


শ্রীকান্ত পড়্যা, খেজুরি: বুধবার কেক কেটে, রঙিন কাগজের টুকরো উড়িয়ে ঘটা করে খেজুরির কামারদা বাজারে বিজেপির বিধানসভা নির্বাচনি কার্যালয়ের উদ্বোধন হয়। শুক্রবার সকালে সেই কার্যালয়ে শ্মশানের নীরবতা। অফিসের ভিতর টেবিলের উপর রাখা দু’দিনের বাসি ফুলের তোড়া। সারি সারি গেরুয়া রঙের ফাঁকা চেয়ার। অফিসে জনপ্রাণী নেই। বৃহস্পতিবার বিকালে খেজুরি বিধানসভার বিজেপির প্রার্থী ঘোষণার পর এভাবেই নির্বাচনি কার্যালয়ের ছবিটা বদলে গিয়েছে। বাড়ির মালিক অলোককুমার সামন্ত নিজেও বিজেপি কর্মী। তিনি কামারদা কৃষি সমবায় উন্নয়ন সমিতির সভাপতি। অলোকবাবু বলেন, ‘রাতারাতি ছবিটা এভাবে বদলে যাবে ভাবতেও পারিনি। অফিস উদ্বোধনের দিন সুব্রত পাইক উপস্থিত ছিলেন। রাত পোহালে তিনিই খেজুরি বিধানসভার প্রার্থী হতে চলেছেন এমনটা কেউই আঁচ করতে পারেননি।’
খেজুরির বিধায়ক শান্তনু প্রামাণিক এবারও নিজের বিধানসভা থেকে প্রার্থী হচ্ছেন বলে নেতা-কর্মীদের প্রায় সকলেই নিশ্চিত ছিলেন। কিন্তু, গত সোমবার দলের প্রথম দফার প্রার্থী লিস্ট প্রকাশের পর একটু খটকা লেগেছিল। সেদিন খেজুরি ও ভগবানপুরের প্রার্থীর নাম ঝুলিয়ে রেখেছিল বিজেপি। প্রথম দফায় নিজেদের বিধানসভায় প্রার্থী ঘোষণা না হওয়ার কারণ নিয়ে জল্পনা চলছিল। বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দফার প্রার্থী ঘোষণার পর একেবারে লঙ্কাকাণ্ড অবস্থা। শান্তনুকে পাশের বিধানসভা ভগবানপুরের প্রার্থী করা হয়েছে। আর, ভগবানপুরের বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ মাইতি এবার টিকিট পেলেন না।
শান্তনু খেজুরি বিধানসভায় প্রার্থী না হওয়ায় অনেক নেতা-কর্মী হতাশ। সদ্য চালু হওয়া কামারদা বাজারে বিজেপির নির্বাচনি কার্যালয়ের ছবিটা যেন নেতা-কর্মীদের হতাশার প্রতীক। ফসল খামারে ওঠার মুহূর্তে কালবৈশাখীতে চাষির যেমন অবস্থা হয়, খেজুরিতে বিজেপি কর্মীদের অবস্থাটাও অনেকটা সেরকমই। দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ খেজুরি বিধানসভার ইন-চার্জ বিজেপি নেতা সাহেব দাস ওই নির্বাচনি কার্যালয়ে যান। তিনি দ্বিতীয় কোনো নেতা-কর্মীর দেখা পাননি। বিষয়টি নিয়ে কাঁথিতে রিপোর্ট করেন। তারপরই শুক্রবার বিকাল ৫টায় কাঁথিতে খেজুরি বিধানসভার নেতৃত্বকে ডেকে পাঠানো হয়। প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিজে খেজুরি বিধানসভার ইন-চার্জ, বিধানসভার কনভেনর তপন মাইতি, সকল মণ্ডল সভাপতি, জেলা নেতৃত্বকে একযোগে চলতে হবে বলে কড়া নির্দেশ দেন। এখন সেই ডোজ কতটা কাজ করবে, সেটা ৪মে জানা যাবে। তবে, প্রার্থী নিয়ে যে ঝড় উঠেছে তা সহজে থামবে বলে মনে হয় না। খেজুরি বিধানভার বিজেপির কনভেনার তপন মাইতি বলেন, প্রার্থী নিয়ে বিক্ষিপ্তভাবে ক্ষোভবিক্ষোভ আছে। দ্রুত এটা মিটিয়ে ফেলার চেষ্টা চলছে।খেজুরি বিধানসভায় এবার সিপিএমের প্রার্থী হয়েছেন হিমাংশু দাস। তিনি প্রার্থী হওয়ায় বিজেপি বেশ চাপে। কারণ, বামের ভোট রামে যাওয়ার সম্ভাবনা কমবে। তিনি দীর্ঘসময় ধরে খেজুরি সিপিএমের চালিকা শক্তি। বৃহস্পতিবার প্রার্থী ঘোষণার পর তাঁকে নিয়ে দলের নেতা-কর্মীরা মিছিল বের করেন। দীর্ঘ সময় ধরে খেজুরির কর্মীদের কাছে ক্যাপ্টেন হিসেবে ভূমিকা নিয়েছেন দাপুটে হিমাংশু। ছন্নছাড়া অবস্থায় থাকা সিপিএম নেতা-কর্মীরা তাঁকে সামনে পেয়ে আবারও জোটবদ্ধ হচ্ছেন। বাঁশগোড়ার প্রবোধকুমার মাইতি বাম জমানায় সিপিএমের কলাগেছিয়া লোকাল কমিটির সদস্য ছিলেন। পালাবদলের পর তাঁকে বাঁশগোড়া বাজারে রাস্তার উপর ল্যাম্প পোস্টে বেঁধে নৃশংস পেটানো হয়েছিল। আড়াই লক্ষ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। কামারদা অঞ্চলের ট্যাক্স আদায়কারী ৭৬বছরের প্রবোধবাবু বলেন, হিমাংশুবাবুর নাম ঘোষণার পর বাড়ি বাড়ি যাওয়া শুরু করেছি। এবার আমরা দারুণ লড়াই দেব বলে আশা করছি।-নিজস্ব চিত্র