Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

‘এসআইআর বিজেপির স্ক্যাম’, কমিশনের সঙ্গে আঁতাত করেই বাংলায় হয়রানি, তোপ মমতার

‘এসআইআর হল একটি বড় স্ক্যাম! একদিন না একদিন তা প্রমাণ হবে। আমরা তার জন্য অপেক্ষা করছি।’ শনিবার পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশিয়াড়ির কুসুমপুর মাঠের নির্বাচনি সভা থেকে এই ভাষাতেই বিজেপি-নির্বাচন আঁতাতকে তীব্র আক্রমণ করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

‘এসআইআর বিজেপির স্ক্যাম’, কমিশনের সঙ্গে আঁতাত করেই বাংলায় হয়রানি, তোপ মমতার
  • ১২ এপ্রিল, ২০২৬ ০৯:০৪
Prefer us on Google

রঞ্জুগোপাল মুখোপাধ্যায়, প্রদীপ্ত দত্ত, সৌম্যকান্তি ত্রিপাঠী: বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম ও বেলদা: ‘এসআইআর হল একটি বড় স্ক্যাম! একদিন না একদিন তা প্রমাণ হবে। আমরা তার জন্য অপেক্ষা করছি।’ শনিবার পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশিয়াড়ির কুসুমপুর মাঠের নির্বাচনি সভা থেকে এই ভাষাতেই বিজেপি-নির্বাচন আঁতাতকে তীব্র আক্রমণ করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সাফ কথা, ওদের আঁতাতের জন্যই সাধারণ মানুষের এত হয়রানি। আর সেই ইস্যু সামনে এনে তৃণমূল সুপ্রিমোর হুঁশিয়ারি—‘অনেক দেখেছি, আর নয়। এনাফ ইজ এনাফ! দিল্লি আমাদের বাংলাকে টার্গেট করেছে। বাংলায় জিতে দিল্লি থেকে বিজেপিকে হটানোর সংকল্পই হবে ওদের পালটা জবাব।’

Advertisement

শুধু কেশিয়াড়ি নয়, এদিন ঝাড়গ্রাম ও বাঁকুড়ার বড়জোড়াতেও জনসভা করেন মমতা। তিনটি সভা থেকেই চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ করেন বিজেপিকে। গেরুয়া শিবির এবার ভোটে কী কায়দায় কারচুপি করবে, তা নিয়ে সতর্ক করেছেন সাধারণ মানুষকে। সেই সঙ্গে ভোটের মরশুমে হঠাৎ কেন্দ্রীয় এজেন্সির তৎপরতা নিয়ে তোপ দেগে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দিল্লি থেকে এক মোটা ভাই বাংলায় এসেছে। সঙ্গে করে ইডিকে এনেছে। বেছে বেছে তৃণমূল নেতাদের নোটিস পাঠানো হচ্ছে। আমার মনোনয়নপত্রকে চ্যালেঞ্জ করছে। আমি যাতে ভোটে লড়তে না পারি তার জন্য চেষ্টা করছে। আমাকে ওদের এত ভয়! ভোটের দিন বুথে যেতে কেউ বাধা দিলে ঝাড়ু দিয়ে সরিয়ে দেবেন। ধামসা মাদল বাজিয়ে ভোট দেবেন। কাউন্টিংয়ের দিনও সতর্ক থাকতে হবে। ওরা স্লো-কাউন্টিং করবে। প্রথমে নিজেদের জেতা জায়গাগুলোর ইভিএম গণনা করবে। তা দেখে তৃণমূল কর্মীরা হারছে ভেবে গণনাকেন্দ্র থেকে চলে গেলেই কারচুপি শুরু করে দেবে। লোডশেডিং করেও ভোটে জিততে পারে। ফলে আমাদের সজাগ থাকতে হবে।’ 
মুখ্যমন্ত্রী সবথেকে বেশি সরব ছিলেন এসআইআর নিয়ে। তিনি বলেন, ‘গান্ধীজিকে তিনটি বুলেটে হত্যা করা হয়েছিল। বিজেপির কাছে তিনটি বুলেট রয়েছে। একটি এসআইআর, দ্বিতীয়টি এনআরসি, তৃতীয়টির কথা আমি এখন বলছি না। পরে সব বলব। বিজেপিকে সন্তুষ্ট রাখতে নির্বাচন কমিশন এসআইআরে বেছে বেছে মহিলাদের টার্গেট করেছে। আমি অনেক কিছু জানি। আমি মুখ খুললে কেউ দাঁড়াতে পারবে না।’ এসআইআর করে মিশনারিজ অব চ্যারিটি, রামকৃষ্ণ মিশন, ভারত সেবাশ্রম সংঘের সন্ন্যাসীদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন মমতা। আরও বলেন, ‘বিজেপি ডিলিমিটেশন বিল আনছে। ভোটের আগে বাংলাকে ভেঙে টুকরো টুকরো করার ছক কষা হয়েছে।’
বিজেপির ইস্তাহার নিয়েও কটাক্ষ করেছেন মমতা। তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, ‘ওরা বলছে, ভোটে জিতে সপ্তম বেতন কমিশন গঠন করবে। ওটা আমরা আগেই করে দিয়েছি। গত বাজেটে তা আছে। সরকারি কর্মীদের ২৫ শতাংশ ডিএ দেওয়া হয়েছে। এসব কিছুই ওরা জানে না। না জেনেই বলছে, বাংলায় লক্ষ লক্ষ শূন্যপদ রয়েছে। ওদের জিজ্ঞাসা করবেন, রেলে-ডিফেন্সে কত পদ শূন্য রয়েছে? আমি রেলমন্ত্রী ছিলাম। আমি ওসব জানি! বিজেপি অনেক মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেবে। ওদের কথায় বিশ্বাস করবেন না। কাকের বাসায় কোকিলের ডিম পাড়ার মতো ওরা বাংলায় এসেছে। ভোট মিটলেই কেটে পড়বে। বন্যা, প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে ওরা মানুষের পাশে থাকবে না। ভোটে জিতে বুলডোজার চালানোই ওদের কাজ।’ বিজেপি বাংলায় রবীন্দ্রজয়ন্তী পালন করার কথা বলছে প্রচারে। তা নিয়ে তীব্র কটাক্ষ ছুড়ে দিয়েছেন বাংলার নেত্রী— ‘এ-তো দেখছি ভূতের মুখে রামনাম!’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ