


ভোপাল, ২ মার্চ: মধ্যপ্রদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষায় কড়া নিরাপত্তা। স্বাভাবিকভাবেই পরীক্ষাকেন্দ্রগুলিতে পরীক্ষার্থীদের মানতে হচ্ছিল নানান বিধি নিষেধ। তারই মধ্যে একটি পরীক্ষাকেন্দ্রে এক শিখ মহিলাকে প্রবেশ করার সময় পাগড়ি খুলতে বলার অভিযোগ ঘিরে রবিবার ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়। মুহুর্তের মধ্যেই উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় শিখ সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। তাঁদের দাবি একজন শিখকে তাঁর পাগড়ি খুলতে বলা মানে তা ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করা। আর তা নিয়েই পরীক্ষাকেন্দ্রের বাইরে বিক্ষোভের পরিস্থিতি তৈরি হয়।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, গুরলীন কৌর নামে এক মহিলা পরীক্ষার্থী পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছান। সেখানে নিরাপত্তা তল্লাশির সময় কর্তব্যরত এক মহিলা কর্মী তাঁকে পাগড়ি খুলতে বলেন। গুরলীন একজন দীক্ষিত শিখ হওয়ায় ধর্মীয় কারণে পাগড়ি খুলতে অনিহা প্রকাশ করেন। তাতেই শুরু হয় উভয় পক্ষের বাকবিতণ্ডা। কিছুক্ষণ পরেই তা ব্যাপক পরিস্থিতির আকার নেয়। পরে বিষয়টি স্থানীয় শিখ সম্প্রদায়ের সদস্যদের নজরে এলে তাঁরা কেন্দ্রে জড়ো হয়ে ঘটনার প্রতিবাদ জানান। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ ও প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। শিখ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা সংশ্লিষ্ট কর্মীর প্রকাশ্য ক্ষমাপ্রার্থনার দাবি তোলেন। দীর্ঘ আলোচনার পর উপ-বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট প্রতীক সোনকর এবং কেন্দ্রের সুপারিনটেনডেন্ট সুভাষ কুমাওয়াত উপস্থিত সমস্ত শিখ সম্প্রদায়ের সামনে দুঃখপ্রকাশ করেন ও ক্ষমা চান।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করা হবে। ক্ষমাপ্রার্থনার পর উভয় পক্ষই বিষয়টির মীমাংসা করে নেন।