Bartaman Logo
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শান্তিপুরের আসল তাঁতের তৈরি শাড়ি কিনতে এসে হতাশ হচ্ছেন ক্রেতারা

জোরকদমে পুজোর কেনাকাটা শুরু হয়ে গিয়েছে। বিখ্যাত শান্তিপুরের তাঁতের শাড়ির চাহিদা তুঙ্গে রয়েছে।

শান্তিপুরের আসল তাঁতের তৈরি শাড়ি কিনতে এসে হতাশ হচ্ছেন ক্রেতারা
  • ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রানাঘাট: জোরকদমে পুজোর কেনাকাটা শুরু হয়ে গিয়েছে। বিখ্যাত শান্তিপুরের তাঁতের শাড়ির চাহিদা তুঙ্গে রয়েছে। অন্য রাজ্য ও জেলা থেকে আসা ক্রেতারা হাতে বোনা আসল তাঁত জামদানি কিংবা বয়স্কদের জন্য উপযুক্ত মাঠা তাঁতের শাড়ি কিনতে এসে হতাশ হচ্ছেন। কারণ অনেকেই তা পাচ্ছেন না। এর প্রধার কারণ হিসাবে পাওয়ার লুমের দাপট এবং সস্তা শাড়ির রমরমাকেই দায়ী করছেন ক্রেতা ও বিক্রেতাদের একাংশ।

Advertisement

স্থানীয় তাঁতশিল্পী ও ব্যবসায়ীরা জানান, হস্তচালিত তাঁতশিল্প এখন বিলুপ্তির মুখে। তাঁদের মতে, বেশি উৎপাদন ও অধিক মুনাফার লোভে তাঁতিপাড়ায় পাওয়ার লুম ও র‍্যাপিয়ার লুম চালু হওয়ায় হস্তচালিত তাঁতশিল্প ধ্বংসের মুখে। এর প্রধান কারণ হল হস্তচালিত তাঁতযন্ত্রে শাড়ি তৈরি করতে বেশি সময় লাগে। মেশিনে তৈরি সস্তার শাড়ির দামের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছে না। ক্রেতারা সস্তার মেশিনের বাইরের রাজ্যে থেকে আসা শাড়ির দিকেই বেশি ঝুঁকছেন।
শান্তিপুরের তাঁতশিল্পীদের কথায়, যদিও মেশিন আসার পর তাঁতশিল্পীদের কোনো উন্নতি হয়নি। লাভের মুখ দেখেছেন কেবল বিত্তশালী একশ্রেণির ব্যবসায়ী। কারণ সাধারণ তাঁতশিল্পীদের পক্ষে বিপুল অর্থ খরচ করে পাওয়ারলুম বা রেপিয়ার লুম কেনা সম্ভব নয়। ফলে হাতে বোনা তাঁতের শাড়ি চাহিদার তুলনায় জোগান নেই বললেই চলে। সঠিক মজুরি না পেয়ে তাঁতিরা বাধ্য হয়ে হস্তচালিত তাঁত ছেড়ে পাওয়ারলুম বা র‍্যাপিয়ারলুমে শ্রমিকের কাজ করছেন। অনেকে আবার শ্রমিকের কাজে ভিন রাজ্যেও চলে গিয়েছেন। ফলে, অনেক ক্রেতা পুজোর সময় শান্তিপুরে তাঁতেরশাড়ি কিনতে এসে হতাশ হচ্ছেন।
এই বিষয়ে শান্তিপুর তাঁতবস্ত্র ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি তারক দাস বলেন, একসময় হতস্তচালিত তাঁতযন্ত্রে যে পরিমাণ শাড়ি তৈরি হত তার তুলনায় চাহিদা ছিল অনেক বেশি। ফলে, উৎপাদন বাড়ানোর জন্য বাজারে আসে পাওয়ারলুম। তবে হস্তচালিত তাঁতের শাড়ির চাহিদা এখনো রয়েছে। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ