


নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: দ্বারকেশ্বর নদে স্নান করতে নেমে জলে তলিয়ে গিয়ে মৃত্যু হল দিদি ও ভাইয়ের। বৃহস্পতিবার সকালে গোঘাটের স্যাকাটি এলাকার ওই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে আসে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদের নাম সৌমিতা হেমব্রম(১২) ও কৃষ্ণেন্দু হেমব্রম (১০)। তারা সম্পর্কে দিদি ও ভাই। ছোটো থেকেই তারা মামার বাড়ি স্যাকাটিতেই থাকছিল। তাদের আদি বাড়ি বাঁকুড়া জেলার সোনামুখী থানা এলাকায়। স্যাকাটিতে মামা ও দিদার পরিবারেই থাকত।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, সৌমিতা ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী। কৃষ্ণেন্দু স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণিতে পড়াশোনা করত। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত মঙ্গলবার গ্রামে তাদের পুজো ছিল। সেই উপলক্ষ্যে অনেকের বাড়িতেই আত্মীয় স্বজনরা এসেছিলেন। এদিন সকালে কম বয়সি ছেলে-মেয়েদের সঙ্গে গ্রামের কাছে দ্বারকেশ্বর নদে স্নান করতে গিয়েছিল সৌমিতা ও কৃষ্ণেন্দু। নদীর জলে নামার কিছুক্ষণের মধ্যেই তারা তলিয়ে যায়। তারা একে অপরকে বাঁচানোর চেষ্টাও করেছিল। কিন্তু, শেষ রক্ষা হয়নি বলে জানা গিয়েছে। গভীর জলে তারা তলিয়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা খবর পেয়ে এসে নদীতে নেমে তল্লাশি চালান। বেশ কিছুক্ষণ ধরে খোঁজাখুঁজির পর অবশেষে তাদের উদ্ধার করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। গোঘাট ব্লক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন। পুলিশ দু’জনের মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য আরামবাগ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
মৃতদের এক আত্মীয়া বলেন, দুই সন্তানকে হারিয়ে ওদের মায়ের মুখের দিকে তাকানো যাচ্ছে না। ওরা নদীতে স্নান করতে যেত না। গ্রামে পুজো উপলক্ষ্যে অন্যান্য ১০-১২ জন ছেলে-মেয়ের সঙ্গে ওরাও গিয়েছিল। এমন ঘটনা ঘটবে আমরা ভাবতেও পারছি না।
স্থানীয় বাসিন্দা বিজয় সোরেন বলেন, সকাল সাড়ে ৮টা নাগাদ ওরা নদীতে গিয়েছিল। জলে নেমে স্নান করার সময় সাঁতার কাটছিল। একটু দূরে যেতেই নদীর গভীরতায় চলে যায়। সেখানেই তারা তলিয়ে যায়। আমরা খবর পেয়ে জলে নেমে প্রথমে সৌমিতা ও পরে কৃষ্ণেন্দুকে উদ্ধার করতে পারি। হাসপাতালে নিয়ে গেল চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন।