নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ৩৩ বছর পর বাতিল করা হল সাঁওতালি শিক্ষকের শংসাপত্র। ১৯৯১ সালে পুরুলিয়ার বাসিন্দা মারিরাম মাঝি সাঁওতাল হিসেবে তফসিলি উপজাতির (এসটি) শংসাপত্র পেয়েছিলেন। ওই শংসাপত্রের দৌলতে স্কুল শিক্ষাজীবন শেষ করার পর প্রাইমারি স্কুলে শিক্ষকতাও করেন তিনি। কিন্তু হঠাৎ ৩৩ বছর পর তার সেই শংসাপত্র বাতিল করে দিয়েছেন মহকুমা শাসক! তাই নিরুপায় হয়ে শেষপর্যন্ত হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন বৃদ্ধ মারিরাম।
Advertisement
মামলার বয়ান সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৯৯১ সালের ৭ জানুয়ারি যাবতীয় নথি এবং তথ্য যাচাইয়ের পর সাঁওতাল উপজাতি গোষ্ঠীভুক্ত হিসেবে তাঁকে ওই শংসাপত্র দেওয়া হয়। এরপর একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণিতে ওই শংসাপত্র দেখিয়ে ভাতাও পেয়েছেন তিনি। এমনকী, ওই শংসাপত্রের দৌলতে ২০০৩ সালে তিনি প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরিও পান। এরপর নিয়মিত বেতনও বৃদ্ধি হয়েছে তাঁর। বর্তমানে তিনি প্রাথমিক শিক্ষক হিসেবেই কর্মরত এবং তাঁর অবসর আসন্ন। এর মধ্যেই হঠাৎ, গত ১৮ নভেম্বর তাঁর ওই শংসাপত্র বাতিলের নির্দেশ দেন মহাকুমা শাসক। সম্প্রতি বিচারপতি অমৃতা সিনহার এজলাসে এই মামলার শুনানিতে মারিরামের আইনজীবী দাবি করেন, সাঁওতালি উপজাতিভুক্ত ওই শিক্ষকের শংসাপত্র বাতিল করার অধিকার মহকুমা শাসকের নেই। হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে এই বিষয়ে একটি মামলা বকেয়া রয়েছে, যেখানে মহকুমা শাসকের এই সংক্রান্ত এক্তিয়ারটিকেই চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। এই মামলা নিষ্পত্তির আগেই মহকুমা শাসক এই শংসাপত্র বাতিল করতে পারেন না। রাজ্যের তরফে অবশ্য পাল্টা দাবি করা হয়, হিয়ারিংয়ের পর যাবতীয় নথি যাচাই করেই মারিরাম মাঝির ওই শংসাপত্র বাতিল হয়েছে।
কিন্তু বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, তাহলে ওই শংসাপত্র যাচাইয়ের জন্য দীর্ঘ ৩৩ বছর কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি কেন? এরপরই ওই সাঁওতালি শিক্ষকের শংসাপত্র বাতিলের কারণসংবলিত হলফনামা চেয়েছেন বিচারপতি সিনহা। এর পাশাপাশি ওই শংসাপত্র বাতিলের ব্যাপারে মহকুমা শাসকের নির্দেশের উপর ২৮ মার্চ পর্যন্ত স্থগিতাদেশ জারি করেছেন তিনি। শংসাপত্রটি বাতিলের কারণ জানিয়ে রাজ্যকে হলফনামা দিতে হবে ২৮ জানুয়ারির মধ্যে। সেদিনই এই মামলার পরবর্তী শুনানি।
কিন্তু বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, তাহলে ওই শংসাপত্র যাচাইয়ের জন্য দীর্ঘ ৩৩ বছর কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি কেন? এরপরই ওই সাঁওতালি শিক্ষকের শংসাপত্র বাতিলের কারণসংবলিত হলফনামা চেয়েছেন বিচারপতি সিনহা। এর পাশাপাশি ওই শংসাপত্র বাতিলের ব্যাপারে মহকুমা শাসকের নির্দেশের উপর ২৮ মার্চ পর্যন্ত স্থগিতাদেশ জারি করেছেন তিনি। শংসাপত্রটি বাতিলের কারণ জানিয়ে রাজ্যকে হলফনামা দিতে হবে ২৮ জানুয়ারির মধ্যে। সেদিনই এই মামলার পরবর্তী শুনানি।



