Bartaman Logo
১১ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

চাঁচলে এক লক্ষ ভোটারকে এসআইআরের শুনানির নোটিস, অভিযোগ শাসক শিবিরের

এসআইআরের নামে সাধারণ মানুষকে পরিকল্পিতভাবে হয়রানির অভিযোগ তুলে সোমবার মালদহের চাঁচল ১ ব্লক অফিসে টানা চার ঘন্টা বিক্ষোভ অবস্থান করল তৃণমূল কংগ্রেস।

চাঁচলে এক লক্ষ ভোটারকে এসআইআরের শুনানির নোটিস, অভিযোগ শাসক শিবিরের
  • ২০ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, চাঁচল: এসআইআরের নামে সাধারণ মানুষকে পরিকল্পিতভাবে হয়রানির অভিযোগ তুলে সোমবার মালদহের চাঁচল ১ ব্লক অফিসে টানা চার ঘন্টা বিক্ষোভ অবস্থান করল তৃণমূল কংগ্রেস। একই বুথের শয়ে শয়ে ভোটারকে একযোগে নোটিস পাঠিয়ে শুনানির জন্য ডেকে পাঠানো হচ্ছে। এই অভিযোগকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ও বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানায় তৃণমূল নেতৃত্ব।

Advertisement

চাঁচল ১ ব্লক অফিস চত্বরে বিক্ষোভ অবস্থানে নির্বাচন কমিশনকে গেরুয়া শিবিরের ‘বি’ টিম বলেও কটাক্ষ করে তৃণমূল। শুনানি কেন্দ্রে ধর্নায় নেতৃত্ব দেন মালদহ জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সহসভাপতি তথা প্রাক্তন আইপিএস প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মালদহ জেলা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি রফিকুল হোসেন, চাঁচল ১ ব্লক তৃণমূল সভাপতি শেখ আফসার আলি সহ জেলা ও ব্লকস্তরের একাধিক নেতৃত্ব ও কর্মীরা।

বিক্ষোভে শামিল হন শুনানিতে আসা সাধারণ মানুষও। এদিন শুনানির নোটিস হাতে নিয়ে দূরদূরান্ত থেকে আসা মানুষজন ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে থাকেন। মূলত হয়রানির ছবি স্পষ্ট দেখা যায় এদিন। তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ, এসআইআর প্রক্রিয়ার আড়ালে বিজেপির ইন্ধনে ভোটারদের ভয় দেখানোর চেষ্টা চলছে। একই বুথের শতাধিক ভোটারকে একসঙ্গে নোটিস পাঠিয়ে অযথা শুনানিতে ডাকা হচ্ছে। দিনমজুর, কৃষক, পরিযায়ী শ্রমিকদের কাজ ছেড়ে ব্লক অফিসে হাজির হতে হচ্ছে। এতে যেমন আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে, তেমন আতঙ্কও ছড়াচ্ছে। অবস্থান বিক্ষোভ থেকে প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচন কমিশনকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন। বলেন, যেভাবে এসআইআর পরিচালনা করা হচ্ছে, তাতে মনে হচ্ছে নির্বাচন কমিশনের চেয়ে একটা ক্লাব এই কাজ আরও ভালোভাবে করতে পারত। বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়ে বাঙালিদের হয়রানি করা হচ্ছে। বিজেপির ‘বি’ টিম হিসেবে কাজ করছে কমিশন।

মালদহ জেলা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি রফিকুল হোসেনও একই সুরে ক্ষোভ উগরে দেন। তিনি বলেন, চাঁচল বিধানসভার ১২টি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রায় লক্ষাধিক মানুষ শুনানির নোটিস পেয়েছেন। এত সংখ্যক মানুষকে একসঙ্গে ডেকে পাঠানোর মানে পরিকল্পিতভাবে হয়রানি করা। ভোটার তালিকা থেকে নাম কাটা যাবে কি না, এই ভয়ে ঘুম হচ্ছে না সাধারণ মানুষের।

শুনানিতে আসা মকদমপুর অঞ্চলের ইউনুস আলি বলেন, ইনিউমারেশন ফর্ম সঠিক নথি দিয়েই জমা দিয়েছিলাম। আধার, ভোটার কার্ড সব দেওয়া সত্ত্বেও শুনানির জন্য ডাকা হল। দিনমজুরি করে সংসার চালাই। কাজ ছেড়ে এসব করলে সংসার চলবে কী করে।

সাধারণ মানুষের হয়রানির অভিযোগ মানতে নারাজ গেরুয়া শিবির। মালদহ উত্তরের বিজেপির সাধারণ সম্পাদক অভিষেক সিঙ্ঘানিয়া বলেন, গত পঞ্চায়েত ভোটে ভুয়ো ভোট ব্যবহার করে কীভাবে ছাপ্পা দিয়েছে তৃণমূল, তা কেউ ভোলেননি নির্বাচন কমিশন নিয়ম মেনে এসআইআরের শুনানি জারি রেখেছে। ভোট হারানোর আভাস পেয়ে ভয়ে কাঁপছেন তৃণমূল নেতারা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ