Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ডেপুটি মেয়রের ওয়ার্ডেই ১০০ ‘ভুয়ো’ ভোটার

ভুয়ো ভোটারের হদিশ অব্যাহত। এবার শিলিগুড়ি শহরে ডেপুটি মেয়র রঞ্জন সরকারের ওয়ার্ডেই সন্ধান মিলেছে এমন ১০০ ভোটারের। যাঁদের কেউ মৃত

ডেপুটি মেয়রের ওয়ার্ডেই ১০০ ‘ভুয়ো’ ভোটার
  • ৮ মার্চ, ২০২৫ ০৮:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: ভুয়ো ভোটারের হদিশ অব্যাহত। এবার শিলিগুড়ি শহরে ডেপুটি মেয়র রঞ্জন সরকারের ওয়ার্ডেই সন্ধান মিলেছে এমন ১০০ ভোটারের। যাঁদের কেউ মৃত। আবার কারও নাম রয়েছে একাধিক কেন্দ্রে। ভোটার তালিকা স্ক্রুটিনি করার পর এনিয়ে গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করেছেন ডেপুটি মেয়র। এদিকে, একই এপিক নম্বরে দু’জন ভোটারের হদিশ পাওয়া গিয়েছে। তাঁদের একজন ডাবগ্রাম-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের, অপরজন মধ্যপ্রদেশের বাসিন্দা। অন্যদিকে, সচিত্র ভোটার তালিকা নিয়ে স্ক্রুটিনি অভিযানে নেমেছেন মেয়র গৌতম দেব। যদিও বিজেপি ষড়যন্ত্রের অভিযোগ মানতে নারাজ। তারা ছাব্বিশের নির্বাচনে ভোটারদের বায়োমেট্রিক চালুর দাবি তুলেছে। সমগ্র পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয় রাজনীতি কার্যত তপ্ত। 

Advertisement

গত পুর নির্বাচনে ১৫ নম্বর ওয়ার্ড থেকে নির্বাচিত হন ডেপুটি মেয়র। তিনি কয়েকদিন ধরেই বাড়ি বাড়ি গিয়ে সচিত্র ভোটার তালিকা স্ক্রুটিনি করছেন। সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডে আটটি বুথ। ইতিমধ্যে তিনি দু’টি বুথের ২০০টি বাড়ি ঘুরে চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য পেয়েছেন। তৃণমূল কংগ্রেস সূত্রের খবর, ১৮৫ নম্বর পার্টের বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রোডের ভোটার অরুণ ভট্টাচার্য ও সুচিত্রা দাস দু’জনেই মৃত। তাঁদের নাম এখনও তালিকায় রয়েছে। সংশ্লিষ্ট পার্টের স্বামীজি সরণির ভোটার স্বপন দাস একদা কর্মসূত্রে এখানে ভাড়া ছিলেন। দীর্ঘদিন আগে তিনি কলকাতায় নিজের বাড়িতে চলে যান। এখন তাঁর নাম এখানকার ও কলকাতার ভোটার তালিকায় রয়েছে। হাকিমপাড়ার বাসিন্দা মীরা রায়ের নাম এখানকার এবং সিকিমের নামচি-সিঙ্গথাং বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটার তালিকায় রয়ে গিয়েছে। 
সংশ্লিষ্ট উদাহরণগুলি তুলে ধরে ডেপুটি মেয়র বলেন, ওয়ার্ডে মৃত ও অন্যত্র চলে যাওয়া ব্যক্তির নাম ভোটার তালিকায় রয়ে গিয়েছে। এখনও পর্যন্ত ওয়ার্ডে এমন ভুয়ো ভোটারের সংখ্যা প্রায় ১০০ জন। তালিকা স্ক্রুটিনি চলছে। এমন ভোটার সংখ্যা আরও বাড়বে। এরবাইরে একই পরিবারের চার সদস্যর পার্ট নম্বর চার জায়গায় ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এমনকী, প্রকৃত এক ভোটারের নাম তালিকা থেকে কেটে দেওয়া হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, দিল্লির কায়দায় ‘ভূতুড়ে’ ভোটারের মাধ্যমে ছাব্বিশের নির্বাচনে এলাকা কব্জা করতেই গেরুয়া শিবির এমন ছক কষেছে। তবে ওদের ছক ধরা পড়েছে। ভোটার তালিকা থেকে ভুয়ো ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার ব্যবস্থা করবই। 
এদিকে, এদিন বিকেলে শহরের ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের সূর্য সেন কলোনির ডি-ব্লকে ভোটার তালিকা স্ক্রুটিনি অভিযানে নামেন মেয়র। তিনি তালিকা নিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলেন। অন্যদিকে, শিলিগুড়ি শহরের উপকণ্ঠে ডাবগ্রাম-২ পঞ্চায়েতের ভোটার বেলাল মিয়াঁ। তাঁর এপিক কার্ডের নম্বর জেএলকিউ ৩১৪২৪৮৬। এই একই নম্বরের এপিক কার্ড রয়েছে মধ্যপ্রদেশের শীলা দেবীর। তিনি ভোপাল জেলার নারেলা বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটার। স্থানীয় তৃণমূল কর্মীরা এনিয়ে ক্ষুব্ধ।  
বিজেপি অবশ্য অভিযোগ মানতে নারাজ। বিজেপির শিলিগুড়ি সাংগঠনিক জেলা কমিটির সভাপতি অরুণ মণ্ডল বলেন, ভোটার তালিকা নিয়ে তৃণমূলের তোলা অভিযোগ ঠিক নয়। হিন্দু ভোটারদের বিভক্ত করতে ওরাই ষড়যন্ত্র করছে।      

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ