Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

শিল্পের ঝাঁপ বন্ধের তালিকায় শীর্ষে ডাবল  ইঞ্জিন রাজ্যগুলি, তুলনায় ‘পিছিয়ে’ বাংলা

শিল্পের ঝাঁপ বন্ধের তালিকায় শীর্ষে ডাবল  ইঞ্জিন রাজ্যগুলি, তুলনায় ‘পিছিয়ে’ বাংলা
  • ২৩ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
বাপ্পাদিত্য রায়চৌধুরী, কলকাতা: এরাজ্যে বড় বিনিয়োগ আসে না বললেই চলে। ভারী শিল্পের ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের নজর থাকে গুজরাত, মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ু বা কর্ণাটকের মতো রাজ্যগুলির দিকেই। তবে ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পের (এমএসএমই) ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গের স্থান একেবারে তালিকা-শীর্ষেই। শিল্পসংস্থার সংখ্যার নিরিখে বাংলার স্থান এক বা দু’নম্বরে ঘোরাফেরা করে। এমএসএমইর ক্ষেত্রে এই গরিমা বাংলার দীর্ঘদিনের। কিন্তু নানা কারণে ছোট শিল্পক্ষেত্রে যেসব সংস্থা ঝাঁপ বন্ধ করে দিয়েছে, সেই তালিকায় পশ্চিমবঙ্গ কোথায়? খোদ কেন্দ্রীয় সরকারের তথ্য বলছে, শিল্প গুটিয়ে ফেলার প্রশ্নে মহারাষ্ট্র, গুজরাত ও উত্তরপ্রদেশের মতো বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলির অবস্থান একেবারে প্রথম সারিতে। এই তালিকায় বাংলা অনেক পিছনে। দেশে গত চারবছরে বন্ধ হয়েছে ৬০ হাজারের বেশি শিল্প সংস্থা।
Advertisement
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের ঘোষিত নীতি হল—ব্যবসা করতে হবে ব্যবসায়ীদেরকেই। সেখানে সরকার কোনোরকম হস্তক্ষেপ করবে না। তবে সেই ব্যবসার ক্ষেত্রে  কোনও প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হলে অবশ্য তার মোকাবিলায় রাজ্য সরকার সাহায্য করবে। কিন্তু শিল্প সংস্থাগুলিকে ব্যবসার ক্ষেত্রে বাড়তি সুযোগ পাইয়ে দেওয়া বা তাতে নাক গলানোর কোনও মানসিকতা রাজ্যের নেই। সেই কারণেই এই মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গে বড় শিল্পের ক্ষেত্রে কোনও আর্থিক সুবিধা বা ইনসেনটিভ স্কিম নেই। ছোট শিল্পের ক্ষেত্রে অবশ্য সেই আর্থিক সুবিধা চালু আছে। ছোট শিল্প টিকিয়ে রাখতে অন্যান্য রাজ্য বিভিন্ন প্রকল্প চালু রেখেছে। কিন্তু তারপরেও সেখানে শিল্প গুটিয়ে ফেলার হার বাংলার চেয়ে ঢের বেশি। 
কেন্দ্রের ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প মন্ত্রকের তথ্য বলছে, ২০২০ অর্থবর্ষ থেকে এমএসএমই গুটিয়ে ফেলার তালিকায় সবচেয়ে আগে রয়েছে মহারাষ্ট্র। সেখানে ঝাঁপ বন্ধ হয়েছে ১৫ হাজারেরও বেশি শিল্পের। দ্বিতীয় স্থান তামিলনাড়ুর। সেখানে বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পসংস্থার সংখ্যা প্রায় ৮ হাজার। গুজরাতে প্রায় ৬ হাজার শিল্প বন্ধ হয়েছে গত চারবছরে। রাজস্থানের ক্ষেত্রে সেই সংখ্যা হাজার পাঁচেক। উত্তরপ্রদেশে চারবছরে ছোটশিল্প বন্ধ হয়েছে সাড়ে তিন হাজারের বেশি। সংখ্যাটি পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে তুলনায় অনেক কম—দু’হাজার মাত্র।
কেন্দ্রীয় সরকার অবশ্য দাবি করেছে, ছোট শিল্প বাঁচাতে তারা বিভিন্ন পদক্ষেপ করেছে। যেমন গ্যারান্টি ফান্ড ট্রাস্ট তৈরি করে পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত বন্ধকবিহীন ঋণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। নতুন প্রকল্প তৈরির ক্ষেত্রে ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে দেওয়া হচ্ছে কিছু আর্থিক ভর্তুকি। তাছাড়া ইমারজেন্সি ক্রেডিট লিঙ্ক গ্যারান্টি প্রকল্পে ঋণের গ্যারান্টার খোদ সরকারই। কিন্তু তারপরেও ছোট শিল্প সংস্থাগুলি লাভজনকভাবে টিকে থাকতে পারছে না। 
অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় পশ্চিমবঙ্গে ছোট শিল্পের ঝাঁপ বন্ধের হার কম কেন? বণিকসভা মার্চেন্টস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল শুভাশিস রায়ের কথায়, পশ্চিমবঙ্গে গত ৫০ বছরে বড় মাপের বিনিয়োগ আসেনি। তাই বাংলার অর্থনৈতিক বুনিয়াদ গড়ে উঠেছে ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পের হাত ধরেই। এসব ব্যবসার বেশিরভাগ চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন বাংলার ভূমিপুত্ররাই। তাই এই শিল্প বাংলার নিজস্ব সম্পদ। রাজ্য সরকারও এই শিল্পকে ধরে রাখতে যথেষ্ট আগ্রহী। আমরা বণিকসভার অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি, শিল্পক্ষেত্রে যেকোনও সমস্যায় প্রশাসনের দ্বারস্থ হলে তার সমাধান মেলে দ্রুত। তাই এখানে শিল্প সংস্থাগুলি টিকে থাকে। বাংলায় ছোট শিল্পে নতুন লগ্নিও আসে এই কারণে।
সম্পর্কিত সংবাদ