Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

প্রথম বিশ্বযুদ্ধে শহিদ শিখ সৈনিকদের স্মরণ লন্ডনে

প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ১ লক্ষের বেশি শিখ সৈনিকের আত্মবলিদান সহজে ভোলার নয়। প্রতি বছর ১১ নভেম্বর তাঁদের অসীম সাহসকে শ্রদ্ধা জানানো হয়। তবে এবছর তার আগেই ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী থাকল লন্ডনের ওয়েলিংটন বারাকের মাঠ।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধে শহিদ শিখ সৈনিকদের স্মরণ লন্ডনে
  • ১ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

রূপাঞ্জনা দত্ত, লন্ডন:

Advertisement

প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ১ লক্ষের বেশি শিখ সৈনিকের আত্মবলিদান সহজে ভোলার নয়। প্রতি বছর ১১ নভেম্বর তাঁদের অসীম সাহসকে শ্রদ্ধা জানানো হয়। তবে এবছর তার আগেই ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী থাকল লন্ডনের ওয়েলিংটন বারাকের মাঠ। গত বুধবার সেখানেই ১৯১৪ শিখস সেরেমোনিয়াল মার্চিং ট্রুপের উদ্বোধন হল। শিখ মিলিটারি ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যৌথভাবে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ব্রিটিশ সেনা। ট্রুপের প্রত্যেক সদস্য ব্রিটিশ নৌসেনা, বায়ুসেনা ও স্থল সেনায় নিযুক্ত। ট্রুপ সার্জেন্টের দায়িত্বে রয়েছেন মেজর সার্জেন্ট রঞ্জিত সিং আর। 
শরতের বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে ভিড় জমিয়েছিলেন বহু মানুষ। স্বাগত ভাষণে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সেই মুহূর্তের কথা তুলে ধরেন ফিল্ড আর্মির ডেপুটি কমান্ডার মেজর জেনারেল জন কেন্ডাল। তাঁর কথায়, ‘১৯১৪ সালের ১৫ লক্ষ ভারতীয় যুদ্ধে লড়েছিলেন। বছরের শেষদিকে ওয়েস্টার্ন ফ্রন্টে তিনজন সেনার মধ্যে একজন ভারতীয় ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ২০ শতাংশই শিখ।’ যুদ্ধে যাওয়ার আগে বিশেষ প্রার্থনা করতেন শিখ সৈনিকরা। এদিন কুচকাওয়াজের আগে আগে সেটাই করলেন অংশগ্রহণকারীরা। ‘বোলে সো নিহাল, সাত শ্রী অকাল’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে চারিদিক। 
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের উর্দি পরেছিলেন মিছিলে অংশগ্রহণকারী শিখ সৈনিকরা। সঙ্গে ছিল লি এনফিল্ড রাইফেলের মতো সমরাস্ত্র।  ট্রুপ ক্যাপ্টেন মেজর দলজিন্দর সিং বলেন, ‘ব্রিটিশ সশস্ত্র বাহিনীতে থাকা শিখদের একত্র করতেই এই উদ্যোগ। শিখ সৈনিকদের আত্মবলিদান ভুলতে দেওয়া যায় না।’ বার্মিংহাম-এজবাস্টনের সাংসদ প্রীত কাউর গিলের কথায়, ‘এখানে উপস্থিত থাকতে পেরে খুব ভালো লাগছে। তখনকার সামরিক উর্দি দেখে নতুন প্রজন্ম অনেক কিছু শিখবে, জানবে।’
মিছিল, প্রার্থনার সঙ্গে ওয়েস্টার্ন ফ্রন্টে শিখ সৈনিকদের সাহসিকতার কাহিনি তুলে ধরেন অতিথিরা। যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পাঞ্জাবে পরিবারকে ছিঠি লিখে পাঠিয়েছিলেন জামেদার ইন্দ্র সিং। গর্বের সঙ্গে শহিদদের নাম পড়ে শোনান ইলফোর্ডের এমপি জস আথওয়াল। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে নিহত শিখ সৈনিকদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। অনুষ্ঠানের শেষে ১৯১৪ শিখস, ব্রিটিশ সেনা, শিখ মিলিটারি ফাউন্ডেশন ও শিখ ডিফেন্স নেটওয়ার্কের মধ্যে মউ স্বাক্ষরিত হয়। এর মাধ্যমে লন্ডন ডিস্ট্রিক্ট টিমের সদস্য হল ১৯১৪ শিখস সেরিমোনিয়াল মার্চিং ট্রুপ। সব মিলিয়ে চোখের সামনে এক টুকরো পাঞ্জাব দেখতে পেলেন লন্ডনবাসী।

সম্পর্কিত সংবাদ