


ইসলামাবাদ: অপারেশন সিন্দুরে শেষ হয়ে গিয়েছে মাসুদ আজহারের পরিবার। ছিন্নভিন্ন হয়ে গিয়েছে জয়েশ-ই-মহম্মদ সুপ্রিমোর প্রিয়জনদের দেহ। সন্ত্রাসবাদ কাজে লাগিয়ে আমরা এতদিন দিল্লি, কাবুল, কান্দাহারে আঘাত হেনেছি। কিন্তু এবার ভারতীয় সেনা ঘরে ঢুকে সব শেষ করে দিয়ে গিয়েছে। বক্তা জয়েশ কমান্ডার মাসুদ ইলিয়াস কাশ্মীরি স্বয়ং। মঞ্চে তার আশপাশ ঘিরে রেখেছে সশস্ত্র রক্ষীরা। সম্প্রতি প্রকাশ্যে এল এমনই এক চাঞ্চল্যকর ভিডিও। আর তাতেই নতুন করে বিপাকে পাকিস্তান। কারণ, ধরা পড়ে গেল তাদের মিথ্যাচার। ‘অপারেশন সিন্দুরে’ ভারতীয় সেনার সাফল্যের কথা এতদিনে একবারের জন্যও স্বীকার করেনি ইসলামাবাদ। উল্টে গত ১০ মে বিকেলে আচমকা যুদ্ধবিরতির পর থেকে একের পর এক ‘ভুয়ো’ দাবিকে হাতিয়ার করে নিজেদের ‘জয়ের ঢাক’ পিটিয়েছিল। এবার সেই মিথ্যাচার ফাঁস করে শাহবাজের দেশকে বেআব্রু করল তাদেরই ‘পালিত পুত্র’ জয়েশ কমান্ডার ইলিয়াস।
গত ২২ এপ্রিল কাশ্মীরের পহেলগাঁওতে নৃশংস জঙ্গি হামলায় প্রাণ হারিয়েছিলেন ২৬ জন। তার বদলা নিতে ৭ মে ভোররাতে পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরের মোট ৯টি এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ভারতীয় সেনা। তছনছ করে দেওয়া হয় পাকিস্তানের প্রশ্রয়ে বেড়ে ওঠা একাধিক জঙ্গি শিবির। সেদিনই লাহোর থেকে ৪০০ কিলোমিটার দূরে বাহওয়ালপুরে কুখ্যাত জঙ্গি সংগঠন জয়েশ-ই-মহম্মদের সদর দপ্তরে আছড়ে পড়েছিল ভারতীয় সেনার মিসাইল। সেই প্রত্যাঘাতে গুঁড়িয়ে গিয়েছিল মাসুদ আজহারের বাড়ি। মৃত্যু হয়েছিল মাসুদের বড় বোন সহ আজহার পরিবারের ১০ জন সদস্যের। কয়েক মাস আগে একাধিক সংবাদমাধ্যমে জয়েশ সুপ্রিমোর একটি প্রতিক্রিয়া সামনে আসে। সেখানে মাসুদকে বলতে শোনা যায়, ‘আমার পরিবারের পাঁচ শিশু, বড় বোন, তার স্বামী, আমার ভাগ্নে সহ মোট দশ সদস্যের মৃত্যু হয়েছে।’ দিল্লি তাতে সিলমোহর দিলেও পাকিস্তান বারবার এই খবর অস্বীকার করেছে। এরই মধ্যে প্রকাশ্যে এসেছে গত ৬ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে ‘মিশন মুস্তাফা কনফারেন্সে’র ভিডিওটি। সেখানে দেখা যাচ্ছে, অনুষ্ঠান মঞ্চে দাঁড়িয়ে জয়েশ কমান্ডার মাসুদ ইলিয়াস কাশ্মীরি। তার দু’দিকে কালো পোশাকের সশস্ত্র রক্ষীরা। চোস্ত উর্দুতে ইলিয়াস বলছে, ‘সন্ত্রাসবাদকে কাজে লাগিয়ে দিল্লি, কাবুল ও কান্দাহারে আঘাত হেনে আমরা এই দেশের (পাকিস্তান) সীমান্তকে রক্ষা করেছি। সবরকম চেষ্টা চালিয়েছি। সর্বস্ব ত্যাগ করেছি। তারপরও ৭ মে বাহওয়ালপুরে ভারতীয় সেনার হামলায় মৌলানা মাসুদ আজহারের পরিবার ছিন্নভিন্ন হয়ে গিয়েছে।’ এই স্বীকারোক্তি ভারতীয় সেনার সাফল্যকে আরও একবার বিশ্বের সামনে এনে দিল। মিথ্যা প্রমাণ করল পাকিস্তান সরকারের যাবতীয় দাবি।
বছরের পরে বছর ধরে পাকিস্তানে আত্মগোপনে রয়েছে আজহার। পাক রাজনীতিবিদ বিলাবল ভুট্টো জারদারির দাবি, মাসুদ আজহারের অবস্থান সম্পর্কে কিছুই জানে না ইসলামাবাদ। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ের একাধিক ঘটনা বলছে অন্য কথা। বারবার স্পষ্ট করে দিচ্ছে একেবারেই ‘ধোয়া তুলসিপাতা’ নয় পাকিস্তান!