Bartaman Logo
২৭ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সইফকাণ্ডে ধৃত শরিফুলের সঙ্গে খুকুমণির সম্পর্কই নেই, ফিরে গেল মুম্বইয়ের পুলিস  

সইফকাণ্ডে ধৃত শরিফুলের সঙ্গে খুকুমণির সম্পর্কই নেই, ফিরে গেল মুম্বইয়ের পুলিস
 
  • ২৮ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: সইফকাণ্ডের তদন্তে নদীয়ায় এসেছিল মুম্বই পুলিস। তবে এ যাত্রায় খলি হাতেই ফিরতে হল তাদের। খুকুমণি নামে এক মহিলার খোঁজে রবিবার রাতে চাপড়া থানার বড় আন্দুলিয়া এলাকায় হানা দেয় তারা। যদিও চাপড়া এলাকায় খুকুমণির হদিশ পাওয়া যায়নি। শেষ অবধি তাঁর খোঁজ মেলে কৃষ্ণনগর কোতোয়ালি থানার দুর্গাপুরে। সোমবার সকালে তাঁকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করে ফিরে যান মুম্বই পুলিসের আধিকারিকরা। তবে সইফ আলি খানের উপর হামলার ঘটনায় ধৃত শরিফুল শাহজাদার সঙ্গে খুকুমণির যোগাযোগের কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলেই পুলিসের দাবি। 
Advertisement
কৃষ্ণনগর পুলিস জেলার এসপি অমরনাথ কে বলেন, ‘সইফ আলি খানের উপর আক্রমণের ঘটনার তদন্ত করতে মুম্বই পুলিস এসেছিল। কিন্তু যাঁর খোঁজে তাঁরা এসেছিলেন, চাপড়ায় তাঁকে পাওয়া যায়নি। তারপর তাঁরা কোতোয়ালি থানার দিকে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে তাঁরা মুম্বই ফিরে গিয়েছেন। আমাদের তরফ থেকে তাঁদের সমস্তরকম সাহায্য করা হয়েছে।’
উল্লেখ্য, গত ১৬ জানুয়ারি মুম্বইয়ের বান্দ্রায় সাইফ আলি খানের বাড়িতে ঢুকে তাঁকে আক্রমণ করে এক ব্যক্তি। এই ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক শোরগোল পড়ে যায়। সেই ঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবে শরিফুল শাহজাদা নামে এক বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে মুম্বই পুলিস গ্রেপ্তার করে। বাংলাদেশ থেকে ভারতে প্রবেশ করার পর সে একাধিকবার নিজের নাম বদলেছিল বলে অভিযোগ। তদন্তে নেমে, শরিফুলের নদীয়া যোগের তথ্য পান মুম্বইয়ের গোয়েন্দারা। দেখা যায়, চাপড়ার বড় আন্দুলিয়ার বাসিন্দা খুকুমণি নামে এক মহিলার নামে রেজিস্টার্ড সিম কার্ড ব্যবহার করত শরিফুল। নিজের নামে ভুয়ো আধার কার্ড ব্যবহার করেই সেই সিম যোগাড় করেছিল শরিফুল। সেই সূত্র ধরেই রবিবার মুম্বই পুলিস চাপড়ায় আসে। কিন্তু চাপড়াতে খুকুমণির খোঁ‌জ পাননি তাঁরা। ‘অনিশা টেলিকম’ নামে একটি দোকান থেকে সেই সিম কার্ড নেওয়া হয়েছিল। সেই দোকানটিরও আর অস্তিত্ব নেই। সেখানে বর্তমানে ফার্নিচারের দোকান রয়েছে। 
খুকুমণি বিবি আয়ার কাজ করেন। তাঁর স্বামী জাহাঙ্গির শেখ বছর কয়েক আগে মারা গিয়েছেন। চাপড়ার বড় আন্দুলিয়াতে খুকুমণির শ্বশুরবাড়ি ছিল। তবে বর্তমানে শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে কৃষ্ণনগরের কোতোয়ালি থানার দুর্গাপুরে থাকেন খুকুমণি। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার মুম্বই পুলিসের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, কয়েক বছর আগে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের কাছে নিজের মোবাইল ফোনটি হারিয়ে ফেলেছেন। তার জন্য তিনি থানায় অভিযোগও করেছিলেন। সেই হারানো মোবাইলের সিমই পৌঁছে গিয়েছিল শরিফুলের কাছে। 
খুকুমণি বিবির মেয়ে সোনালী খাতুন বলেন, ‘মা তিন বছর আগেই চলে গিয়েছেন। চার বছর আগে আমার বাবা মারা যান। তার একবছর পরই মা আমাদের ছেড়ে চলে যান। আমাদের সঙ্গে মায়ের কোনও যোগাযোগই নেই।’
খুকুমণি বিবির শাশুড়ি মোকিতন বিবি বলেন, ‘খুকুমণি কোথায় আছে আমরা জানি না। তিন বছর যোগাযোগ নেই। আমার বাড়িতে পুলিস এসেছিল। খুকুমণি ও জাহাঙ্গিরের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করেছিল। আমরা সবটাই বলেছি।’
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ