Bartaman Logo
৬ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

প্রতিবন্ধকতার সঙ্গে লড়াই করে মাধ্যমিকে বসতে চলেছে নবদ্বীপের ৬ দৃষ্টিহীন পড়ুয়া

এবার মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসতে চলেছে নবদ্বীপ এপিসি ব্লাইন্ড স্কুলের ছ’জন দৃষ্টিহীন পড়ুয়া। অদম্য জেদ, কঠিন প্রতিবন্ধকতার সঙ্গে লড়াই করে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়াই তাদের লক্ষ্য।

প্রতিবন্ধকতার সঙ্গে লড়াই করে মাধ্যমিকে বসতে চলেছে নবদ্বীপের ৬ দৃষ্টিহীন পড়ুয়া
  • ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সমীর সাহা, নবদ্বীপ: এবার মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসতে চলেছে নবদ্বীপ এপিসি ব্লাইন্ড স্কুলের ছ’জন দৃষ্টিহীন পড়ুয়া। অদম্য জেদ, কঠিন প্রতিবন্ধকতার সঙ্গে লড়াই করে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়াই তাদের লক্ষ্য। তাই এখন শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত রৌণক, রাহুল, রাজদীপ, প্রিয়াঙ্কা, আশানুর ও মহম্মদ রাইফ। তারা প্রত্যেকেই এই স্কুলের হস্টেলে থেকে পড়াশোনা করে। কৃষ্ণনগর সদর মহকুমা শাসক তথা ওই স্কুলের পরিচালন সমিতির সভাপতি শারদ্বতী চৌধুরী বলেন, আমি জানি, ওরা খুব মেধাবী। ওদের সাফল্য কামনা করি। আমরা ওই পড়ুয়াদের পাশে আছি।

Advertisement

ছয় পড়ুয়ার মধ্যে রৌণক কাশেরের বাড়ি আলিপুরদুয়ারে। তার বাবা পেশায় চা শ্রমিক। খুবই দুঃস্থ পরিবার। মহম্মদ রাইফের বাড়ি মুর্শিদাবাদে। বাবা পেশায় পার্শ্বশিক্ষক। রাইফের এক দাদা ও এক দিদি আছে। দাদা এবার উচ্চমাধ্যমিক দেবে। দিদি রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাসের প্রথম বর্ষের ছাত্রী।

রাহুল ঘোষের বাড়ি নদীয়ার ধুবুলিয়ায়। পড়াশোনার পাশাপাশি সে ফুটবল ও ক্রিকেটেও ভালো। তার বাবা দিনমজুরি করে সংসার চালান। স্কুল ছুটি থাকলে দু’টো পয়সার জন্য রাহুলও বেশ কয়েক জায়গায় কাজ করে। তেহট্টের আশানুর খাতুন, মালদহের প্রিয়াঙ্কা দাসের বাবাও দিনমজুর। প্রিয়াঙ্কা গানে অসাধারণ পারদর্শিনী। পূর্ব বর্ধমানের সমুদ্রগড়ের রাজদীপ বসাক আইআইটি পড়তে চায়। তার চোখে অবশ্য ক্ষীণ দৃষ্টি আছে। সেই দৃষ্টি নিয়েই বাড়িতে বসে বৈদ্যুতিন সামগ্রীর কাজ করে। ইতিমধ্যে নিজের হাতে রিমোট কন্ট্রোল তৈরি করে ঘরের আলো, পাখা অপারেট করতে শিখেছে সে।

পরীক্ষার আর দেরি নেই। তাই এখন জোরকদমে পড়াশোনা করছে পড়ুয়ারা। ইতিমধ্যে রাইটারদের সঙ্গে পরিচয়পর্ব সেরে নেওয়া হয়েছে। ছেলেদের পরীক্ষার সিট পড়েছে আরসিবি সারস্বত মন্দির বিদ্যালয়ে। নবদ্বীপ বালিকা বিদ্যালয়ে মেয়েদের সিট পড়েছে।

নবদ্বীপ এপিসি ব্লাইন্ড স্কুলের প্রধান শিক্ষক বাসুদেব চট্টোপাধ্যায় বলেন, পড়ুয়ারা এখানে আবাসিক থেকে ব্রেইল পদ্ধতিতে পড়াশোনা করে। স্কুল থেকে নবম ও দশম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের রেকর্ডিং যন্ত্র দেওয়া হয়। কাছাকাছি কোনও দৃষ্টিহীন বিদ্যালয় থাকলে মাধ্যমিক পাশের পর ওরা সেখানে একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ার সুযোগ পেত।

এপিসি ব্লাইন্ড স্কুলে প্রাক-প্রাথমিক থেকে দশম শ্রেণি অবধি ৫২জন ছাত্রছাত্রী রয়েছে। আগে শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী মিলিয়ে ১৯জন ছিলেন। এখন মাত্র ন’জন রয়েছেন। তবে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের অনেকেই স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের বিনা পারিশ্রমিকে পড়িয়ে চলেছেন। জেলা জনশিক্ষা আধিকারিক পিউ হালদার বলেন, এটি নদীয়ায় বিশেষভাবে সক্ষমদের জন্য একমাত্র সরকারপোষিত আবাসিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়। এবছর এখান থেকে দু’জন ছাত্রী ও চারজন ছাত্র মাধ্যমিক পরীক্ষা দিচ্ছে। আশা করছি, ওরা পরীক্ষায় ভালো ফল করবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ