


মিরাট: কলকাতার রবিনসন স্ট্রিট কাণ্ডের ছায়া উত্তরপ্রদেশের মিরাটে। মেয়ের মৃতদেহ বাড়িতেই চার মাসের বেশি আগলে রেখেছিলেন বৃদ্ধ বাবা। স্নেহের বশে করেননি শেষকৃত্য। দুর্গন্ধ ঢাকতে ছড়াতেন পারফিউম। গোটা বাড়ি ভরিয়ে রেখেছিলেন জঞ্জাল ও আবর্জনায়। পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার সদর বাজারের তেলি মহল্লার সেই বাড়ি থেকেই উদ্ধার হয়েছে প্রবাসী বাঙালি প্রিয়াঙ্কা বিশ্বাস (৩৫) নামে এক কম্পিউটার শিক্ষিকার কঙ্কাল। আদতে পশ্চিমবঙ্গের হলেও তাঁর বাবা উদয়ভানু বিশ্বাস বারাণসীতে উত্তরপ্রদেশ শিক্ষাদপ্তরের প্রশাসনিক কর্তা ছিলেন তিনি। ২০১০ সালে অবসরগ্রহণ করেন। পরে মিরাটের বসবাস শুরু করে বিশ্বাস পরিবার। মেয়ের মৃত্যুর খবর আত্মীয় ও প্রতিবেশীদের কাছে গোপন করে বাড়িতেই মাসের পর মাস আগলে রেখেছিলেন উদয়ভানু। তবে শুক্রবার আচমকাই কয়েকজন আত্মীয় বাড়িতে চলে আসেন। দুর্গন্ধের কারণে সন্দেহ হওয়ায় তাঁরাই পুলিশে খবর দিয়েছিলেন। শনিবার পুলিশ এসে একটি ঘরে খাটের উপর থেকে প্রয়াত প্রিয়াঙ্কার দেহ উদ্ধার করে। শুধু পা ছাড়া বাকি দেহটি কঙ্কালে পরিণত হয়েছিল। উদ্ধার হওয়া দেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে কলকাতার রবিনসন স্টিটের একটি বাড়ি থেকে দেবযানী নামে এক মহিলার কঙ্কাল উদ্ধার হয়েছিল। শেষকৃত্য না করে বোনের দেহ মাসের পর মাস আগলে রেখেছিলেন তাঁর দাদা পার্থ দে।
মিরাট পুলিশ জানিয়েছে, মৃত প্রিয়াঙ্কার বাবা উদয়ভানুকে থানায় নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে পুলিশ জানতে পেরেছে, বৃদ্ধের স্ত্রী শর্মিষ্ঠা বিশ্বাস ২০১৩ সালে আত্মঘাতী হয়েছিলেন। স্ত্রীর মৃত্যুর পর থেকেই মেয়ে প্রিয়াঙ্কাকে বিশেষ কারও সঙ্গে মিশতে দিতেন না উদয়ভানু। আত্মীয় পরিজনদের সঙ্গে দূরত্ব রেখে চলতেন। তাঁকে জেরা করে পুলিশ আরও জেনেছে, মেয়ের জন্ডিস হয়েছিল। সেজন্য ঝাড়ফুঁক করাতেন। ক্রমেই শারীরিক পরিস্থিতির অবনতি হতে থাকে। সম্ভবত গত ১ ডিসেম্বর প্রিয়াঙ্কার মৃত্যু হয়। মেয়ের দেহ বাড়িতে আগলে রেখে পারফিউম ছড়িয়ে দিতেন ওই বৃদ্ধ। এরপর গোটা বাড়িতে জঞ্জাল ভর্তি করে কিছুদিন পর দেরাদুনে চলে যান তিনি। ফোনে এক আত্মীয়কে জানান, তাঁরা দু’জনেই দেরাদুনে রয়েছেন। সম্প্রতি ফের মিরাটে ফেরায় ওই আত্মীয়ের চোখ পড়ে যান উদয়ভানু। সেই আত্মীয়ই খোঁজখবর নিতে আচমকা বৃদ্ধের বাড়িতে পৌঁছে যান। দুর্গন্ধের কারণে সন্দেহ তাঁর। পরে দেখতে পান, একটি ঘরে খাটের উপর প্রিয়াঙ্কার কঙ্কাল পড়ে রয়েছে। পুলিশে খবর দেন তিনি। পুলিশ এসে দেহ উদ্ধার করে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।