


সংবাদদাতা, ডোমকল: ‘একটা প্যান্ট সাড়ে চারশো। আর তিনটে নিলে হাজার টাকা! নিয়ে যান, নিয়ে যান।’ জিন্স প্যান্টের পসরা সাজিয়ে একনাগাড়ে চিৎকার করে চলেছেন মধ্যবয়স্ক এক বিক্রেতা। পাশেই সারি দিয়ে বিছিয়ে রাখা আছে প্রচুর শাড়ি। সেইসব শাড়ি দেখতে ব্যস্ত পাড়ার মহিলারা। ঈদ এগিয়ে আসতেই ডোমকল মহকুমার নৈশকালীন সাপ্তাহিক পাইকারি কাপড়ের হাটগুলিতে গভীর রাত পর্যন্ত এভাবেই উপচে পড়ছে ক্রেতাদের ভিড়। পাইকারি দরে খুচরো পোশাক কিনতে দলে দলে আসছেন আট থেকে আশি অনেকেই। ঝাঁ চকচকে শপিং মল কিংবা অনলাইন শপিংয়ের জামানায় কাপড়ের হাটে অল্প দামে পোশাক পাওয়ায় স্বস্তিতে সীমান্তবর্তী এলাকার দরিদ্র পরিবারগুলি।
হাতে গোনা আর মাত্র কয়েকটি দিন। তারপরেই ঈদ। মুসলিম শরিয়ত অনুসারে ঈদের দিন নতুন পোশাক পরাই রীতি। প্রতিবছর রমজান মাস শুরু হলে ঈদের বাজার শুরু হয়ে যায় কমবেশি সব বাজারেই। তবে অন্যান্য এলাকার তুলনায় মুর্শিদাবাদের রানিনগর, জলঙ্গি, সাগরপাড়া, ডোমকলের প্রত্যন্ত এলাকার বিপুল সংখ্যক পরিবারের অবস্থান দারিদ্র্য সীমার নীচে। তাই চাইলেও অনেকেই শহরের নামী দামি কাপড়ের দোকান বা মল থেকে পোশাক কিনতে পারেন না। এদিকে আবার অনেক পরিবারের কর্তাই ভিনরাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করেন। ঈদের আগে তাঁদের বাড়িতে ফেরার ঢল নেমে যায়। আর কর্তারা বাড়ি ফিরলেই ঈদের কেনাকাটায় বাজারে ভিড় বাড়ে। তবে শপিং মল, কিংবা বড় কাপড়ের দোকানের তুলনায় খানিকটা কম দামের কাপড়ের হাটে ভিড় জমান অনেকে। সাপ্তাহিক হাটে ঈদের মুখে তাই হাটগুলিতে তাঁতের কাপড় ছাড়াও বিপুল পরিমাণে রেডিমেড জিনিসের বিক্রি হচ্ছে। চুড়িদার, ফ্রক, নাইটি, কুর্তি, টপ, লেগিন্স থেকে কাপড়, ব্লাউজ, ওড়না, লুঙ্গি, গেঞ্জি, টি-শার্ট, পাঞ্জাবি, পাজামা, রুমালের বিকিকিনি ভালো। বিক্রিবাটা ভালোই হওয়ায় খুশি বিক্রেতারাও।
উল্লেখ্য, ডোমকল মহকুমার রানিনগর, সাগরপাড়া, ডোমকলে কাপড়ের হাট বসে সপ্তাহের একটি নির্দিষ্ট দিনে। ওইদিনে বিকেল থেকে শুরু হয়ে হাট চলে সারারাত। হাটগুলিতে দূর দূর থেকে পসরা সাজিয়ে পাইকারি দরে কাপড় বিক্রি করতে আসেন দোকানিরা। অন্যসময়ে সেখানে কাপড়ের দোকানের মালিকদের ভিড় থাকলেও পরবের সময়ে সেই হাটের দখল নেন সাধারণ ক্রেতারাও। স্বল্প দরে জামাকাপড় কিনতে অনেকেই ভিড় করেন সেখানে।
ডোমকলের সাবির বিশ্বাস বলেন, কেরলে শ্রমিকের কাজ করি। বছরভর বাইরেই থাকি। প্রতিবছর ঈদের সময় বাড়িতে আসি। দু’দিন আগেই বাড়িতে ফিরেছি। আজ ঈদের বাজার করতে এসেছি স্ত্রী, মেয়ে, মা, বাবাকে নিয়ে আমার সব মিলিয়ে তিন হাজার টাকার মধ্যেই বাজার হয়ে গিয়েছে। এত অল্প দরে অন্য কোথাও পাই না বলেই এই হাটে কেনাকাটা করতে এসেছি।
শরিফুল, টিঙ্কু, লুৎফর, জহির নামের ব্যবসায়ীরা বলেন, ভালোই বেচাকেনা চলছে। মানুষও আসছেন। দেখেশুনে কিনছেন। তবে আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই ভিড় আরও বাড়বে বলেই মনে হচ্ছে। • নিজস্ব চিত্র