


তারক চক্রবর্তী, শিলিগুড়ি: নাম ঘোষণা হতেই শিলিগুড়ি আসনের প্রবীণ-নবীন দুই প্রজন্মের নেতাকর্মীদের পাশে নিয়ে শিলিগুড়ির রাস্তায় মিছিল করলেন সিপিএম প্রার্থী শরদিন্দু চক্রবর্তী। তাঁর ঠিক পাশেই দেখা গেল প্রাক্তন মন্ত্রী মেয়র অশোক ভট্টাচার্যকে। হাসিমুখে বর্তমান প্রার্থীকে সঙ্গে নিয়ে শহরের রাস্তায় হাঁটলেন অশোকবাবু। পাশে একদিকে যেমন অশোক, জীবেশ সরকারকে দেখা গিয়েছে, ঠিক তেমনই ডিওয়াইএফআই, এসএফআই কর্মীদের একাংশকেও রাস্তায় নামতে দেখা গিয়েছে। রাজনৈতিক মহলের বিশেষজ্ঞদের একাংশের দাবি, সাম্প্রতিককালে সিপিএম বা বামেদের প্রার্থী ঘোষণা হওয়ার পরে এই ধরনের উচ্ছ্বাস খুব একটা চোখে পড়েনি। কাজেই বামেদের মূলত যুবদের মধ্যে নতুন প্রার্থীকে নিয়ে যে আলাদা লড়াইয়ের মানসিকতা তৈরি হয়েছে, তা কার্যত এই মিছিলেই ধরা পড়েছে।
গত বিধানসভা বা পুরসভা শিলিগুড়িতে দীর্ঘদিনের প্রাক্তন মন্ত্রী অশোক ভট্টাচার্যকে মুখ করেই দল লড়াইয়ে নেমেছিল। তবে প্রায় প্রত্যেকটি নির্বাচনেই ফল ঠেকেছিল তলানিতে। দলের অন্দরে কান পাতলেই অশোকবাবুর জায়গায় নতুন প্রার্থীকে সামনে রেখে লড়াইয়ে নামার দাবি উঠেছিল। তবে সেই দাবিকে খুব একটা পাত্তা দিতে চাননি আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের শীর্ষ নেতৃত্ব। অশোক ভট্টাচার্যের নাম ঘোষণা করেই ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে নেমেছিল বামেরা। ফলাফল গিয়েছিল চরম বিপরীতে। একসময়ে অশোকবাবুর ছায়াসঙ্গী রাগে অভিমানে দলত্যাগ করে বিজেপিতে নাম লিখিয়েছিলেন। সকলকে চমকে দিয়ে গুরুকে হারিয়ে শিলিগুড়িতে বাজিমাত করেছিলেন শংকর ঘোষ। পরবর্তীতে নির্বাচনের ফলাফলের কাঁটাছেড়া করতে গিয়ে দেখা গিয়েছিল যে, নির্বাচনে বামেদের ভোটের একটা বড় অংশ গেরুয়া চিহ্নে পড়েছিল বলে বুঝতেও পারেন বামনেতারা। একাধিকবার বাম নেতারা প্রকাশ্যেও এই বিষয় বলেন। ২০২৬ নির্বাচনের প্রাক্কালে দল থেকে ফের নতুন মুখকে প্রার্থী করার দাবি ফের ওঠে। এরপরেই সোমবার নাম ঘোষণা হতেই কর্মীদের মধ্যে বাড়তি উদ্যম দেখা গিয়েছে।
অশোকবাবু বলেন, আমাদের প্রার্থী সত্যিই খুব ভালো চয়ন করা হয়েছে। প্রার্থীর জন্য লড়াইয়ের ময়দানে কোমর বেঁধে লড়ব।
শরদিন্দুবাবু বলেন, দল বিশ্বাস করে আমাকে প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত করেছে। আমিও দলের বিশ্বাসকে সম্মান জানাতে মানুষের অধিকারের দাবিতে লড়াইয়ের ময়দানে নামছি।