নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বাঁকুড়ার শালতোড়া বিস্ফোরণ কাণ্ডে জড়িত সন্দেহে দু’জনকে গ্রেপ্তার করল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। অবৈধ খননের জন্য জিলেটিন স্টিক আনার সময় ফেটে গিয়ে তার থেকেই বিস্ফোরণ ঘটে। ভিন রাজ্য থেকেই এই বিস্ফোরক বেআইনিভাবে আনা হচ্ছিল বলে প্রাথমিক তদন্তের পর নিশ্চিত এনআইএ। বিস্ফোরক সরবরাহের পিছনে বড় মাথা কে রয়েছে, তা ধৃতদের জেরা করে জানার চেষ্টা করবেন তদন্তকারীরা।
চলতি বছরের আগস্ট মাসে শালতোড়া থানার লাপাহাড়ি মোড় লাগোয়া এলাকায় চলন্ত বাইকে বিস্ফোরণ ঘটে। সন্ধ্যায় এই বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা। সেখান থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় বাইক চালকের দেহ উদ্ধার হয়। বিস্ফোরণের অভিঘাতে বাইকটি টুকরো টুকরো হয়ে যায়। ঘটনায় মৃত্যু হয় জয়দেব মণ্ডল নামে বাইক চালকের। প্রথমে জেলা পুলিস তদন্ত শুরু করে। অভিযোগ ওঠে, জেলা পুলিস এটাকে সাধারণ বিস্ফোরণ বলে চালাতে চাইছে। পরে তদন্তভার যায় এনআইএ’র হাতে। ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত নমুনা পরীক্ষার পর তারা জানতে পারে উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন বিস্ফোরক ছিল বাইকের মধ্যে। চলন্ত বাইকের মধ্যে নাড়ানাড়ি হওয়ার কারণেই সেটি ফেটে যায়। বিস্ফোরণে নিহত জয়দেবের মোবাইল তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ক্লু হয়ে দাঁড়ায়। মোবাইলের সূত্র ধরে জানা যায়, ধনঞ্জয় গড়াই ও করিমুল খানের সঙ্গে ঘটনার দিন তার কথা হয়েছে। এমনকী তার আগেও দু’জনের সঙ্গে কথা বেশ কয়েকবার বলেছে জয়দেব। এখান থেকেই সন্দেহের সূত্রপাত হয়। তদন্তে উঠে আসে, ধনঞ্জয় ও করিমুলের মধ্যে বিস্ফোরক লেনদেন চলে। মূলত জিলেটিন স্টিক ও অন্য বিস্ফোরক আসছে। ফোন কলের সূত্র ধরে দুজনকে গ্রেপ্তার করে এনআইএ। তাদের জেরা করে তদন্তকারী জেনেছেন, জয়দেব ক্যারিয়ারের কাজ করত। জিলেটিন স্টিক সহ বিভিন্ন বিস্ফোরক বিভিন্ন জায়গা থেকে সে নিয়ে আসত তিনি। অবৈধ খননে জড়িতদের কাছে এই বিস্ফোরকগুলি পৌঁছত। ধনঞ্জয় ও করিমুল জেরায় এনআইকে জানিয়েছে, তারা অনেকদিন ধরেই বিস্ফোরকের কারবার করছে। ঝাড়খণ্ড, বিহার থেকে জিলেটিন স্টিক চুরি করে নিয়ে আসা হচ্ছে। সরকারি প্রকল্পে পাহাড় ফাটানোর জন্য ব্যবহৃত এই বিস্ফোরক চুরি যাচ্ছে এই দুই রাজ্য থেকে। সেখান থেকেই এই দুজন জিলেটিন স্টিক পাচ্ছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে আসছে। তাদের হাত ঘুরে বাঁকুড়ার বিভিন্ন অবৈধ খাদানে এই বিস্ফোরক যেত। এমনকী পাশের জেলায় চলা অবৈধ খাদানে তারা বিস্ফোরক সরবরাহ করছে বলে অনুমান করছেন তদন্তকারীরা। বিস্ফোরক কাদের কাছে তারা পেত জানতে দুজনকে জেরা করা হচ্ছে। বুধবার দুই অভিযুক্তকে এনআইএ’র বিশেষ আদালতে তোলা হলে তাদের পাঁচদিনের এনআইএ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।



