রাহুল চক্রবর্তী, কলকাতা: বাংলা তথা দেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে আলোড়ন ঘটে চলতি বছরের ১৪ জুন। সেদিনই আম জনতা জানতে পারে, ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অব ইন্ডিয়া বা এনসিপিআই নামে একটি দল রয়েছে! কারণ, ওই দিনই ২০জন বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদের নতুন ঠিকানা হয় রাজনীতির ময়দানে অস্তিত্বহীন এই রাজনৈতিক দলে। তারপর গঙ্গা দিয়ে অনেক জল গড়িয়েছে। দেদার তর্ক, আলোচনা, বিশ্লেষণ, চর্চা চলছে প্রতিদিন। কিন্তু এনসিপিআই নামক যে দলের নাম প্রথমবার সামনে এনেছিলেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদারসহ ২০ জন সংসদ, সেই দলের রাজ্য সদর দপ্তরে গত দু’মাসে এক মিনিটের জন্যও পা রাখেননি তাঁরা। এনসিপিআই তৈরির কাণ্ডারী উত্তীয় কুণ্ডু ও শিউলি কুণ্ডু এমনটাই বলছেন। যা দেখে বিরোধীরা বলছে, ওই ২০ জন সাংসদ আসলে নিজেরাই সন্দিহান এনসিপিআই নামক দলটির ভবিষ্যৎ নিয়ে!
এই দলের সদর দপ্তর রয়েছে হাওড়ার সাঁকরাইলে। তৃণমূলের বিদ্রোহীরা এনসিপিআইতে শামিল হওয়ার পর দিন অর্থাৎ ১৫ জুন হাওড়া ওই সদর দপ্তরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদেরও পাহারায় দেখা গিয়েছিল। কিন্তু যে দলে সুদীপ, কাকলিসহ শতাব্দী রায়, মালা রায়ের মতো তাবড় সাংসদরা যোগ দিলেন, তাঁরা একটি দিন এক মিনিটের জন্যও কেন রাজ্য সদর দপ্তরে এলেন না? এনসিপিআই দলের প্রাণপুরুষ উত্তীয় কুণ্ডু বলেন, ‘দল প্রতিষ্ঠার পর আমি কার্যকরী সভাপতি পদে ছিলাম। তারপর কমিটি ভেঙে গিয়ে নতুন কমিটি তৈরি হয়েছে। আমি এখন সাধারণ সম্পাদক পদে। হাওড়ায় আমাদের সদর দপ্তর। এছাড়াও দমদম স্টেশনের পাশে আমাদের আরও একটি কলকাতা কেন্দ্রিক কার্যালয় রয়েছে। হাওড়ার সদর দপ্তর হোক বা দমদমের কার্যালয়, তৃণমূল ত্যাগ করে আমাদের দলে আসা ২০জন সাংসদের একজনও একবারের জন্য আসেননি। তাঁরা কেন আসেননি, সেটা তাঁরাই বলতে পারবেন।’ তিনি আরও জানান, ২০ জন সাংসদের মধ্যে মাত্র দু’জন এক-দু’বার তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। বাকিরা কোনো যোগাযগে করেননি।
বিস্ফোরক তথ্য আরও রয়েছে! শিউলি কুণ্ডু বলেন, ‘দলের সভাপতি পদে আমি ছিলাম। আমি ইস্তফা দেওয়ার পর কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠক ডেকে জ্যোতিপ্রকাশ চট্টোপাধ্যায়ের নাম সভাপতি পদে মনোনীত করা হয়। বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি পাঠানো হয়েছে।’ তাহলে কি সুদীপ, কাকলিদের মধ্যে কেউ আর এনসিপিআই দলের সভাপতি পদে থাকতে পারছেন না? কয়েকদিনের মধ্যে উত্তীয়বাবু দিল্লি যাচ্ছেন। নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে তাঁর। কেন তাঁরা নিজেদের দলের পার্টি অফিসে যাচ্ছেন না, সেই উত্তর জানার জন্য কাকলি ঘোষদস্তিদারকে ফোন করা হয়েছিল। ফোন তোলেননি।