নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ইন্দ্রনীলের কালো টাকা ‘ট্রেল’ করাতেন মাস আর্ট সংস্থার সম্পাদক ধ্রুবজ্যেতি বসু ওরফে শুভ। টাকা সাদা করার জন্যই তিনি থার্ড লাইন ক্রিয়েশন নামে একটি সংস্থা খোলেন। টেন্ডারের আড়ালে কাটমানির কোটি কোটি টাকা এই কোম্পানির মাধ্যমে প্রাক্তন মন্ত্রী, তাঁর মেয়ের সংস্থা এবং মাস আর্টের অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে। তদন্তে নেমে চাঞ্চল্যকর এই তথ্য পেয়েছে দুর্গাপুজোর পাস দুর্নীতির তদন্তে গঠিত সিট। প্রাক্তন মন্ত্রীর ডানহাত বলে পরিচিত শুভ তথ্য সংস্কৃতি ও পর্যটন দপ্তর থেকে ৫০টির বেশি টেন্ডার পান বলে জানা গিয়েছে। এমনকি সাব-টেন্ডারও পেয়েছিলেন।
প্রাথমিকভাবে সিট জেনেছে, থার্ড লাইন ক্রিয়েশন থেকে ইন্দ্রনীলবাবু ও তাঁর মেয়ের অ্যাকাউন্টে এক কোটি ৫০ লক্ষের বেশি টাকা ঢুকেছিল। মাস আর্টে এসেছিল ৬৬ লক্ষ টাকা। শুভবাবু আরও কোম্পানি খুলেছিলেন। যেগুলি টাকা ঘোরানোর জন্য ইন্দ্রনীলবাবুর পরামর্শ মতো করা হয়েছিল বলে তদন্তকারীরা মনে করছেন। ওই কোম্পানিগুলির আয়ব্যয়ের নথি তদন্তকারীরা বিশ্লেষণ করছেন। এদিকে শুক্রবার সন্ধ্যায় ইন্দ্রনীল সেনকে তাঁর বাড়িতে নিয়ে গিয়ে তল্লাশি চালান সিটের আধিকারিকরা।
শুভকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তকারীরা জানতে পারছেন, ইউনেস্কোর লোগো ব্যবহার করে পরিকল্পনামতোই অনলাইনে পাস বিক্রি চলছিল। পাশাপাশি শুভ তদন্তকারীদের কাছে দাবি করেছেন, সমস্ত কিছুই ইন্দ্রনীল সেন জানতেন। তাঁর অফিসে বসেই সমস্ত কিছু ঠিক হয়েছে। জালিয়াতির বিষয় প্রাক্তন মন্ত্রীর অজানা নয়। মাস আর্টের পদাধিকারীর বয়ানে কার্যত বিপদ বাড়ছে মমতা ঘনিষ্ঠ প্রাক্তন বিধায়কের। পাশাপাশি ইন্দ্রনীলবাবু তাঁর সংস্থাকে সরকারি টেন্ডার পেতে সাহায্য করেছিলেন বলে শুভ তদন্তকারীদের কাছে কার্যত স্বীকার করে নিয়েছেন বলে খবর।



