মুম্বই: ২০ নভেম্বর মহারাষ্ট্র বিধানসভা নির্বাচন। ইতিমধ্যেই মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। মনোনয়নপত্রের সঙ্গে প্রার্থীরা তাঁদের যে সম্পত্তির হলফনামা জমা দিয়েছেন, তা থেকে উঠে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। ওই হলফনামা ঘাঁটলে দেখা যাচ্ছে, গত পাঁচ বছরে লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে শাসক জোটের নেতা-মন্ত্রীদের সম্পত্তি। কারও ৭৭২ শতাংশ তো কারও ৫৭৫ শতাংশ—গত পাঁচ বছরে শাসক জোটের নেতা-মন্ত্রীদের সম্পত্তি বৃদ্ধির পরিমাণ এমনই। পিছিয়ে নেই স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী একনাথ সিন্ধেও। গত পাঁচ বছরে তাঁর সম্পত্তি বেড়েছে ১৮৭ শতাংশ। তুলনায় দুই উপ মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার ও দেবেন্দ্র ফড়নবিশের সম্পত্তি বৃদ্ধির হার কম। অজিত ও দেবেন্দ্রর সম্পত্তি বেড়েছে যথাক্রমে ৪৪ ও ৫৬ শতাংশ। এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে ধনী প্রার্থী বিজেপির পরাগ শাহ। ঘাটকোপার পূর্ব আসন থেকে লড়াই করছেন বিদায়ী বিধায়ক। মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দেওয়া খতিয়ান অনুযায়ী, পরাগের সম্পত্তির পরিমাণ ৩ হাজার ৩০০ কোটি টাকা! গত পাঁচ বছরে ৫৭৫ শতাংশ সম্পত্তি বৃদ্ধি পেয়েছে পরাগের।
Advertisement
পরিসংখ্যান ঘাঁটলে দেখা যাচ্ছে, ২৭ জন বিদায়ী ক্যাবিনেট মন্ত্রীর সম্পত্তিই কমবেশি বেড়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে, গত পাঁচ বছরে ওই মন্ত্রীরা জমি ও ফ্ল্যাট কিনেছেন। মহিলা ও শিশু উন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী অদিতি তাতকারের ২০১৯ সালে মোট সম্পত্তির পরিমাণ ছিল ৩৯ লক্ষ টাকা। বর্তমানে তাঁর সম্পত্তি ৩ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা। বৃদ্ধির হার ৭৭২ শতাংশ! এর মধ্যে এক কোটি টাকা দিয়ে কেনা১২ একর কৃষিজমিও রয়েছে। পূর্তমন্ত্রী রবীন্দ্র চ্যবনের সম্পত্তি ৭ কোটি থেকে বেড়ে হয়েছে ১৫ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা। মৃত্তিকা ও জল সংরক্ষণমন্ত্রী সঞ্জয় রাঠোরের সম্পত্তি ৫ কোটি ৯ লক্ষ টাকা থেকে ২২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১৫ কোটি ৯ লক্ষ টাকা হয়েছে। ২০১৯ সালে মুখ্যমন্ত্রী একনাথ সিন্ধের ৭ কোটি ৮১ লক্ষ টাকার সম্পত্তি ছিল। আর বর্তমানে তাঁর সম্পত্তির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২২ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা।
রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার আগে রিয়েল এস্টেটের ব্যবসা ছিল পরাগের। ২০১৭ সালে বিজেপির টিকিটে কাউন্সিলার নির্বাচিত হন তিনি। তার দু’বছরের মধ্যেই বিধানসভা নির্বাচনেও টিকিট পান পরাগ। সেবার তিনি হলফনামায় জানিয়েছিলেন, তাঁর সম্পত্তির পরিমাণ ৫৫০ কোটি টাকার বেশি। আর এবারের নির্বাচনে তিনি যে হলফনামা জমা দিয়েছেন, তাতে পরাগ জানিয়েছেন, তাঁর স্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ৬৭ কোটি ৫৩ লক্ষা টাকা। অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ৩ হাজার ৩১৫ কোটি টাকার বেশি।
নেতা-মন্ত্রীদের এভাবে সম্পত্তি বৃদ্ধির বিষয়টি আয়কর দপ্তরের খতিয়ে দেখা উচিত বলে দাবি করেছেন সমাজকর্মী শৈলেশ গান্ধী। তাঁর দাবি, নেতা-মন্ত্রীদের আয়কর রিটার্নের সঙ্গে সম্পত্তি বৃদ্ধির সাযুজ্য রয়েছে কি না, তা দেখা উচিত।
রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার আগে রিয়েল এস্টেটের ব্যবসা ছিল পরাগের। ২০১৭ সালে বিজেপির টিকিটে কাউন্সিলার নির্বাচিত হন তিনি। তার দু’বছরের মধ্যেই বিধানসভা নির্বাচনেও টিকিট পান পরাগ। সেবার তিনি হলফনামায় জানিয়েছিলেন, তাঁর সম্পত্তির পরিমাণ ৫৫০ কোটি টাকার বেশি। আর এবারের নির্বাচনে তিনি যে হলফনামা জমা দিয়েছেন, তাতে পরাগ জানিয়েছেন, তাঁর স্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ৬৭ কোটি ৫৩ লক্ষা টাকা। অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ৩ হাজার ৩১৫ কোটি টাকার বেশি।
নেতা-মন্ত্রীদের এভাবে সম্পত্তি বৃদ্ধির বিষয়টি আয়কর দপ্তরের খতিয়ে দেখা উচিত বলে দাবি করেছেন সমাজকর্মী শৈলেশ গান্ধী। তাঁর দাবি, নেতা-মন্ত্রীদের আয়কর রিটার্নের সঙ্গে সম্পত্তি বৃদ্ধির সাযুজ্য রয়েছে কি না, তা দেখা উচিত।



