Bartaman Logo
২৮ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

পুড়ছে চামড়া, ঘেমেনেয়ে একাকার পরিস্থিতি কলকাতায়, ‘ফিলস লাইক’ রাজস্থান

গরমে ছটফট করার মতো অবস্থা। রোদ যেন গায়ে ছেঁকা দিচ্ছে। চোখমুখ পুড়ে যাওয়ার মতো দশা। শহরের বাসিন্দাদের বক্তব্য, ‘যেন ফিলস লাইক রাজস্থান!’

পুড়ছে চামড়া, ঘেমেনেয়ে একাকার পরিস্থিতি কলকাতায়, ‘ফিলস লাইক’ রাজস্থান
  • ২০ মে, ২০২৬ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গরমে ছটফট করার মতো অবস্থা। রোদ যেন গায়ে ছেঁকা দিচ্ছে। চোখমুখ পুড়ে যাওয়ার মতো দশা। শহরের বাসিন্দাদের বক্তব্য, ‘যেন ফিলস লাইক রাজস্থান!’ তবে জ্বালা ধরানো গরম থাকলেও আবহাওয়া রাজস্থানের মতো মোটেও শুকনো নয়। ঘেমে নেয়ে যাওয়ার দশা সবার। গত কয়েকদিন ধরে কলকাতার তাপমাত্রা কার্যত অসহনীয় হয়ে উঠেছে। এরই মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়াজুড়ে ভাইরাল গরমের একাধিক মিম। বিভিন্ন সূত্রে থেকে জানা গিয়েছে, বর্তমানে তাপমাত্রা ফিলস লাইক ৫০ ডিগ্রি। সোমবার প্রায় এরকমই ছিল। বুধবারও একই থাকার সম্ভাবনা। 

Advertisement

দিনের বেলা অসহনীয় গরম। জ্বালা ধরানো রোদ্দুর। রাতেও শান্তি নেই। বিছানা পর্যন্ত গরম। শোওয়ার পর গায়ে পিঠে ছেঁকা লাগছে। দিনেরবেলার মতো প্রায় সমান তাপমাত্রা রাতেও যেন মালুম হচ্ছে। ভ্যাপসা গরমে প্রবল অস্বস্তি। রাতের ঘুমে ব্যাঘাত। ফলে বিশ্রামের ঘাটতি থেকে যাচ্ছে। কাহিল হয়ে পড়ছে মানুষ। তাপমাত্রার কারণে শরীরের অস্বস্তি কাটছেই না। দীর্ঘক্ষণ ঘর গরম থাকায় পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল না করায় রাতের অতিরিক্ত তাপমাত্রাও শরীরে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকরা। সকাল আটটার সময়ই রোদের তাপে গা যাচ্ছে পুড়ে। ভিড় ঠাসা ট্রেনে বা বাসে দরদর করে ঘামছে মানুষ। ‘ফের একদফা স্নান করলাম যেন,’ ট্রেন থেকে নেমে বললেন বারাসতের সৌম্যদীপ ঘোষাল। ডেলিভারির কাজের সঙ্গে যুক্ত বরানগরের বাসিন্দা রনি সেন বাড়ি থেকে বেরলেন মুখ ঢেকে। বলেন, ‘মাঝেমধ্যে চোখমুখ যেন পুড়ে যাচ্ছে। বাইক চালাই। আগুনের হলকা লাগছে বলে মনে হচ্ছে। তাই মুখ ঢেকে সানগ্লাস পরে কাজ করতে হচ্ছে। টি-শার্ট সঙ্গে আর্ম স্লিভস পরছি। না হলে রোদের তাপে হাত পুড়ে কালো হয়ে যাচ্ছে। গরম আরও বাড়লে সানস্ট্রোক হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা হবে বলে মনে হচ্ছে।’ মঙ্গলবার ভরদুপুরে চূড়ান্ত ব্যস্ত ধর্মতলা চত্বর। বেসরকারি বাসের টিকিট বুক করার ঘরগুলিতে লাইন। দাঁড়িয়ে চাঁদি ফাটছে যাত্রীদের। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুরে যাবেন বলে বাস ধরার জন্য দাঁড়িয়ে শর্মিষ্ঠা মণ্ডল। কোলে শিশু সন্তান। শাড়ির আঁচলে মুখ ঢেকে দিয়েছেন সন্তানের। বলেন, ‘এমন অসহ্য গরম যে আর পারা যাচ্ছে না। শরীর অতিরিক্ত জল চাইছে। বারবার জল খেয়েও তৃষ্ণা মিটছে না। এ যেন মরুভূমির মতো অবস্থা।’
পিচ গলা রোদ। তপ্ত মে মাস পুড়িয়ে দিচ্ছে শরীরের চামড়া। সবমিলিয়ে গরমের মধ্য গগনে চাতক পাখির মত বৃষ্টি চাইছে শহর। তবে আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, বৃষ্টির নিশ্চয়তা তেমন নেই। সম্ভাবনা ফিফটি ফিফটি। গরমের জেরে প্রায় সকলেই বাড়ির বাইরে বের হতে ভয় পাচ্ছেন। কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের তাপমাত্রা দিনের পর দিন দ্রুত বাড়ছে। অবস্থা আরও উষ্ণ হওয়ার সম্ভাবনা। আন্দামানে বর্ষা ঢুকে গিয়েছে। ফলে বাতাসে বেড়েছে আর্দ্রতার পরিমাণ। এর পাশাপাশি আংশিক মেঘলা থাকার কারণে ভ্যাপসা গরম গিয়েছে বেড়ে। সে কারণে অতিরিক্ত ঘামে ভিজে যাচ্ছে শরীর। সবমিলিয়ে ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা শহরের।  নিজস্ব চিত্র

সম্পর্কিত সংবাদ