প্রথম সাক্ষাতের অভিজ্ঞতা খুব ‘মধুর’ ছিল না। চিত্রনাট্যের বহু জায়গায় পরিবর্তন করছিলেন সুচিত্রা সেন। বিষয়টি ভালো লাগেনি গুলজারের। তাই খানিক ইতস্তত করেই ‘আঁধি’র চিত্রনাট্য নিয়ে বালিগঞ্জ সার্কুলার রোডে পৌঁছলেন তিনি। সঙ্গে প্রযোজক জে ওমপ্রকাশ। কিন্তু মিসেস সেনের সঙ্গে দেখা হওয়া মাত্র তিনি বললেন, ‘আমি কোনও প্রশ্ন করব না। আপনি যা বলবেন, মেনে নেব।’ মহানায়িকার মুখে এমন কথা শুনে লজ্জা পেয়েছিলেন গুলজার সাহেব। চিত্রনাট্য শোনার পর এক কথায় রাজি হয়ে গেলেন সুচিত্রা সেন। খানিক হেসে পরিচালক গুলজার বললেন, ‘আপনি এই ছবিতে বিশেষ মডিফিকেশন করার সুযোগ পাবেন না। কারণ ছবিতে চরিত্রের সংখ্যা অত্যন্ত কম। আর মহিলা চরিত্র মাত্র একটি।’ কয়েকদিন পর থেকে শুরু হল শ্যুটিং। তবে শুরুতেই বিপাকে পড়লেন পরিচালক। কারণ সুচিত্রা সেনের ‘স্যর’ সম্বোধন। সকলের সামনে গুলজারকে ‘স্যর’ বলে ডাকতেন তিনি। সকলের সামনে সুচিত্রা সেনের থেকে এমন ‘স্যর’ সম্বোধন শুনে লজ্জা পেতেন গুলজার। তিনি বললেন, ‘আপনি আমার থেকে বয়সে বড়। আপনি স্যর কেন বলছেন?’ পাল্টা জবাব দিলেন মহানায়িকা। বললেন, ‘আপনি আমার ডিরেক্টর। তাই স্যর।’ এরপর পরিচালকও একটি সিদ্ধান্ত নিলেন। বললেন, ‘আপনি যদি আমাকে স্যর বলেন, তাহলে আমিও আপনাকে স্যর বলে ডাকব।’ এরপর থেকে গুলজার সাহেব ‘স্যর’ বলেই ডাকতেন সুচিত্রা সেনকে। শুধু তিনি নন, শ্যুটিং ইউনিটের সমস্ত সদস্যরাও তাঁকে ‘স্যর’ বলে ডাকা শুরু করলেন। শেষ দিন পর্যন্ত গুলজার সাহেব ‘স্যর’ বলেই ডাকতেন সুচিত্রা সেনকে।



