ইম্ফল: নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছিল জিরিবামের আশ্রয় শিবির থেকে অপহৃতদের। ছ’জনের মধ্যে তিনজনের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট সামনে এসেছে। এরা একই পরিবারের সদস্য। তাদের শরীরের নানা অংশে মিলেছে গভীর ক্ষত। কারও বা চোখ উপড়ে নেওয়া হয়েছে। কারও আবার দেহের বিভিন্ন অংশে মিলেছে কাটার দাগ। মৃতদের মধ্যেই ছিল তিন বছরের ছিঙ্কাগঙবা সিং। তার মাথার খুলিতে গুলি করা হয়েছে। তার ডান চোখেরও সন্ধান মেলেনি। রিপোর্টে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ছিঙ্কাগঙবার হাত ও শরীরের নানা অশে আঘাত করা হয়েছে। তার মা হিতোম্বি দেবীর (২৫) বুকে এবং পিছনে তিনটি গুলি করা হয়েছিল। ছিঙ্কাগঙবার ঠাকুমা ৬০ বছর বয়সি ওয়াই রানিদেবীর শরীরে পাঁচটি গুলি লেগেছিল। তাঁর মাথা, বুক, পেট এবং হাতে গুলি করা হয়। উল্লেখ্য, ১১ নভেম্বর নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সন্দেহভাজন কুকি গোষ্ঠীর সংঘর্ষের দিন জিরিবামের একটি আশ্রয় শিবির থেকে মেইতেইদের ছ’জনকে অপহরণ করা হয়। পরে বিভিন্ন জায়গা থেকে তাঁদের ছিন্নভিন্ন দেহ মেলে।
Advertisement
এদিকে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না মণিপুরে। এই অবস্থায় অশান্ত জিরিবাম সহ ছ’টি থানা এলাকায় সেনাবাহিনীর বিশেষ ক্ষমতা আইন আফস্পার পরিধি বাড়িয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে চেয়েছিল কেন্দ্র। এরই প্রতিবাদে পথে নামলেন মেইতেই মহিলারা। এই আইন প্রত্যাহারের দাবিতে সোমবার পূর্ব ইম্ফল জেলায় তাঁরা মিছিল করেন। তাঁদের হাতে ছিল ‘রাজ্য থেকে আফস্পা প্রত্যাহার করা হোক’ এবং ‘কঠোর আইন প্রয়োগ বন্ধ হোক’ লেখা প্লাকার্ড। এদিন কংবা বাজার থেকে মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয়ের উদ্দেশে মহিলারা রওনা হন। তিন কিলোমিটার যাওয়ার পর তাঁদের আটকায় নিরাপত্তা বাহিনী। এরপর মিছিলটি আবার কংবা বাজারে ফিরে যায়। সেখানেই জনসভা করেন মেইতেই মহিলারা।



