Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

শ্লীলতাহানির দায়ে বহিষ্কৃত নেতাকে ঘিরে সিপিএমে ধুন্ধুমার, সম্মেলনেই গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব

শ্লীলতাহানির দায়ে বহিষ্কৃত নেতাকে ঘিরে সিপিএমে ধুন্ধুমার, সম্মেলনেই গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব
  • ১১ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: যাদের নাকি শৃঙ্খলা ছাড়া হারাবার কিছু নেই, সেই সিপিএমের সম্মেলনে দুই গোষ্ঠীর বিবাদ একেবারে প্রকাশ্য কাদা ছোড়াছুড়ির পর্যায়ে নেমে এল। শুধু তাই নয়, বজ্রকঠিন শৃঙ্খলার পক্ষে সওয়াল করা পার্টি সদস্যদের চুলোচুলি, হাতাহাতির ভিডিও প্রকাশ্যে আনলেন এক তৃণমূল কাউন্সিলার! 
Advertisement
শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছিল সিপিএমের টালিগঞ্জ ২ এরিয়া কমিটির সম্মেলন। শনিবার ভোটাভুটির মাধ্যমে নতুন এরিয়া কমিটি গঠনের কথা ছিল। ওই এরিয়া কমিটিই কিছুদিন আগে দলের এক যুবনেতার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ ওঠায় তাঁকে বহিষ্কার করে। সূত্রের খবর, এরিয়া কমিটির এক সদস্য সম্মেলনে ওই বহিষ্কৃত নেতার হয়ে সওয়াল করতেই গোল বাধে। দু’পক্ষ তীব্র বিবাদে জড়িয়ে পড়ে। যুবনেতার বহিষ্কারের সিদ্ধান্তে সিলমোহর দিয়েছিল পার্টির কলকাতা জেলা সম্পাদকমণ্ডলী। তাই প্রশ্ন উঠছে, মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে যে দল সবমসয় সোচ্চার, সোশ্যাল মিডিয়া কাঁপাচ্ছে, সেই দলেরই কেউ কীভাবে অভিযুক্তর পক্ষ নিল? তন্ময় ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে অভিযোগের পর আলিমুদ্দিন এমনিতেই বিড়ম্বনায় রয়েছে। তারপর এই ঘটনায় সিপিএমের অস্বস্তি যে আরও বাড়ল, বলাই বাহুল্য। 
টালিগঞ্জ ২ এরিয়া কমিটির নবনির্বাচিত সম্পাদক জয় বসুর দাবি, ‘এরকম কিছুই হয়নি। তিন বছর অন্তর আমাদের সম্মেলন হয়। আমরাই নেতৃত্ব ঠিক করি। সেখানে কথা কাটাকাটি হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে তা প্রশমিত করা হয়েছে। সম্মেলনের বিষয়ে বাইরে বলা যায় না। তবে হাতাহাতি বা যা বলা হচ্ছে, পুরোটাই গল্পকথা। যা হয়েছে, তা অস্বাভাবিক কিছু নয়। পরে নিয়ম মেনেই সম্মেলনের কাজ শেষ হয়েছে।’ তবে এসব ‘কীর্তি’ শুনে রাজ্য কমিটির এক সদস্যর ছোট্ট মন্তব্য, ‘ননসেন্স’! সিপিএমের রাজ্য কমিটি এবং কলকাতা জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য সুদীপ সেনগুপ্ত বলেন, ‘আমাদের কনফারেন্সে ঝামেলা নতুন কিছু নয়। প্যানেল সংক্রান্ত কিছু বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়েছে বলে শুনেছি। যুবনেতা সোমনাথ ঝা’কে তো বহিষ্কার করা হয়েছে। মনে হয় না, ওঁর পক্ষে কেউ সওয়াল করেছেন। ওঁর শুভানুধ্যায়ী কেউ থাকতেই পারেন। তবে পার্টির মধ্যে তাঁর পক্ষে সওয়াল করার মতো সেরকম কেউ নেই।’
কিন্তু দলের সম্মেলনের খবর ও ভিডিও কীভাবে বিরোধী দলের হাতে চলে যাচ্ছে? এ বিষয়ে কি খোঁজখবর নিচ্ছে প্রমোদ দাশগুপ্ত ভবন? সুদীপবাবু বলেন, ‘মিটিংয়ের মধ্যে কারও সঙ্গে ঝামেলা হলে সেটা ভিডিও করে তৃণমূলের কাছে পাঠানো তো পার্টিবিরোধী কাজ। সুযোগ এলে এনিয়ে আমি পার্টিতে বলব।’ এরিয়া কমিটির সম্পাদক অবশ্য বলছেন, ‘অবাঞ্ছিত কেউ প্রবেশ করেছে কি না, দেখতে হবে। পার্টির অভ্যন্তরে এরকম কেউ করেছে বলে আপাতত মনে করছি না।’ নেতারা যা সাফাই দিন না কেন, একাধিক এরিয়া কমিটির সম্মেলনে এমন আড়াআড়ি বিভাজন ও তা সমাজ মাধ্যমে চলে আসা ‘নজিরবিহীন’ বলেই মনে করছেন সিপিএম কর্মী-সমর্থকদের বড় অংশ। লোকসভা হোক বা বিধানসভা, কোথাও দল খাতা খুলতে না পারলেও সম্মেলনে এই আকচাআকচি কেন, বহু বাম সমর্থকেরই তা বোধগম্য হচ্ছে না। 
সম্পর্কিত সংবাদ