এসআইআর: পরিবারের নাম ট্রাইব্যুনালে থাকলে কী হবে? ধোঁয়াশা
  • ১৫ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: এসআইআরের জেরে নদীয়ায় ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া প্রায় ৬০ হাজার ভোটারের সামনে ফের নাম তোলার সুযোগ এসেছে। নির্বাচন কমিশনের নতুন নির্দেশিকায় স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, তালিকা থেকে বাদ পড়া ভোটাররা ফর্ম-৬ পূরণ করে নতুন করে নাম নথিভুক্ত করার আবেদন করতে পারবেন। কিন্তু আবেদনকারীর পরিবারের কোনো সদস্যের নাম যদি এখনও ট্রাইব্যুনালে বা বিচারাধীন অবস্থায় থাকে, সেক্ষেত্রে ওই পরিবারের সদস্য নতুন করে ফর্ম-৬ দিয়ে আবেদন করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে নির্দেশিকায় স্পষ্ট কোনো উল্লেখ নেই। ফলে স্বস্তির পাশাপাশি তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।

Advertisement

প্রশাসনের এক আধিকারিকের কথায়, ‘যাঁরা নতুন ভোটার এবং যাঁরা লেফট-আউট ভোটার, তাঁরা সকলেই ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য ছ’ নম্বর ফর্মে আবেদন করতে পারবেন।’
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের আগে এসআইআরপর্বে নদীয়ায় মৃত, স্থানান্তরিত, অনুপস্থিতসহ বিভিন্ন কারণে প্রায় ২ লক্ষ ১৬ হাজার ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল। পরে প্রকৃত ভোটারের একাংশেরনামও তালিকা থেকে বাদ পড়ে যায় বলে অভিযোগ ওঠে। বাকিদের প্রথমে ‘আনম্যাপড’ এবং পরবর্তীতে ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’-র আওতায় নোটিস দিয়ে শুনানিতে ডাকা হয়। দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হলেও জেলার কয়েক লক্ষ ভোটারকে ‘ডিলিটেড’ এবং ‘বিচারাধীন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৬০ হাজার ভোটারের নাম প্রয়োজনীয় নথি দেখাতে না পারার কারণে ‘অবৈধ ভোটার’ হিসেবে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। এবার সেই বাদ পড়া ভোটারদের জন্যই নতুন করে সুযোগ তৈরি করল কমিশন। ১ অক্টোবরের নির্দেশিকায় কমিশন জানিয়েছে, এসআইআরের আগে ভোটার তালিকায় নাম থাকা, কিন্তু বর্তমানে তালিকায় নেই, এমন ভোটারদের বিএলওরা চিহ্নিত করবেন। এরপর বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাঁদের বর্তমান অবস্থা যাচাই করা হবে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যোগ্য হলে তাঁর মাধ্যমে ফর্ম-৬ পূরণ করিয়ে ভোটার তালিকায় নাম নথিভুক্ত করার ব্যবস্থা করা হবে। একইসঙ্গে বাড়ি বাড়ি পরিদর্শনের সময় বাদ পড়া, প্রথমবারের এবং তরুণ ভোটারদেরও ফর্ম-৬ পূরণের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে এখানেই প্রশ্ন উঠছে,নদীয়ার প্রায় ৬০ হাজার ভোটারকে ঘিরে। যাঁদের পরিবারের অন্য কোনো সদস্যের নাম এখনও ট্রাইব্যুনালে বা বিচারাধীন প্রক্রিয়ায় রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে নতুন করে ফর্ম-৬ জমা দেওয়ার কী নিয়ম হবে, তা কমিশনের নতুন নির্দেশিকায় স্পষ্ট করা হয়নি। ফলে একই পরিবারের একজনের নাম বাদ পড়ার পর অন্য সদস্য নতুন করে ভোটার তালিকায় নাম তোলার আবেদন করলে ওই পরিবারের সদস্যের বিচারাধীন অবস্থার কোনো প্রভাব পড়বে কি না, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে, ২৯ সেপ্টেম্বরের নির্দেশিকায় কমিশন জানিয়েছিল, ‘আনম্যাপড’ বা ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’-র কারণে নোটিস পাওয়া ব্যক্তিদের থেকে বিএলওরা বাড়ি গিয়ে নথি সংগ্রহ করে পোর্টালে আপলোড করবেন। সাধারণভাবে তাঁদের দপ্তরে শুনানির জন্য ডাকতে হবে না। তবে ব্যতিক্রমী ক্ষেত্রে ইআরও কিংবা এইআরওর সিদ্ধান্তে অনলাইনে শুনানি হতে পারে।