Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬

বিধ্বস্ত লাচেন, লাচুং, বিকল্প পর্যটন কেন্দ্রের খোঁজ দিতে মরিয়া সিকিম সরকার

বারবার বিপর্যয়ে বিধ্বস্ত উত্তর সিকিম। ফলে পর্যটকরা যাতে সে রাজ্য থেকে  মুখ ফিরিয়ে না নেন, সেজন্য বিকল্প ট্যুরিস্ট স্পটের খোঁজ দিতে মরিয়া সিকিম সরকার।

বিধ্বস্ত লাচেন, লাচুং, বিকল্প পর্যটন কেন্দ্রের খোঁজ দিতে মরিয়া সিকিম সরকার
  • ১৩ জুন, ২০২৫ ১৮:০৬
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: বারবার বিপর্যয়ে বিধ্বস্ত উত্তর সিকিম। ফলে পর্যটকরা যাতে সে রাজ্য থেকে  মুখ ফিরিয়ে না নেন, সেজন্য বিকল্প ট্যুরিস্ট স্পটের খোঁজ দিতে মরিয়া সিকিম সরকার। এবার পাকিয়ংয়ে সিকিমের প্রথম ডিজিটাল যাযাবর গ্রাম হিসেবে আত্মপ্রকাশ করা ইয়াকতেনে পর্যটক টানতে বিশেষ উদ্যোগী হল সেরাজ্যের পর্যটন দপ্তর। তাদের দাবি, অবসর কাটানোর পাশাপাশি পাহাড় জঙ্গল প্রকৃতির মাঝে নিরিবিলি কাজের সুযোগ মিলবে ইয়াকতেনে। এলাকার হোম স্টেগুলিতে রয়েছে ইন্টারনেট ওয়াইফাই সহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা। 

Advertisement

উত্তর সিকিমের মঙ্গন থেকে চুংথাং ভায়া টুং নাগা নিউ রোড এখনও বন্ধ। মঙ্গন থেকে গ্যাংটক ভায়া ফুডং রোডে শুধুমাত্র হালকা গাড়ি চলার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। মঙ্গন থেকে চুংথাং ভায়া ফিডাং রোডে ৬ টনের বেশি গাড়ি ও পণ্য পরিবহনের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। কারণ, ডেটখোলা সেতুর অবস্থা খারাপ। মঙ্গন থেকে সাংকালান রাস্তাও বন্ধ। কারণ, ধসে ক্ষতিগ্রস্ত সাংকালান সেতু এখনও সারানো যায়নি। চুংথাং থেকে লাচেন যাওয়ার পথে এখনও একাধিক জায়গায় ধস। মুন্সিথাং এলাকা থেকেই ওই ধস শুরু হয়েছে। লাচেন থেকে থাঙ্গু যাওয়ার রাস্তায় জিমার কাছেও ধস নেমেছে। ফলে ওই রোডও বন্ধ। তবে থাঙ্গু থেকে গুরুদংমা যাওয়ার রাস্তা খোলা।

এদিকে দ্রুত উত্তর সিকিমকে ছন্দে ফেরাতে ধস বিধ্বস্ত এলাকায় জোরকদমে রাস্তা ও সেতু মেরামতের কাজ চলছে বলে জানানো হয়েছে সিকিম প্রশাসনের তরফে। নতুন করে বিপর্যয় না ঘটলে পুজোর আগেই লাচেন, লাচুংয়ের মতো সিকিমের জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রকে আগের চেহারায় ফেরানো সম্ভব হবে বলে দাবি তাদের। 

উত্তরবঙ্গের অন্যতম ট্যুর অপারেটর রাজ বসু বলেন, ‘সেনাবাহিনীর পাশাপাশি এনডিআরএফ, বর্ডার রোডস অর্গানাইজেশন ও সিকিম সরকার যৌথভাবে ধস বিধ্বস্ত এলাকায় পুনর্গঠনের কাজ শুরু করেছে। আমরা আশা করছি, পুজোর আগেই উত্তর সিকিম আবারও চেনা ছন্দে ফিরতে পারবে।’ তাঁর দাবি, ‘সিকিমে যাঁরা বেড়াতে আসেন, তাঁদের বেশিরভাগেরই পছন্দের ডেস্টিনেশন থাকে লাচেন, লাচুং, গুরুদোংমার লেক কিংবা ইয়ুমথাং। এতবড় বিপর্যয়ের রেশ না কাটতেই পর্যটকরা ওইসব এলাকায় যাওয়ার জন্য খোঁজখবর করছেন। উত্তর সিকিমে বেড়ানোর প্ল্যান জানতে চেয়ে আমরা ফোন পাচ্ছি।’

তবে উত্তর সিকিমে বিপর্যয় সত্ত্বেও পর্যটকের বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ঘাটতি হবে না বলে দাবি সেরাজ্যের পর্যটন দপ্তরের। সিকিমের পর্যটন দপ্তরের অতিরিক্ত মুখ্য সচিব সি এস রাও জানিয়েছেন, এবছর ২৫ লক্ষ পর্যটকের টার্গেট রয়েছে তাঁদের। ধসে লাচেন, লাচুং ক্ষতিগ্রস্ত হলেও পর্যটকরা সিকিমের অন্য জায়গাগুলি বেছে নিচ্ছেন। তাঁর দাবি, সিকিমে সবমিলিয়ে দু’শো পর্যটনকেন্দ্র রয়েছে। এরমধ্যে ৯৩টি পর্যটনকেন্দ্র জনপ্রিয়। সুতরাং বছর শেষে পর্যটকের টার্গেট পূরণে কোনও সমস্যা হবে না।

সম্পর্কিত সংবাদ