নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: সিলিকোসিস আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে পশ্চিম বর্ধমান জেলায়। মরণ রোগে এখনও পর্যন্ত দু’জনের মৃত্যু হয়েছে আক্রান্ত চারজন। বুধবারই স্বাস্থ্যদপ্তর সহ সংশ্লিষ্ট সবপক্ষকে নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করেন জেলাশাসক পোন্নমবলম এস। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, যে সব কারখানা থেকে সিলিকোসিস হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, সেগুলিকে প্রথমে চিহ্নিত করা হবে। তারপর স্বাস্থ্য ও শ্রমদপ্তরের আধিকারিক, জেলা প্রশাসন দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের প্রতিনিধিরা একযোগে কারখানাগুলি পরিদর্শন করবে। স্পঞ্জ আয়রন কারখানার পাশাপাশি বিভিন্ন ক্র্যাশার ইউনিটগুলিও পরিদর্শনে যাবে প্রশাসনিক আধিকারিকরা। তারপরই প্রয়োজনে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
Advertisement
কঠোর পদক্ষেপের পাশাপাশি রোগ নিয়ন্ত্রণ ও চিহ্নিতকরণের জন্য একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। প্রথমত, ফ্যাক্টরিগুলিকে নিয়ে ওয়ার্কশপের আয়োজন করা হবে। সেখানে মালিকপক্ষকে জানানো হবে, তাঁদের কী কী করা বাধ্যতামূলক। শ্রমিকদেরও জানানো হবে, কী কী সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। দ্বিতীয়ত, যে সব ফ্যাক্টরিতে অত্যাধিক দূষণ হয়, সেখানে গিয়ে মেডিক্যাল ক্যাম্প করা হবে। সেখানকার কর্মরত শ্রমিকদের শরীরে টিবি, সিলিকোসিস দানা বেঁধেছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হবে। জেলাশাসক বলেন, সিলিকোসিস অত্যন্ত ভয়ঙ্কর রোগ। আমরা কারখানাগুলিতে যৌথ পরিদর্শন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তাদের নিয়ে ওয়ার্কশপ, মেডিক্যাল ক্যাম্পও করানো হবে। সিলিকোসিস রোগ নিয়ে এখন রীতিমতো আতঙ্কে শিল্পাঞ্চল। এই রোগ হলে নিশ্চিত মৃত্যু। মানছে স্বাস্থ্যদপ্তরও। চিকিৎসক মহলের দাবি, পাথর ভাঙা মেশিনে যে সুক্ষ্ম সিলিকা কনা থাকে তা শ্বাসনালির মাধ্যমে ফুসফুসে ঢোকে। ফুসফুসে থাকা মাইক্রোফাজের সঙ্গে বিক্রিয়ার ফলে ফুসফুসে ক্ষতের সৃষ্টি হয়। ধীরে ধীরে ফুসফুস বিকল হয়ে যায়। এই রোগ ধরা পড়লেও নিরাময়ের কোনও চিকিৎসা এখনও জানা যায়নি। তাই আক্রান্ত রোগীকে সরকারি সাহায্য দেওয়া হয়। স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বছর একজন সিলিকোসিস রোগী চিহ্নিত হয়েছিল। তিনি মারা গিয়েছেন। ৮ জানুয়ারি সিলিকোসিস চিহ্নিতকরণে মেডিক্যাল বোর্ড বসেছিল। সেখানে আরও চারজনকে আক্রান্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়। তারপরই মাঝে আরও একজন ক্র্যাশার শ্রমিকের মৃত্যু হয়। তাঁরও সিলিকোসিসের কারণে মৃত্যু হয়েছে বলে জানা যায়। এরপরই প্রশাসনিক তৎপরতা তুঙ্গে ওঠে। স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, আরও কিছু সিলিকোসিস সন্দেহভাজনদের খোঁজ পাওয়া গিয়েছে। তাঁদের চিহ্নিত করার জন্য চলতি মাসেই আসানসোল জেলা হাসপাতালে মেডিক্যাল বোর্ড বসবে।
কিন্তু কেন বাড়ছে সিলিকোসিস? উত্তর খুঁজতে গিয়ে ভুরি ভুরি অভিযোগ ওঠে আসছে। কোনও এলাকায় ক্র্যাশার গড়তে হলে পরিবেশ দপ্তর এমনকী, স্বাস্থ্যদপ্তরেরও ছাড়পত্র লাগে। ক্র্যাশারে ব্যবহৃত কনভেয়ার বেল্ট ঢেকে রাখতে হয়। সর্বক্ষণ জল স্প্রে করতে হয়। শিল্পাঞ্চলে সে সবের বালাই নেই। সালানপুর থেকে জামুড়িয়া সর্বত্র ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠেছে ক্র্যাশার। অনেকে ট্রেড লাইসেন্স না নিয়েই কোটি কোটি টাকার ব্যবসা চালাচ্ছে।
অবশেষে টনক নড়েছে জেলা প্রশাসনের। ঘুম ভেঙেছে দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদেরও। এখন দেখার প্রশাসনিক যৌথ অভিযানের পর কোনও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার সাহস প্রশাসন দেখায় কিনা। কেননা, ক্র্যাশার শিল্পের পিছনে প্রভাবশালীদের ভূমিকা কম নয়, গুঞ্জন শিল্পাঞ্চলে।
কিন্তু কেন বাড়ছে সিলিকোসিস? উত্তর খুঁজতে গিয়ে ভুরি ভুরি অভিযোগ ওঠে আসছে। কোনও এলাকায় ক্র্যাশার গড়তে হলে পরিবেশ দপ্তর এমনকী, স্বাস্থ্যদপ্তরেরও ছাড়পত্র লাগে। ক্র্যাশারে ব্যবহৃত কনভেয়ার বেল্ট ঢেকে রাখতে হয়। সর্বক্ষণ জল স্প্রে করতে হয়। শিল্পাঞ্চলে সে সবের বালাই নেই। সালানপুর থেকে জামুড়িয়া সর্বত্র ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠেছে ক্র্যাশার। অনেকে ট্রেড লাইসেন্স না নিয়েই কোটি কোটি টাকার ব্যবসা চালাচ্ছে।
অবশেষে টনক নড়েছে জেলা প্রশাসনের। ঘুম ভেঙেছে দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদেরও। এখন দেখার প্রশাসনিক যৌথ অভিযানের পর কোনও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার সাহস প্রশাসন দেখায় কিনা। কেননা, ক্র্যাশার শিল্পের পিছনে প্রভাবশালীদের ভূমিকা কম নয়, গুঞ্জন শিল্পাঞ্চলে।



