


মুম্বই: মঞ্চে হাজির অমিত শাহ। সেই মঞ্চ থেকেই ‘জয় গুজরাত’ স্লোগান শোনা গেল মহারাষ্ট্রের উপ মুখ্যমন্ত্রী একনাথ সিন্ধের গলায়। তাঁর এই ‘স্লোগানের’ পরেই নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে মহারাষ্ট্রের রাজনীতি। গত কয়েক দিনে মারাঠি বনাম অমারাঠি দ্বন্দ্ব নিয়ে একের পর এক অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে পশ্চিম উপকূলের এই রাজ্যটিতে। তারই মধ্যে শুক্রবার একনাথের ‘স্লোগান’ ঘিরে নতুন করে বিতর্ক ছড়িয়েছে। গোটা ঘটনাকে ‘নির্লজ্জ রাজনৈতিক দাসত্ব’ বলে কটাক্ষ করেছে কংগ্রেস। যদিও বিতর্কের মধ্যে উপ মুখ্যমন্ত্রীর পাশেই দাঁড়িয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ।
শুক্রবার পুনের একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন একনাথ সিন্ধে। সেই মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও। সেখানে গুজরাতিতে বক্তব্য রাখেন শাহ। তার পরেই বক্তব্য রাখতে ওঠেন সিন্ধে। মহারাষ্ট্রের উপ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘জয় হিন্দ, জয় মহারাষ্ট্র, জয় গুজরাত।’ তাঁর সেই স্লোগান ঘিরেই বিতর্কের ঝড় উঠেছে মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে। সিন্ধের বক্তব্যকে ‘রাজনৈতিক দাসত্ব’ বলে খোঁচা দিয়েছেন মহারাষ্ট্রের কংগ্রেস নেতা হর্ষবর্ধন সপকল। পাশাপাশি, একনাথের পদত্যাগেরও দাবি করে তিনি বলেন, ‘মহারাষ্ট্র ছত্রপতি শিবাজির ভূমি। যিনি আত্মসম্মান ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক। ‘জয় গুজরাত’ স্লোগান শুধুই নির্লজ্জ চাটুকারিতা নয়। এটা প্রমাণ করে বর্তমান মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে গুজরাতের প্রভাব কতটা। বহু বিনিয়োগ মহারাষ্ট্র থেকে গুজরাতের হাতে চলে যাচ্ছে। এখানকার সরকার সেটা বসে বসে দেখছে।’ যদিও এই ঘটনায় উপ মুখ্যমন্ত্রীর পাশেই দাঁড়িয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেছেন, ‘সিন্ধে ‘জয় গুজরাত’ বলেছেন মানেই তিনি মহারাষ্ট্রের থেকে গুজরাতকে বেশি ভালোবাসেন, এমনটা নয়। এই ধরনের মানসিকতা মারাঠিরা পছন্দ করেন না’। এই প্রসঙ্গেই ছত্রপতি শিবাজির মূর্তি উদ্বোধনের সময় শারদ পাওয়ারের দেওয়া ‘জয় মহারাষ্ট্র, জয় কর্ণাটক’ স্লোগানের কথাও মনে করিয়ে দেন দেবেন্দ্র।
এদিকে, মীরা রোডে মারাঠি না বলায় দোকানিকে হেনস্থার ছবি সমাজমাধ্যমে তুমুল ভাইরাল হয়েছিল। নাম জড়িয়েছিল রাজ থ্যাকারের মহারাষ্ট্র নব নির্মাণ সেনার বেশ কয়েকজন কর্মীর। সেই প্রসঙ্গে এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মারাঠি ভাষার নামে গুন্ডামি মানব না। কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ভাষার উপর গর্ব করুন, কিন্তু তা যেন গুন্ডামি না হয়ে যায়।’ শুধু মীরা রোডেই নয়, থানেতেও মোবাইল রিচার্জ নিয়ে বচসা গড়িয়েছিল ভাষা বিদ্বেষে। শিবসেনার (উদ্ধব) এক প্রাক্তন সাংসদের উপস্থিতিতেই চরম হেনস্থা করা হয় অমারাঠিদের।