনাথপুর ৫ নম্বর মণ্ডল সভাপতি সন্তু তেওয়ারি বলেন, তৃণমূল যে অভিযোগ করেছে সেটা হাস্যকর। কারণ বিষয়টি নিয়ে আমাদের তরফ থেকে একাধিকবার অভিযোগ জানানো হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়গুলিতে নিম্নমানের পোশাক দিলেও তৃণমূল নেতৃত্বরা সোচ্চার হননি। আসলে এটা কাটমানি ভাগাভাগির ঝামেলা।
রঘুনাথপুর ১ নম্বর ব্লকের বিডিও রবিশঙ্কর গুপ্তা বলেন, যে অভিযোগ করা হয়েছে তা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। সরকারের তরফ থেকে যে কাপড় সরবরাহ করা হয়, পোশাক তৈরির জন্য সেই কাপড়ই দেওয়া হয়।
সম্পর্কিত সংবাদ