Bartaman Logo
১৬ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শিল্পাঞ্চলের মাটির গুণে রক্ষা পাচ্ছে অনেক অবৈধ বহুতল

শিল্পাঞ্চলের মাটির গুণে রক্ষা পাচ্ছে অনেক অবৈধ বহুতল
  • ২১ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: কলকাতার বাঘাযতীনে হেলেপড়া বহুতল দেখে বুক কেঁপে উঠেছিল আসানসোল, দুর্গাপুরের বাসিন্দাদের। সেখানে জলাভূমি ভরাট করে বহুতল নির্মাণের জেরে বিপত্তি বলে অভিযোগ উঠছে। শিল্পাঞ্চলেও পুকুর জলাশয় ভরাট করে একের পর এক নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে। এখানে পরিস্থিতি আরও ভয়ঙ্কর হতে পারত। কিন্তু অবৈধ নির্মাণকারীদের সাথ দিয়েছে এখানের মাটির গুণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, তাঁদের দাবি কালকাতার মতো মাটি হলে কবেই একের পর এক বিল্ডিং ধসে যেত শিল্পাঞ্চলে। অবৈধ নির্মাণ আজও দাঁড়িয়ে আছে শিল্পাঞ্চলের পাথুরে মাটির জোরে। 
Advertisement
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আসানসোল পুরসভার এক ইঞ্জিনিয়ার বলেন, বিয়ারিং ক্যাপাসিটি অব সয়েল বলে একটি পরিমাপ রয়েছে। এক বর্গমিটার জমি কতটা ওজন দিতে পারবে তাকেই বলা হয় মাটির বিয়ারিং ক্যাপাসিটি। আসানসোলের মাটির বিয়ারিং ক্যাপসিটি ১০-১৫। অর্থাৎ এক বর্গমিটার মাটি ১০ থেকে ১৫ টন লোড দিতে পারে। সেখানে কালকাতার এঁটেল মাটি ৫ টন লোড নিতেই হিমশিম খায়। তাই জলাভূমি ভরাট করেও বহুতল ভেঙে পড়ার ঘটনা এখনও ঘটেনি শিল্পাঞ্চলে। কিন্তু কলকাতার একের পর এক বহুতল দুর্ঘটনা এবং পুরদপ্তর ও বিভিন্ন পুরসভার কাজ নিয়ে খড়্গহস্ত খোদ মুখ্যমন্ত্রী। বিষয়টি মাথায় রেখেই শহরের নির্মাণ কার্য নজরদারিতে আরও কঠোর হচ্ছে দক্ষিণবঙ্গের দুই বৃহৎ পুরসভা।
আসানসোল পুরসভা সূত্রে দাবি করা হয়েছে, বেশকিছু অসাধু প্রমোটার নির্মাণ কাজ শেষ করার পরও কমপ্লিশন সার্টিফিকেট(সিসি) আবেদন করছেন না। কারণ, এই শংসাপত্র পুরসভা দেওয়ার আগে তাঁর নির্মাণ এলাকায় গিয়ে সরেজমিনে তদন্ত হয়। প্ল্যান অনুযায়ী বাড়িটি নির্মাণ হয়েছে কি না, যে পরিমাণ ফাঁকা জমি রাখা দরকার তা রাখা হয়েছে কি না তা দেখা হয়। অনেক ক্ষেত্রে প্ল্যান বর্হিভূত নির্মাণ হলে পুরসভা মোটা টাকা ফাইন করে। এর ফলে বিপজ্জনক অবৈধ নির্মাণ পুরসভার নজরে আসে। তাই প্রোমোটাররা সিসি শংসাপত্র পুরসভা থেকে না নিয়েই ফ্ল্যাট বিক্রি করে দিচ্ছে। এই বিষয়টি আটকাতে পুরসভা সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিসি না নেওয়া কোনও হাউসিং প্রজেক্টে জলের সংযোগ দেওয়া হবে না। এমনকী, সিসি না নিয়ে ফ্ল্যাট বিক্রি করা হলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। 
শহরের বহু ফ্ল্যাট মালিকের অভিযোগ, প্রোমোটাররা তাঁদের সিসি শংসাপত্র দিচ্ছে না। এর ফলে অন্য কাউকে ফ্ল্যাট বিক্রি করতে গিয়ে বিপাকে পড়ছেন। অনেক সময়েই অভিযোগ উঠছে, যে পরিমাণ জায়গায় গাছ লাগানোর কথা সেখানে ওপেন পার্কিং বানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আবার পার্কিং জায়গায় ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। আসানসোল পুরসভার মেয়র বিধান উপাধ্যায় বলেন, কোনও নিয়ম বহির্ভূত নির্মাণকে ছাড় দেওয়া হবে না। সিসি না নেওয়া আবাসনে জলের সংযোগ দিচ্ছি না। ভবিষ্যতে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে চলেছি। আমরা ভঙ্গুর বাড়িগুলি চিহ্নিত করে ভেঙে ফেলার নোটিস ইস্যু করছি। 
দুর্গাপুর পুরসভার প্রশাসক মণ্ডলীর চেয়ারম্যান অনিন্দিতা মুখোপাধ্যায় বলেন, অবৈধ নির্মাণের অভিযোগ পেয়ে তিনটি নির্মাণ ভাঙার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাঁরা নিজেরাই ভেঙে নিয়েছে। নিয়ম মেনে শহরে নির্মাণ করতে হবে। নির্মাণের পর প্রয়োজনীয় শংসাপত্র সংগ্রহ করতে হবে।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ