নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: নাশকতার আশঙ্কা! তাই স্বাধীনতা দিবসের মুখে ‘চিকেন নেক’ শিলিগুড়িকে কড়া নিরাপত্তার চাদরে মুড়ছে পুলিশ। তারা বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন, রেল ও সড়ক সেতু এবং আন্তর্জাতিক সীমান্তে বাড়তি নজরদারি শুরু করেছে। এজন্য বিএসএফ ও এসএসবির সঙ্গে সমন্বয় বৈঠক করেছে। রাস্তায় নামানো হয়েছে স্নিফার ডগ। একইসঙ্গে শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশের ডগ স্কোয়াডকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে। এজন্য দুই স্নিফার ডগকে বিশেষ প্রশিক্ষণের জন্য ব্যারাকপুর ও বেঙ্গালুরুতে পাঠিয়েছে। যাদের নাম রকি ও মোতি।
শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের এক অফিসার বলেন, স্বাধীনতা দিবস সুষ্ঠুমতো করতে সবরকম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পুলিশ কমিশনার সৈয়দ ওয়াকার রাজার নির্দেশে নাকা তল্লাশি, বাইক টহল বাড়ানো হয়েছে। জনবহুল এলাকায় ড্রোন উড়িয়ে, সিসি ক্যামেরায় নজরদারি চালানো হচ্ছে। বিভিন্ন ইস্যুতে উস্কানিমূলক প্রচার রুখতে সোশ্যাল মিডিয়ার ওপর চলছে নজরদারি।
উত্তরবঙ্গ তো বটেই রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ শহর শিলিগুড়ি। এই শহরের পাশেই প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশ ও নেপাল। এরবাইরে এই শহরের পাশে প্রতিবেশী রাজ্য বিহার, সিকিম রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই এই করিডর টার্গেট ভারত বিরোধী শক্তির। সেই সঙ্গে স্থানীয় কিছু ইস্যুতে এখানে চাপা উত্তেজনা রয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে শহরে হাঙ্গামা, বিশৃঙ্খলা ও নাশকতার আশঙ্কা করছে বিভিন্ন মহল। সেজন্যই এই এলাকা নিরাপত্তার চাদড়ে মুড়ছে পুলিশ।
শিলিগুড়ি পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শহরের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথগুলিকে কেন্দ্র করে ১০-১২টি নাকা তল্লাশি চলছে। বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন, বাজারে সাদা পোশাকের পুলিশ নজর রাখছে। পালা করে টহল দিচ্ছে দু’টি স্নিফার ডগ। সড়ক সেতু, রেল সেতু, বিমানবন্দর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। নেপাল সীমান্তে কর্তব্যরত এসএসবি, বাংলাদেশ সীমান্তে কর্তব্যরত বিএসএফ এবং দার্জিলিং জেলা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হয়েছে। সমগ্র ব্যবস্থা তদারকি করছে পুলিশ কমিশনারেটের দু’টি টিম। যার নেতৃত্বে রয়েছেন দু’জন ডিসিপি।
দার্জিলিং জেলা পুলিশ জানিয়েছে, খড়িবাড়ি, নকশালবাড়ি ও ফাঁসিদেওয়ার বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চলছে। অন্যদিকে, শিলিগুড়ি করিডরের তল্লাশি ব্যবস্থা জোরদার করতে ডগ স্কোয়াড চাঙা করা হচ্ছে। পুলিশ সূত্রে খবর, বর্তমানে স্কোয়াডে চারটি স্নিফার ডগ রয়েছে। দু’টি কাজ করছে। বাকি দু’টিকে প্রশিক্ষণে পাঠানো হয়েছে। আরও দু’টি ডগ আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।