পাটনা: পুলিসে চাকরি করার স্বপ্ন নিয়ে হোমগার্ডের পরীক্ষা দিতে হাজির হয়েছিলেন এক যুবতী। বুদ্ধগয়ার বিহার মিলিটারি পুলিস-৩ (বিএমপি-৩) ময়দানে চলছিল শারীরিক সক্ষমতার পরীক্ষা। চড়া রোদে দৌড়নোর সময় অচৈতন্য হয়ে পড়ে যান তিনি। তড়িঘড়ি ডাকা হয় অ্যাম্বুলেন্স। কিন্তু যাদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কথা, তাদেরই লালসার শিকার হতে হল ২৬ বছরের ওই যুবতীকে। সেটাও চলন্ত অ্যাম্বুলেন্সেই। অ্যাম্বুলেন্স চালক ও তাঁর সহকারীর বিরুদ্ধে গণধর্ষণের অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা বিহারে। গয়া জেলার ওই ঘটনায় ইতিমধ্যেই দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। তাতে রাজনৈতিক উত্তাপ কমেনি। সামনেই বিহারের বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে এই ঘটনায় রাজ্যের ডাবল ইঞ্জিন সরকারকে একহাত নিয়েছেন বিরোধী দলনেতা তেজস্বী যাদব। কটাক্ষ কংগ্রেসেরও।
জানা যাচ্ছে, ঘটনাটি বৃহস্পতিবারের। নির্যাতিতা পুলিসের কাছে জানিয়েছেন, ‘ফিজিক্যাল টেস্টের সময় মাথা ঘুরে পড়ে যাই। আমাকে কিছুক্ষণ ওখানে বসিয়ে গ্রাউন্ডে থাকা অ্যাম্বুলেন্স ডেকে পাঠানো হয় হাসপাতালে। মাঠ থেকে বেরতেই চালক এবং টেকনিশিয়ান অ্যাম্বুলেন্স থামিয়ে আমার গলা থেকে অ্যাডমিট কার্ডটি খুলে নেয়। তারপর গেটে খোঁজখবর নেয়, আমার সঙ্গে কেউ এসেছেন কি না। কাউকে সেখানে না পেয়ে অ্যাম্বুলেন্স রওনা হয় হাসপাতালের দিকে। কিন্তু গাড়ি খানিক এগতেই চিকিৎসার বাহানায় আমার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় খারাপভাবে স্পর্শ করতে থাকে ওই টেকনিশিয়ান। এরপর মুখের দিকে তাক করে সে কিছু একটা স্প্রে করে দেয়। তাতে আমার শরীর পুরো অবশ হয়ে যায়। শুধু কিছু আওয়াজ শুনতে পাচ্ছিলাম। চলন্ত অ্যাম্বুলেন্সেই ওই টেকনিশিয়ান ধর্ষণ করে আমাকে।’ পরে সিকরিয়া মোড়ে একটি শুনসান জায়গায় অ্যাম্বুলেন্স থামিয়ে ওই যুবতীকে ধর্ষণ করে ড্রাইভারও। দুষ্কর্ম শেষে তারা মগধ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পৌঁছে দেয় নির্যাতিতাকে। ইমার্জেন্সি ওয়ার্ডে প্রাথমিক চিকিৎসারর সময়ই তাঁর হুঁশ ফেরে। তখনই বুঝতে পারেন তাঁর সঙ্গে কী হয়েছে!
এরপরেই পুলিসকে গোপনাঙ্গে ও পেটে তীব্র ব্যথার কথা জানান ওই যুবতী। নির্যাতিতার মেডিক্যাল টেস্ট করানো হয়। সেই পরীক্ষায় যৌন নির্যাতনের অভিযোগের প্রমাণ মিলেছে বলে খবর। বিহার পুলিসের দাবি, গণধর্ষণের অভিযোগ পেয়েই দ্রুত তৈরি করা হয় বিশেষ তদন্তকারী দল। এলাকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেন ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা। মেডিক্যাল রিপোর্ট ও সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে শনাক্ত করা হয় অভিযুক্তদের। তারপরই উত্তর গয়ার বাসিন্দা অভিযুক্ত অ্যাম্বুলেন্স চালক বিনয় কুমার ও তাঁর সহকারী নালন্দা নিবাসী অজিত কুমারকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। সূত্রের খবর, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে আরও দু’জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
অ্যাম্বুলেন্সে গণধর্ষণের ঘটনায় উত্তাল ভোটমুখী বিহার। বিরোধী দলনেতা তেজস্বী যাদব এক্স হ্যান্ডলে তীব্র আক্রমণ করেছেন নীতীশ কুমারের সরকারকে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ট্যাগ করে তিনি লিখেছেন, ‘বিহারের পরিস্থিতিকে কি জঙ্গলরাজ বলবেন? নাকি অপরাধীদের দ্বারা সংরক্ষিত দুরাচারীরাজ? মোদি-নীতীশের রাক্ষসরাজে প্রতিদিনই মা-বোনেদের উপর অত্যাচার চলছে। কিন্তু উপমুখ্যমন্ত্রী বা মন্ত্রিসভার সদস্যদের কারও মুখ খোলার সাহস নেই।’ প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি রাজেশ কুমারের অভিযোগ, ‘বোধগয়ার ঘটনা গোটা রাজ্যজুড়ে আইন শৃঙ্খলার অবনতি আরও একবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল।’