Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শিক্ষকের অভাবে করিমপুরের বহু স্কুলে পড়াশোনা নিয়ে চিন্তা

শিক্ষকের অভাবে করিমপুরের বহু স্কুলে পড়াশোনা নিয়ে চিন্তা
  • ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, করিমপুর: ইংরেজি নতুন বছরের সঙ্গে শুরু হয়েছে নয়া শিক্ষাবর্ষ। তার আগে করিমপুর সীমান্ত এলাকার বহু স্কুল কর্তৃপক্ষ শিক্ষকের ঘাটতির কারণে পড়ুয়াদের পড়াশোনা নিয়ে চিন্তিত। কয়েকবছর ধরেই করিমপুর ও আশপাশের এলাকার কয়েকটি স্কুল এই সমস্যায় ভুগছে। করিমপুর চক্রের অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক সোমদেব মজুমদার বলেন, সমস্যার কথা ও শূন্যপদের তালিকা শিক্ষাদপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
Advertisement
করিমপুর উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে প্রায় আড়াই হাজার ছাত্রী পড়াশোনা করে। এখানে স্থায়ী শিক্ষক রয়েছেন মাত্র ২১জন। চারজন পার্শ্বশিক্ষক ও পাঁচজন অতিথি শিক্ষককে ন্যূনতম টাকা দিয়ে স্কুল চালানো হচ্ছে। স্কুলের পঞ্চম-অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত তিনটি করে মোট ১২টি সেকশন রয়েছে। নবম ও দশম শ্রেণিতে দু’টি করে চারটি সেকশন। সেইসঙ্গে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি রয়েছে। ফলে ছাত্রীদের সব ক্লাস করাতে স্কুল কর্তৃপক্ষকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
ওই স্কুলের পরিচালন সমিতির সভাপতি অনুদেব মজুমদার বলেন, ১৩জন স্থায়ী শিক্ষকের পদ শূন্য। পদার্থবিদ্যা ও জীববিদ্যার একজন শিক্ষকও নেই। সেইসঙ্গে স্কুলে পর্যাপ্ত জায়গার অভাব রয়েছে। শৌচাগার থেকে চরম দুর্গন্ধের কারণে স্কুলে ক্লাস করা কঠিন হয়। প্রায় ২০০মিটার দূরে স্কুলের নতুন ভবন তৈরি হলেও শিক্ষক ও কিছু পরিকাঠামোর অভাবে তা চালু করা সম্ভব হচ্ছে না।
মুরুটিয়া থানার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী বেড়রামচন্দ্রপুর উচ্চবিদ্যালয়ের পড়ুয়াসংখ্যা প্রায় ৬৫০। অথচ প্রধান শিক্ষক সহ মাত্র সাতজন স্থায়ী শিক্ষক রয়েছেন। পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত আটটি ইউনিট রয়েছে। সমস্ত ক্লাস করাতে কমপক্ষে আরও আটজন শিক্ষক দরকার। চারজন পার্শ্বশিক্ষক রাখা হয়েছে। এছাড়া, স্কুলের কয়েকজন প্রাক্তন ছাত্র ক্লাস নেয়। এভাবে কোনওরকমে স্কুল চলছে। স্কুলের প্রধান শিক্ষক রামপদ বাড়ুই বলেন, ২০১৪ সালে জীবনবিজ্ঞানের শিক্ষক চলে গিয়েছেন। ২০১৬ সালে ইংরেজি, ২০১৭ সালে সংস্কৃত শিক্ষক চলে যান। সেই জায়গায় আর কেউ আসেননি। ২০২১ সালে উৎসশ্রী প্রকল্পে একসঙ্গে ছয়জন শিক্ষক চলে গিয়েছেন। তার বদলে একজন শিক্ষক আমাদের স্কুলে এসেছেন। স্কুলে কোনও ক্রীড়াশিক্ষক নেই। সমস্যার কথা বারবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
একই সমস্যায় ভুগছে যমশেরপুর উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়। স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা ব্রততী বিশ্বাস বলেন, ১৩৫০জন ছাত্রী রয়েছে। কিন্তু তাদের পড়ানোর জন্য মাত্র ১০জন স্থায়ী শিক্ষিকা ও ১০জন পার্শ্বশিক্ষিকা আছেন। স্কুলে ১৭জন শিক্ষকের পদ শূন্য। বহু পদ সাতবছর ধরে ফাঁকা রয়েছে। এভাবে স্কুল চালানো মুশকিল।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ