নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: ১২ কোটি ৪০ লাখ টাকা ঘাটতি রেখেই ৬৮৫ কোটি ২৪ লক্ষ টাকার বাজেট মঙ্গলবার পেশ করল শিলিগুড়ি পুরসভা। এদিন সভাকক্ষে বিরোধী কাউন্সিলারদের উপস্থিতিতে ২০২৫-’২৬ আর্থিক বছরের বাজেট পেশ করেন মেয়র গৌতম দেব। পাশাপাশি এদিনই ২০২৪-’২৫ অর্থবর্ষের ৩৩৪ কোটি ৬৭ লক্ষ টাকার সংশোধিত বাজেটও পেশ করা হয়।
বাজেট পেশের আগে শিলিগুড়ি শহরকে বৈচিত্রের শহর বা ‘সিটি অব ডাইভারসিটি’ হিসেবে চিহ্নিত করার জন্য রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন জানানো হবে বলে দাবি করেন মেয়র। পাশাপাশি রাজ্য সরকারের মাধ্যমে কেন্দ্র সরকারের কাছে এই শহরকে ‘সিটি অব ন্যাশনাল ইমপরটেন্স’ ঘোষণা করার দাবি জানানো হবে বলেও জানান। এই শহরের জন্য বিশেষ আর্থিক গ্রান্টও দাবি করা হবে বলে জানান। এছাড়াও শিলিগুড়ির সঙ্গে জড়িত থাকা ‘দার্জিলিং মেল’ ট্রেনের শুরু ও শেষ স্টপ এনজেপিকে করার দাবিও জানানো হবে। শহরের মধ্যে অবস্থিত শিলিগুড়ি জংশন স্টেশনকে আরও গুরুত্ব বাড়িয়ে বাড়তি ট্রেন দেওয়ার দাবিও রেলকে জানাবে পুরসভা।
অস্থায়ী কর্মী মূলত চুক্তিভিত্তিক ও দৈনিক হাজিরায় নিযুক্ত কর্মীদের ভাতা ১ এপ্রিল থেকে ৩ শতাংশ হারে বৃদ্ধি করা হবে বলে বাজেটে ঘোষণা করা হয়। যারজন্য আরও ১ কোটি ১০ লক্ষ টাকা অতিরিক্ত খরচ হবে। এছাড়াও স্থায়ী কর্মচারী, কাউন্সিলারদের স্বাস্থ্যবিমার আওতায় আনা হচ্ছে। রেলের জমি যেগুলিতে ১২ বছরের বেশি সময় ধরে বসবাস করছে লোকজন এবং যেসব জমি রেলের কাজে আসছে না, তা রাজ্যকে দিয়ে দেওয়ার দাবি জানানো হবে। এরপর সেই জমিতে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা নিয়ে বাসিন্দারা গৃহ নির্মাণ করতে পারবেন।
কাউন্সিলারদের জন্য বার্ষিক আর্থিক তহবিল ৮ লক্ষ ২০ হাজারের জায়গায় ৮ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা করা হয়েছে। যাতে এলাকাতে আরও বেশি করে জনপ্রতিনিধিরা কাজ করতে সক্ষম হন। এছাড়াও প্রত্যেক বরোর জন্য ২৫ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হচ্ছে। এতে ওয়ার্ডগুলির রাস্তা মেরামতিতে বরোগুলি নিজেরাই উদ্যোগ নিতে পারবে।
বাজেট পেশের পর মেয়র বলেন, বাসিন্দাদের নাগরিক পরিষেবা বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়েই এই বাজেট। সামগ্রিক উন্নয়নই আমাদের টার্গেট। নদীর ধারে খাটা পায়খানা সহ অন্যান্য শৌচালয় বন্ধ করার কাজ শুরু হয়েছে। এই কারণে প্রচুর কমিউনিটি টয়লেট বানানো হবে। শহরের বেশকিছু রাস্তা সম্প্রসারণের কাজ করা হবে। গ্রিন বিল্ডিং তৈরির বিষয়ে জোর দেবে পুরসভা। যাঁরা এই ধরনের বহুতল নির্মাণ করবে ও যথেষ্ট রাস্তা ছেড়ে নির্মাণ করবেন তাঁদের থেকে বিল্ডিং প্ল্যানের ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় দেব আমরা। শহরের পার্কিং জোনের জন্য ১০ কোটি টাকা বরাদ্দে মাল্টিপারপাস পার্কিং জোন করা হবে। বেশকিছু সরকারি স্কুল যেগুলি বন্ধ হয়ে গিয়েছে, সেসব স্কুলের জায়গা রাজ্য সরকারের থেকে চাওয়া হবে। রবীন্দ্রমঞ্চে পুরসভার যে স্বাস্থ্যদপ্তর ছিল সেটিকে পুরোপুরি নাট্যচর্চার মহড়া কক্ষের জন্য ব্যবহার করা হবে। শিলিগুড়িতে আরও একটি ৩০ বেডের হাসপাতাল বানাতে প্রকল্প পাঠানো হয়েছে। কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়াম সংস্কারের জন্য নিজস্ব তহবিল থেকে ৬৭ লক্ষ টাকা খরচ করা হবে।