Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শালবনীতে সংগঠন মজবুত করতে বুথ সম্মেলনের প্রস্তুতি তৃণমূলের

শালবনীতে সংগঠন মজবুত করতে বুথ সম্মেলনের প্রস্তুতি তৃণমূলের
  • ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর : শালবনী ব্লকে বুথস্তরে সংগঠন মজবুত করা একমাত্র লক্ষ্য তৃণমূলের নেতাকর্মীদের। সেই লক্ষ্যে শালবনী ব্লকে জোর কদমে বুথ সম্মেলন করার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। তবে, বুথ সম্মেলনে শুধু নেতাকর্মীরাই নন। সাধারণ মানুষের অভাব, অভিযোগের কথাও শুনবে তৃণমূল নেতৃত্ব।জানা গিয়েছে, ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে শালবনী ব্লক থেকে প্রায় ৩০টি বুথে পিছিয়ে পড়ে ঘাসফুল শিবির। বুথ সাংগঠনিক দুর্বলতার জন্যই বিভিন্ন বুথে এগিয়ে যায় বিজেপি। তৃণমূল নেতৃত্বের কথায়, ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনেও এই ব্লক থেকে লালগেড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েত গিয়েছে বিজেপির দখলে। এমনকি গত বছর মেদিনীপুর বিধানসভা উপ নির্বাচনেও এই ব্লকের পাঁচটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার ১১টি বুথে পিছিয়ে যায় তৃণমূল। তাই, বুথস্তরে সাংগঠনিক দুর্বলতা চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়েছে। একইসঙ্গে স্থানীয় নেতাদের জন সংযোগে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে জেলা নেতৃত্ব। রাজ্য তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক সন্দীপ সিংহ বলেন, খুব তাড়াতাড়ি বুথ সম্মেলন শুরু হবে। সাধারণ মানুষও এই সম্মেলনে উপস্থিত থাকবে। তাঁদের সমস্যা ও অভাব অভিযোগের কথা শোনা হবে। আগামী বিধানসভা নির্বাচনে ব্লকের ফলাফল আরও ভালো হবে বলে আশাবাদী। 
Advertisement
প্রসঙ্গত, শহরের পাশাপাশি গ্রামীণ এলাকায় সাধারণ মানুষ সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন। এরফলে বহু পরিবার উপকৃত হচ্ছেন। যা প্রতিটি নির্বাচনে বাড়তি অ্যাডভান্টেজ পাচ্ছে তৃণমূল। অপরদিকে, ২০২১ সালে হওয়া বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই বিরোধীদের সাংগঠনিক দুর্বলতা প্রকাশ্যে এসেছে একাধিকবার। প্রথমে পঞ্চায়েত ও পরে লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল তার প্রমাণ।  কিন্তু প্রতিটি নির্বাচনেই দেখা যাচ্ছে বিপুল ভোটে জয় এলেও কিছু কিছু বুথ এলাকায় তৃণমূল পিছিয়ে যাচ্ছে।  যার অন্যতম কারণ সাংগঠনিক দুর্বলতা। যা একেবারেই ভালো চোখে দেখেছে না জেলা নেতৃত্ব। একইসঙ্গে বুথ এলাকায় কর্মীদের মধ্যে গোষ্ঠীবাজি বিশেষ চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এক গোষ্ঠীর নেতা কর্মীরা অপর গোষ্ঠীর সঙ্গে দূরত্ব বাড়াচ্ছে। যার প্রভাব পড়েছে ভোট বাক্সে। সেই কথা মাথায় রেখেই বুথ সম্মেলন করার পরিকল্পনা বলে জানা গিয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শালবনী ব্লকে মোট ১৬০টি বুথ রয়েছে। তারমধ্যে বাকিবাঁধ, কাশিজোড়া, সাতপাটি, গড়মাল সহ বেশকিছু গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বুথে পিছিয়ে রয়েছে তৃণমূল। সেই বুথগুলিতে সম্মেলনে বিশেষ জোর দেওয়া হবে। একইসঙ্গে সাধারণ মানুষের কথা শুনেই স্থানীয় নেতৃত্ব বেছে নেওয়া হবে। সেক্ষেত্রে বেশকিছু নেতা কর্মী পদ হারাতে পারেন। তবে, জেলা বিজেপির মুখপাত্র অরূপ দাস বলেন, চোরদের সম্মেলন হবে। মানুষ দুর্নীতি বুঝতে পারছে। শালবনীর মানুষ সঠিক সময়ে যোগ্য জবাব দেবে।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ