নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: লক্ষ্য কর্মসংস্থান। নতুন নতুন ক্ষেত্রে বেকার যুবক-যুবতীদের চাকরি। রাজ্যের মানুষকে স্বনির্ভর করা। আর সেই কারণেই রাজ্যে শিল্প প্রসারে উদ্যোগী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। বিনিয়োগ টানতে আয়োজন করছেন বাণিজ্য সম্মেলনের। পাশাপাশি, বুধবার নবান্ন থেকে তিনি রাজ্যজুড়ে ছ’টি ফ্রেট করিডর বা পণ্যবাহী করিডর তৈরির কথাও ঘোষণা করেছেন। যেখানে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে জঙ্গলমহলের জেলাগুলিকে। বিশেষ করে পুরুলিয়ার রঘুনাথপুরে প্রায় ৭২হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণায় ব্যাপক উজ্জীবিত জেলার শিল্প মহল।
Advertisement
ক্ষমতায় আসার পর থেকেই জেলায় শিল্প প্রসারে ব্যাপক উদ্যোগী হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভারী শিল্পের পাশাপাশি তিনি ব্যাপক জোর দিয়েছেন ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পের উপর। এবছর বিশ্ব বাণিজ্য সম্মেলনে রাজ্যে চার লক্ষ কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রস্তাব পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বুধবার তিনি শুনিয়েছেন, রাজ্যে মোট ছ’টি পণ্যবাহী করিডর হবে। তারমধ্যে পুরুলিয়ার রঘুনাথপুর থেকে বাঁকুড়া, মেদিনীপুর হয়ে পূর্ব মেদিনীপুরের তাজপুর পর্যন্ত পণ্যবাহী করিডর হবে। পুরুলিয়া থেকে কলকাতার জোকা পর্যন্তও পণ্যবাহী করিডর হবে। মুখ্যমন্ত্রীকে বলতে শোনা যায়, ‘রাস্তার দু’পাশ দিয়ে ইন্ডাস্ট্রি তৈরি হবে। বহু মানুষের কর্মসংস্থান হবে।’
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘রাজ্যের নিজস্ব ল্যান্ড ব্যাঙ্ক রয়েছে। জমি দেওয়া ছাড়াও পণ্যবাহী করিডরের প্রাথমিক খরচ হিসেবে ৪৪০০ কোটি টাকা রেখে দিয়েছি।’ সেইসঙ্গে তিনি জানান, পুরুলিয়ার রঘুনাথপুরে ৭২হাজার কোটি টাকা খরচে ইতিমধ্যে জঙ্গলমহল সুন্দরী কর্মনগরী গড়ে তোলা হচ্ছে। ওখানে গড়ে উঠবে একাধিক কারখানা। প্রশাসন সূত্রের খবর, রঘুনাথপুরের ২৬৫৬ একর জমিতে গড়ে উঠছে কর্মনগরী। কয়লা, স্টিল, লেদার হাব থেকে শুরু করে বহু কারখানা গড়ে উঠবে সেখানে। এরফলে আগামীতে ওই এলাকায় প্রায় দেড় লক্ষের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান হবে। অমৃতসর থেকে কলকাতা পর্যন্ত যে শিল্প করিডর তৈরি হচ্ছে, তার মাধ্যমে রঘুনাথপুরের কর্মনগরীতে বাণিজ্য সম্ভাবনা আরও বাড়বে। আগামী দিনে রুখাশুখা ‘গরিব’ পুরুলিয়াই রাজ্যের অন্যতম শিল্পনগরী হয়ে উঠতে চলছে।
মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণায় ব্যাপক উজ্জীবিত জেলার শিল্প মহল। বেঙ্গল ন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির এগজিকিউটিভ কমিটির সদস্য চন্দন বসু বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণায় আমরা অত্যন্ত আশাবাদী। রাজ্যজুড়ে একাধিক অর্থনৈতিক ও পণ্যবাহী করিডর হচ্ছে। শিল্পোন্নয়নের জন্য সড়ক পরিকাঠামোর উন্নতি অত্যন্ত প্রয়োজন। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা মতো এই পণ্যবাহী করিডর হলে পুরুলিয়া, বাঁকুড়া ঝাড়গ্রাম, মেদিনীপুরের মতো জঙ্গলমহলের জেলাগুলির ব্যাপক উন্নতি হবে।’
তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের পুরুলিয়ার জেলা সভাপতি উজ্জ্বল কুমার বলেন, ‘বাম আমলে রাজ্যের হাজার হাজার ছোটবড় কারখানা বন্ধ হয়েছে। লক্ষাধিক মানুষ কাজ হারিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফের রাজ্যে শিল্পের প্রসারে উদ্যোগী হয়েছেন। তাঁর হাত ধরেই ঘুরে দাঁড়াবে পুরুলিয়া। কেউ আর বলবে না পুরুলিয়া পিছিয়ে থাকা একটি জেলা।’
তবে, এনিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়ছে না বিজেপি। বিজেপির জেলা সভাপতি বিবেক রাঙা বলেন, ‘ওটা ফ্রেট করিডর না, ফেক করিডর। প্রতি বছর তিনি এধরনের মিথ্যা শিল্পের গল্প বহু শুনিয়ে আসছেন। কিন্তু, শিল্প আসেনি। বরং যা শিল্প ছিল, সেইসব বন্ধ হয়ে গিয়েছে। আমরা আগামী দিনে সরকারে এসে শিল্প গড়ব।’ এনিয়ে অবশ্য তৃণমূলের পাল্টা কটাক্ষ, কুঁজোরও তো চিত হয়ে শোয়ার ইচ্ছা হয়। কিন্তু, তা কি পূরণ হয়?
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘রাজ্যের নিজস্ব ল্যান্ড ব্যাঙ্ক রয়েছে। জমি দেওয়া ছাড়াও পণ্যবাহী করিডরের প্রাথমিক খরচ হিসেবে ৪৪০০ কোটি টাকা রেখে দিয়েছি।’ সেইসঙ্গে তিনি জানান, পুরুলিয়ার রঘুনাথপুরে ৭২হাজার কোটি টাকা খরচে ইতিমধ্যে জঙ্গলমহল সুন্দরী কর্মনগরী গড়ে তোলা হচ্ছে। ওখানে গড়ে উঠবে একাধিক কারখানা। প্রশাসন সূত্রের খবর, রঘুনাথপুরের ২৬৫৬ একর জমিতে গড়ে উঠছে কর্মনগরী। কয়লা, স্টিল, লেদার হাব থেকে শুরু করে বহু কারখানা গড়ে উঠবে সেখানে। এরফলে আগামীতে ওই এলাকায় প্রায় দেড় লক্ষের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান হবে। অমৃতসর থেকে কলকাতা পর্যন্ত যে শিল্প করিডর তৈরি হচ্ছে, তার মাধ্যমে রঘুনাথপুরের কর্মনগরীতে বাণিজ্য সম্ভাবনা আরও বাড়বে। আগামী দিনে রুখাশুখা ‘গরিব’ পুরুলিয়াই রাজ্যের অন্যতম শিল্পনগরী হয়ে উঠতে চলছে।
মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণায় ব্যাপক উজ্জীবিত জেলার শিল্প মহল। বেঙ্গল ন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির এগজিকিউটিভ কমিটির সদস্য চন্দন বসু বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণায় আমরা অত্যন্ত আশাবাদী। রাজ্যজুড়ে একাধিক অর্থনৈতিক ও পণ্যবাহী করিডর হচ্ছে। শিল্পোন্নয়নের জন্য সড়ক পরিকাঠামোর উন্নতি অত্যন্ত প্রয়োজন। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা মতো এই পণ্যবাহী করিডর হলে পুরুলিয়া, বাঁকুড়া ঝাড়গ্রাম, মেদিনীপুরের মতো জঙ্গলমহলের জেলাগুলির ব্যাপক উন্নতি হবে।’
তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের পুরুলিয়ার জেলা সভাপতি উজ্জ্বল কুমার বলেন, ‘বাম আমলে রাজ্যের হাজার হাজার ছোটবড় কারখানা বন্ধ হয়েছে। লক্ষাধিক মানুষ কাজ হারিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফের রাজ্যে শিল্পের প্রসারে উদ্যোগী হয়েছেন। তাঁর হাত ধরেই ঘুরে দাঁড়াবে পুরুলিয়া। কেউ আর বলবে না পুরুলিয়া পিছিয়ে থাকা একটি জেলা।’
তবে, এনিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়ছে না বিজেপি। বিজেপির জেলা সভাপতি বিবেক রাঙা বলেন, ‘ওটা ফ্রেট করিডর না, ফেক করিডর। প্রতি বছর তিনি এধরনের মিথ্যা শিল্পের গল্প বহু শুনিয়ে আসছেন। কিন্তু, শিল্প আসেনি। বরং যা শিল্প ছিল, সেইসব বন্ধ হয়ে গিয়েছে। আমরা আগামী দিনে সরকারে এসে শিল্প গড়ব।’ এনিয়ে অবশ্য তৃণমূলের পাল্টা কটাক্ষ, কুঁজোরও তো চিত হয়ে শোয়ার ইচ্ছা হয়। কিন্তু, তা কি পূরণ হয়?



