নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: সোদপুরে ছাত্রীর শ্লীলতাহানির অভিযোগে সোমবার রাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন গৃহশিক্ষক। এবার গৃহশিক্ষককে মারধরের অভিযোগ শ্লীলতাহানির শিকার হওয়া ছাত্রীর বাবা ও দাদাকে গ্রেপ্তার করল ঘোলা থানার পুলিস। ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিস জানিয়েছে, এরমধ্যে বিতর্কের কোনও বিষয় নেই। ছাত্রীর পরিবারের অভিযোগ পেয়ে যেমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল, তেমন আইন হাতে তুলে নিয়ে গণপিটুনি দেওয়ার সঙ্গে যুক্তদের বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
Advertisement
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার সন্ধ্যায় সোদপুরের গৃহশিক্ষক রবীন দত্তের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছিল। তাঁর সোদপুর ভোম্বলা মোড়ের বাড়িতে দশম শ্রেণির ছাত্রী পড়তে গিয়েছিল। সেখানে শ্লীলতাহানি করা হয় বলে অভিযোগ। এরপর ছাত্রীর পরিবার ও স্থানীয়রা গৃহশিক্ষকের বাড়িতে চড়াও হয়েছিলেন। তাঁকে বাড়ি থেকে বের করে বেধড়ক মারধর করা হয়েছিল। ঘোলা থানার পুলিস গিয়ে ওই শিক্ষককে ঘটনাস্থলে থেকে উদ্ধার করে। পরে ছাত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই রবীনবাবুর বেশ কয়েক জন ছাত্রছাত্রী ও তাঁদের অভিভাবকরা রাতে ঘোলা থানার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখান। তাঁদের দাবি, গৃহশিক্ষকের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে। এমনকি, তাঁকে থানা থেকে ছাড়ানোর জন্যও মাস পিটিশনও জমা দেওয়া হয়। তাঁর এক ছাত্রী বলেন, উনি দীর্ঘদিন ধরে টিউশন পড়াচ্ছেন। কোনওদিন কোনও অসভ্য আচরণ উনি করেননি। স্যারকে ফাঁসানো হয়েছে। পুলিস সূত্রে খবর, মঙ্গলবারও ওই গৃহশিক্ষক প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযোগ খারিজ করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, ছাত্রী পড়াশোনা না পারায় তার কান মলে দিয়েছিলেন। সে কারণে রাগের বশে তাঁর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করা হয়েছে। যদিও নির্যাতিতা ছাত্রীর পরিবার শিক্ষকের দাবি উড়িয়ে দিয়েছে। তাঁদের দাবি, কোন অভিযুক্ত কবে দোষ স্বীকার করেছে। পুলিস নিগৃহীতার পরিবারের সদস্যদের গ্রেপ্তার করে পক্ষান্তরে ওই গৃহ শিক্ষককে বাঁচানোর চেষ্টা করছে। যদিও পুলিস জানিয়েছে, দুই পক্ষের অভিযোগ খতিয়ে দেখে পদক্ষেপ করা হচ্ছে।



