নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: তারাতালায় গত ২৪ জুন নির্মীয়মান তিনতলা গোডাউন ভেঙে ১৬ জন শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় চার্জশিট পেশ করল কলকাতা পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল বা ‘সিট’। ঠিক ৮৭ দিনের মাথায়, আলিপুর আদালতে এই চার্জশিট পেশ করল লালবাজারের বাছাই করা গোয়েন্দাদের টিম। কলকাতা পুলিশের এক সূত্র জানাচ্ছে, প্রায় ২ হাজার পাতার এই চার্জশিটে ৭ জনের বিরুদ্ধে ১০৫ (অনিচ্ছাকৃত খুন), ১১০ (অনিচ্ছাকৃত খুনের চেষ্টা) এবং ৩ (৫) (সমবেত অপরাধ) মতো ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে অভিযুক্তদের মধ্যে আসগর হোসেন নিজেই এই দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছে।
এই চার্জশিটে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞদের রিপোর্ট সংযোজন করা হয়েছে। ওই রিপোর্টে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, মূলত প্ল্যানের ত্রুটি, স্ট্র্যাকচারাল ত্রুটির পাশাপাশি নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের জেরেই এতবড় বিপর্যয়। চার্জশিটে সাক্ষী তালিকায় ৮০ জনের নাম রয়েছে। গোপন জবানবন্দি রয়েছে ২জনের। তবে ফরেন্সিক রিপোর্ট এখনও হাতে আসেনি লালবাজারের। তাই আগামী দিনে সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট পেশের রাস্তা খোলা রাখা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এই তারাতলা বিপর্যয়ের তদন্তে কলকাতার পুলিশ কমিশনার বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠন করেন। তদন্তে নেমে একে একে মোট ৭ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে সিট। এই দুর্ঘটনার তদন্তে সর্বশেষ গ্রেপ্তার হয়েছেন কলকাতা পুরসভার সাব অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার আমিনুর শেখ। তাঁকে ১২ সেপ্টেম্বর বাঁশদ্রোণীর বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর আগে এই ঘটনায় কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন মেয়রের অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি তথা ডব্লুবিসিএস অফিসার কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ধৃতদের সবাই এখনও বিচার বিভাগীয় হেপাজতে রয়েছে। লালবাজার ধৃতদের সবাইকে হেপাজতে রেখে বিচার প্রক্রিয়া চালাতে চাইছে। যাতে এই বিপর্যয়ের ঘটনায় জড়িত সকল কুশীলবদের শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।