Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাংলার মানুষের সহজসরল জীবনযাত্রা দেখা যাবে সাহেবগঞ্জ রোড নাট্য সংস্থার দুর্গাপুজো মণ্ডপে

বাংলার মানুষের সহজসরল জীবনযাত্রা দেখা যাবে সাহেবগঞ্জ রোড নাট্য সংস্থার দুর্গাপুজো মণ্ডপে
  • ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

মনসুর হাবিবুল্লাহ, দিনহাটা: দেবী দুর্গার কৃপায় গ্রাম বাংলার মানুষ দুধে ভাতে থাকে— এমনই চিরন্তন চিত্রকে এবার দুর্গোৎসবের থিম হিসেবে বেছে নিয়েছে দিনহাটার সাহেবগঞ্জ রোড নাট্য সংস্থা। বাংলার মানুষের সহজসরল জীবনযাত্রা, গোলা ভরা ধান, হাঁড়িতে সেদ্ধ ভাত, সন্তানদের রক্ষায় অগ্নিশক্তির প্রতীক দেবী দুর্গা। সব মিলিয়ে তৈরি হচ্ছে এক অনন্য শিল্পকীর্তি। থিমের নাম ‘ঐতিহ্য’, আর ট্যাগলাইন— ঐতিহ্যকে কি করা যায় অস্বীকার, ঐতিহ্যই আমাদের অহংকার। 

Advertisement

মণ্ডপশিল্পী কলকাতার অমল পাঁজার নেতৃত্বে নবদ্বীপের কারিগররা গত তিন মাস ধরে দিনরাত পরিশ্রম করে মণ্ডপ সাজাতে ব্যস্ত। মণ্ডপের বাইরের অংশে গোলায় রাখা ধানের বস্তা সারি সারি সাজানো হয়েছে, ভিতরে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে সেই ধান সেদ্ধ করার প্রতীকী দৃশ্য। যেন গ্রামীণ বাংলার সোনার ফসল ফলানোর লড়াইয়ের ইতিহাস জীবন্ত হয়ে উঠেছে। শুধু তাই নয়, নবদ্বীপের আলোকসজ্জায় আলোকিত হবে গোটা পুজো মণ্ডপ চত্বর। 
পুজো কমিটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৪০ লক্ষ টাকারও বেশি ব্যয়ে সাজানো হচ্ছে এবারের মণ্ডপ ও আলোকসজ্জা। দিনহাটার দুর্গাপুজো এখন কেবল উৎসব নয়, এক নতুন ঐতিহ্য। শহরে প্রবেশের মুখে তৈরি করা হয়েছে এক বিশাল স্বাগতম তোরণ, যা দর্শনার্থীদের চোখে প্রথমেই ধরা দেবে। বাংলার কৃষ্টি-সংস্কৃতির সঙ্গে দিনহাটার ঐতিহ্যও সেই তোরণে প্রতিফলিত হবে। মণ্ডপশিল্পী অমল পাঁজা বলেন, সন্তানদের রক্ষায় অগ্নি হয়ে লড়াই করেন দেবী দুর্গা। তাঁর আশীর্বাদেই বাংলার গ্রামে গোলা ভরে ধান হয়, শস্য শ্যামলা জীবন গড়ে ওঠে। সেই দৃশ্যপটই মণ্ডপে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে। ঐতিহ্যকেই আমরা শিল্পের মাধ্যমে প্রকাশ করছি।  ক্লাব সভাপতি সঞ্জীব সাহা জানান, মন্ত্রী উদয়ন গুহর নেতৃত্বে দিনহাটার দুর্গাপুজো আজ উত্তরবঙ্গের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উৎসবে পরিণত হয়েছে। সেই ঐতিহ্যকে সম্মান জানাতেই আমরা শহরের প্রবেশদ্বারে স্বাগতম তোরণ তৈরি করছি। এবারের থিম ঐতিহ্য, যেখানে বাংলার কৃষ্টি কথার পাশাপাশি দিনহাটার ঐতিহ্যও তুলে ধরা হচ্ছে। 
দিনহাটার দুর্গোৎসব এখন কেবলমাত্র আনন্দ নয়, সামাজিক মিলনেরও এক অন্যতম ক্ষেত্র। শহরের বাসিন্দা থেকে শুরু করে দূরদূরান্তের মানুষ এই মণ্ডপে ভিড় জমাবেন বলেই আশা আয়োজকদের। এবারের শিল্পকলা, ঐতিহ্যের উপস্থাপনা এবং বিপুল ব্যয়বহুল আয়োজনের মাধ্যমে সাহেবগঞ্জ রোড নাট্য সংস্থার দুর্গাপুজো উত্তরবঙ্গের পুজো মানচিত্রে বিশেষ মাত্রা যোগ করবে বলেই মত স্থানীয়দের।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ