


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বগ্রহণের মাহেন্দ্রক্ষণে সংসদে প্রবেশের মুখে নরেন্দ্র মোদি গণতন্ত্রের মন্দিরে সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করেছিলেন। ১২ বছর পর বুধবার সেই একই নাটকীয় মোড় দেখা গেল এরাজ্যের বিধানসভায়। নরেন্দ্র মোদির ঢঙেই বিধানসভার সিঁড়িতে মাথা ঠেকিয়ে প্রণাম করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বিধানসভা চত্বরে প্রবেশের মুহূর্তে তাঁকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। বি আর আম্বেদকরের মূর্তিতে মালা দিয়ে বিধানসভায় নিজের ঘরে পুজো করেন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিন থেকে শুরু হয়েছে জয়ী প্রার্থীদের শপথগ্রহণ পর্ব। সেই সূত্রে শাসক দলের পরিষদীয় নেতা তথা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রথম বিধায়ক হিসাবে শপথ নেন। চলতি ভোটে ভবানীপুর ও নন্দীগ্রাম দুই কেন্দ্র থেকে জিতেছেন শুভেন্দু। কৌতূহল ছিল তিনি কোন কেন্দ্রটি ছেড়ে দেন। প্রত্যাশামতো, বিধায়ক হিসাবে ভবানীপুরকেই বেছে নিলেন বিজেপি সরকারের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী। তৃণমূল সুপ্রিমোর ঘরে তাঁকে ১৫ হাজারের বেশি ভোটে হারানোর কৃতিত্ব জিইয়ে রাখতেই এই সিদ্ধান্ত। তবে নন্দীগ্রামের মানুষের প্রতি তাঁর দেওয়া সমস্ত প্রতিশ্রুতি তিনি পালন করবেন বলেও স্পষ্ট জানিয়েছেন সেখানকার বিদায়ী বিধায়ক।
উত্তরবঙ্গ, মুর্শিদাবাদ, নদীয়া ও দুই ২৪ পরগনার জয়ী প্রার্থীরা এদিন শপথ নেন। তাঁদের শপথ বাক্য পাঠ করান প্রোটেম স্পিকার তাপস রায়। বিধানসভার স্পিকার নির্বাচন আগামীকাল শুক্রবার। মুখ্যমন্ত্রীর মতোই এবারের নির্বাচনে দুটি কেন্দ্র থেকে লড়ে জয়ী হন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবির। এদিন তিনি রেজিনগরের বিধায়ক হিসাবে শপথ নেন। নওদা কেন্দ্র এদিন ছেড়ে দিলেন তৃণমূলের প্রাক্তন এই বিধায়ক।
গত ১৫ বছরে পরিচিত ট্রেজারি বেঞ্চ থেকে শাসক পক্ষের জন্য বরাদ্দ আসন গেরুয়া উত্তরীয়ধারী জয়ী বিজেপি প্রার্থীদের কবজায় চলে আসে। কয়েকজন তৃণমূলের বিধায়ক এদিন শপথ নিলেও সবসময় তাঁরা ছিলেন রীতিমতো গুটিয়ে। জোড়াফুল প্রতীকের অধিকাংশ বিধায়ক এদিন শপথবাক্য পাঠের আগে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে গিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। মালদহ জেলার বর্ষীয়ান বিধায়ক সময় মুখোপাধ্যায় শপথবাক্য পাঠের আগে অনেকক্ষণ মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন। তাঁকে দেখেই নিজের আসন ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে করজোড়ে নমস্কার জানান শুভেন্দুবাবু। তারপর কাঁথির অধিকারী পরিবারের মেজছেলের মাথায় হাত দিয়ে আশীর্বাদ করতে দেখা যায় সময়বাবুকে।
এদিনের শপথে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রের প্রতিনিধিত্ব আইনসভায় উঠে আসে। উত্তরবঙ্গের বহু জয়ী বিজেপি প্রার্থী বিধায়ক হিসাবে রাজবংশি ভাষায় শপথ নেন। অম্লান ভাদুড়ী ও রাজু কর্মকার দুই গেরুয়া এমএলএ শপথ নেন সংস্কৃত ভাষায়। মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুসহ কয়েকজন জয়ী আদিবাসী প্রার্থী সাঁওতালি ভাষায় শপথ গ্রহণ করেন। দীর্ঘ পাঁচবছরের খরা কাটিয়ে এবার সিপিএম একটি আসনে পেয়েছে। লালপার্টির একমাত্র জয়ী প্রার্থী মুস্তাফিজুর রহমান এদিন শপথ নেন। প্রথম পর্বের শপথের পর মুখ্যমন্ত্রীর ঘরে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে যান প্রাক্তন সিপিএম বিধায়ক তন্ময় ভট্টাচার্য।
অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রীর দেখানো পথে এদিন থেকেই মুখ্যমন্ত্রীর কনভয়ে গাড়ির বহর কমে গিয়েছে। তেলের অপচয় রুখতে বাকি মন্ত্রী-বিধায়কদেরও একই পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। আজ বৃহস্পতিবারও চলবে অবশিষ্ট বিধায়কদের শপথগ্রহণ পর্ব। আগামীকাল শুক্রবার বিধানসভার স্পিকার নির্বাচন।