


শ্রীকান্ত পড়্যা, কাঁথি: ‘গত পাঁচ বছর ছেলে অনেক লড়াই করেছে। নিজে মৃত্যুর হাত থেকে ফিরে এসেছে। তাই আমি আজ খুব আনন্দিত। আমার মনে হয়, আজ বাংলার মানুষ আরও বেশি খুশি।’ শনিবার কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড ময়দানে ছেলে শুভেন্দু অধিকারী যখন মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিচ্ছেন, তখন কাঁথির শান্তিকুঞ্জের বাড়িতে বসে তাঁর মা গায়ত্রীদেবীর মুখে ছেলের লড়াইয়ের মুহূর্তগুলি ভাসছিল। ছেলে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ায় ভীষণ খুশি গায়ত্রীদেবী। মুখ্যমন্ত্রী ছেলের প্রতি মা কিছু পরামর্শও রেখেছেন। তিনি বলেন, ‘ওকে অভয়ার কেসটা দেখতে হবে। আরও যারা জড়িত, তাদের যাতে সাজা হয়, নিশ্চিত করতে হবে। বেকারত্ব আছে। সেই সমস্যার সমাধান করা দরকার। নারী নিরাপত্তার বিষয়েও জোর দিতে হবে। গরিব মানুষজন প্রত্যেকে যাতে বাড়ি পায়, সেটাও দেখতে বলব।’
নিজেকে ‘রত্নগর্ভা’ বলতে গর্ববোধ করেন গায়ত্রীদেবী। চার ছেলের মধ্যে শুভেন্দু মেজো। পাড়ায় তিনি বুবাই নামে পরিচিত। এদিন বুবাইয়ের শপথ নেওয়ার মুহূর্তে শুধু কাঁথি নয়, পূর্ব মেদিনীপুর জেলাজুড়ে সেলিব্রেশনের ছবি ধরা পড়েছে। টিভির পর্দায় শপথগ্রহণ দেখে কোথাও শঙ্খধ্বনি, আবার কোথাও লাড্ডু বিলি হয়। সস্ত্রীক দিব্যেন্দু অধিকারী ও সস্ত্রীক সৌমেন্দু অধিকারী শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন। বাড়িতে ছিলেন শিশিরবাবু এবং গায়ত্রীদেবী। মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথগ্রহণের দিনে শুভেন্দুবাবুকে নিয়ে মায়ের কথায় নানা ঘরোয়া বিষয় উঠে আসে। তিনি বলেন, ‘শুভেন্দুর মতো ছেলে লাখে একটা হয়। শরীরে একটু কিছু সমস্যা হলেই সোজা কলকাতার হাসপাতাল নিয়ে যায়। ওর বাবা কঠিন লড়াই করেছে। তাঁকে দেখেই ছেলেরা শিখেছে।’
এদিন বাড়িতে টিভির পর্দায় চোখ রেখেছিলেন প্রবীণ রাজনীতিবিদ শিশিরবাবুও। বারবার তাঁর চোখের সামনে প্রয়াত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অজয় মুখোপাধ্যায়ের চোখের জলের ছবিটা ভেসে আসছিল। তিনবার স্বল্প মেয়াদে মুখ্যমন্ত্রীর পদ অলঙ্কৃত করেছেন অজয় মুখোপাধ্যায়। ১৯৭২ সালে তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী করার প্রতিশ্রুতি দিয়েও ঠকানো হয়েছিল বলে এদিন শিশিরবাবু মন্তব্য করেন। ৫৪ বছর পর তার শাপমুক্তি হল বলে মনে করেন শিশিরবাবু।
এদিন শিশিরবাবু বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী মোদিজির কাছে বাংলার উন্নয়নের প্রস্তাব নিয়ে যেতে হবে। এ রাজ্যের যুবকদের যাতে উন্নতি হয়, সেদিকে নজর দিতে হবে। নন্দীগ্রামের আন্দোলন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। সেই লড়াই আমরা করেছিলাম। তাতে শুভেন্দু নেতৃত্ব দিয়েছে। তাকে বারেবারে ধাক্কা দিয়ে পিছিয়ে দেওয়ার একটা কৌশল চলছিল। যদিও তা সফল হয়নি। মেদিনীপুরের পান্তাভাত খাওয়া ছেলে জয়লাভ করেছে। মেদিনীপুরের মাটি থেকে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার মধ্য দিয়ে কলকাতায় ন্যূনতম স্বীকৃতি পেল মেদিনীপুর। কলকাতার মানুষকে প্রণাম, শ্রদ্ধা ও নমস্কার জানাই। পরিবারের পক্ষ থেকে সকলকে ধন্যবাদ জানাই।’
কাঁথির অধিকারী পরিবার দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল কংগ্রেস করেছে। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ‘অভিভাবক’ ছিল এই পরিবার। শান্তিকুঞ্জের সদস্যরা জোড়াফুলের টিকিটে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, রাজ্যের মন্ত্রী, সাংসদ, বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছেন। শনিবার শিশিরবাবু বলেন, ‘তৃণমূল কংগ্রেস করে আমরা মস্ত বড়ো ভুল করেছি। গলায় গামছা দিয়ে ভুল স্বীকার করছি।’ -নিজস্ব চিত্র