Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শাল পিয়াল ঘেরা ঝাড়গ্রাম জুলজিক্যাল পার্কে থাকা বন্যপ্রাণীদের সংখ্যা বাড়ছে

শাল পিয়াল ঘেরা ঝাড়গ্রাম জুলজিক্যাল পার্কে থাকা বন্যপ্রাণীদের সংখ্যা বাড়ছে
  • ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: প্রাকৃতিক পরিবেশের মধ্যে ঝাড়গ্রাম জুলজিক্যাল পার্ক গড়ে উঠেছে। অরণ্যের এই পরিবেশ অন্যান্য চিড়িয়াখানা থেকে একে আলাদা করে দিয়েছে। বনবিভাগের তরফে বন্য প্রাণীদের জন্মহার বাড়াতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ উদ্যোগ। 
Advertisement
ঝাড়গ্রাম শহর লাগোয়া এলাকায় সাড়ে ২২ হেক্টর জায়গাজুড়ে পার্কটি রয়েছে। ঘন শাল পিয়ালের জঙ্গলের ভিতর পার্কটি গড়ে তোলা হয়েছিল। তার জেরে অরণ্যের নিজস্বতা এখানে পাওয়া যায়। বন্যপ্রাণীরা জঙ্গলের স্বাভাবিক নিয়মে নিজেদের সঙ্গী নির্বাচন করে নিতে পারে। রাজ্যের বেশিরভাগ চিড়িয়াখানায় বন্যপ্রাণীদের সে সুযোগ নেই। ঝাড়গ্রাম জুলজিক্যাল পার্কে থাকা নেকড়ে, নীল গাই, সম্বর, বার্কিং ডিয়ারের জন্মহার অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। পাখিদের ডিম পাড়া থেকে বাচ্চা বড় করে তোলার সময় পর্যন্ত সময়কালে কৃত্রিম বাসার পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। বর্তমানে ১৬টি ভিন্ন প্রজাতির ১৮৭টি স্তন্যপায়ী, ১২টি পৃথক প্রজাতির ১৫৩ টি সরীসৃপ, ১৮টি আলাদা প্রজাতির ৭৪টি পাখির বসবাস। পাখিদের মধ্যে দেখা মেলে রেড মুনিয়া, গোল্ডেন ওরিওলে, গ্রিন বি-ইটার, ক্রো ফেজেন্ট, পারপেল ও নাইট হেরন নানা জাতির পাখি রয়েছে। সরীসৃপদের মধ্যে আছে ইন্ডিয়ান পাইথন, কোবরা, বাফ স্ট্রাইপড কিলব্যাক, গেকো। স্তন্যপায়ী প্রাণীদের মধ্যে  ইন্ডিয়ান সিভেট, হায়েনা, জ্যাকেল, ফিশিং ক্যাট, জাঙ্গল ক্যাট, রেসাস ম্যাকাও, ফক্স, পর্কুপাইন, ল্যাঙ্গুর, নীলগাই, স্পটেড ডিয়ার, বার্কিং ডিয়ার রয়েছে। 
ঝাড়গ্রাম বনবিভাগের এক আধিকারিক বলেন, এখানকার বন্যপ্রাণীরা জঙ্গলের মধ্যেই রয়েছে বলে মনে করে। শাবক জন্ম দেওয়ার সময় বেশ কিছু প্রাণীকে মানুষের চোখের আড়ালে রাখা হয়। চিড়িয়াখানার কর্মীরা রাতে লুকিয়ে খাবার দেয়। যাতে তারা মনে করে জঙ্গলের ভিতরেই আছে। মানুষের কোলাহল এখানে নেই। অরণ্যের বন্যপ্রাণীদের মধ্যে সঙ্গী নির্বাচনে প্রতিযোগিতা রয়েছে। এই প্রক্রিয়া না থাকার কারণে বহু চিড়িয়াখানায় বনের প্রাণীদের জন্মহার কমে গিয়েছে। 
বন্যপ্রাণী রক্ষা সংগঠনের সদস্য শহরের ঘোড়াধরা এলাকার বাসিন্দা তাপস কর্মকার বলেন, সন্ধ্যার পর পার্কের বাইরে দিয়ে হেঁটে গেলে হায়না, দলবদ্ধ হরিণের ডাক শোনা যায়। শিহরণ জাগানোর মতো অনুভব তৈরি করে। অন্য চিড়িয়াখানায় বন্যপ্রাণীদের এভাবে ডাক শোনা যায় না। ঝাড়গ্রাম বনবিভাগের ডিএফও বলেন, জঙ্গল বন্যপ্রাণীদের স্বাভাবিক আশ্রয়স্থল। বন্যপ্রাণীদের স্বাভাবিক প্রাকৃতিক পরিবেশ দরকার। শাল পিয়াল ঘেরা ঝাড়গ্রাম জুলজিক্যাল পার্কে সেটা পুরোমাত্রায় আছে। রাজ্যের বিভিন্ন চিড়িয়াখানা থেকে এখানে জন্ম হওয়া শাবকদের নেওয়ার জন্য আবেদন করা হচ্ছে। নিয়ম মেনে তা দেওয়াও হচ্ছে। 
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ