নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: উচ্চ প্রাথমিকে চলছে শিক্ষক নিয়োগ। এবার কি প্রকৃত টিচিং-লার্নিং আওয়ার বা ‘শিক্ষণ সময়’ বাড়বে, এই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে শিক্ষামহলে। নতুন বর্ষের জন্য অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার ঘোষণা হতে চলেছে শীঘ্রই। সেখানে প্রকৃত শিক্ষণ দিবস প্রতিফলিত হোক, চাইছেন শিক্ষকদের একাংশ। শিক্ষার অধিকার আইন ২০০৯ অনুযায়ী প্রাথমিকে বছরে ন্যূনতম ৮০০ ঘণ্টা এবং উচ্চ প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তরে ১০০০ ঘণ্টা ক্লাস করার কথা বলা হয়েছে। এটাকেই বলা হয় শিক্ষণ সময়। তবে, প্রকৃতপক্ষে ক্লাস হয় তার চেয়ে অনেক কম।
Advertisement
শিক্ষকদের একাংশের বক্তব্য, মধ্যশিক্ষা পর্ষদের হিসেব অনুযায়ী টিচিং-লার্নিং আওয়ার রয়েছে ১১৬২ ঘণ্টা ৫৬ মিনিট। তবে, তার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে প্রার্থনা ও টিফিনের দৈনিক ৫০ মিনিটের হিসেবও। সেটা যদি বাদ দেওয়া হয় তাহলে প্রকৃত ক্লাসরুম টিচিংয়ের সময় দাঁড়ায় ৯৯৫ ঘণ্টার কিছু বেশি। তবে, তার জন্য ২১৮-২০ দিন ক্লাস হতে হবে। কয়েকটি স্কুলের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, শনিবার পর্যন্ত এ বছর তাদের স্বাভাবিক ক্লাস হয়েছে ১৪০ থেকে ১৫০ দিন। এর সঙ্গে শনিবারও রয়েছে। রয়েছে পরীক্ষার দিনগুলিও। ফলে বোঝাই যাচ্ছে, স্কুলগুলিতে পুরো ২১৮ দিন ক্লাস হওয়া সম্ভব নয়।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের এডুকেশন বিভাগের অধ্যাপক মুক্তিপদ সিনহা বলেন, ‘টিচিং-লার্নিং আওয়ারে প্রার্থনা বা টিফিনের সময় তখনই গণ্য করা যায়, যখন সেগুলিতে সমস্ত শিক্ষকের অংশগ্রহণ থাকে। বাস্তবে এটা কতটা হয় জানি না।’ বিভিন্ন শিক্ষকের বক্তব্য, ন্যূনতম শিক্ষণ দিবস এবং টিচিং লার্নিং আওয়ারে পৌঁছনো না গেলে সেটা শিশুশিক্ষার অধিকারের আইনের পরিপন্থী। এমনকী, শিশুদের সঙ্গেও একটা বঞ্চনা হচ্ছে।
একজন শিক্ষক বলেন, টিচিং-লার্নিং আওয়ারের মধ্যে পরীক্ষা পরবর্তী সময়গুলিকেও ধরা হয়। তখন শিক্ষকরা স্কুলে এলেও কোনও পড়ুয়া আসে না। তাই এগুলিকে শিক্ষণ দিবসে ধরা উচিত নয়। অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডারকেও সেভাবে সাজাতে হবে। খাতায়-কলমে টার্গেট পূরণ করলে চলবে না। এদিকে, অল পোস্ট গ্র্যাজুয়েট টিচার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের দাবি, আগের মতোই মোট ছুটির সংখ্যা ৬৫ থেকে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ৮৫ দিন করে দেওয়া হোক। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক চন্দন গরাইয়ের যুক্তি, প্রতি বছরই ৮৫ দিনের বেশি প্রকৃত ছুটি থাকে। তাই এটাকে বৈধতা দিলে অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার অনেক সুসংহত হবে। সেই অনুযায়ী প্ল্যানিংও করা যাবে। গরমে যেভাবে হঠাৎ বাড়তি ছুটি দেওয়া হয়, সেগুলিও এর মধ্যে চলে আসবে। তবে, ১৫ আগস্ট, ২৬ জানুয়ারি, ২৩ জানুয়ারির মতো দিনগুলি স্কুলে অবশ্য পালনীয় ঘোষণা করে সমস্ত শিক্ষক এবং পড়ুয়াদের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা হোক। যদিও, মধ্যশিক্ষা পর্ষদের তরফে প্রস্তাব পাওয়ার কথা স্বীকার করা হলেও কোনও পরিবর্তনের কথা নিশ্চিত করা হয়নি।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের এডুকেশন বিভাগের অধ্যাপক মুক্তিপদ সিনহা বলেন, ‘টিচিং-লার্নিং আওয়ারে প্রার্থনা বা টিফিনের সময় তখনই গণ্য করা যায়, যখন সেগুলিতে সমস্ত শিক্ষকের অংশগ্রহণ থাকে। বাস্তবে এটা কতটা হয় জানি না।’ বিভিন্ন শিক্ষকের বক্তব্য, ন্যূনতম শিক্ষণ দিবস এবং টিচিং লার্নিং আওয়ারে পৌঁছনো না গেলে সেটা শিশুশিক্ষার অধিকারের আইনের পরিপন্থী। এমনকী, শিশুদের সঙ্গেও একটা বঞ্চনা হচ্ছে।
একজন শিক্ষক বলেন, টিচিং-লার্নিং আওয়ারের মধ্যে পরীক্ষা পরবর্তী সময়গুলিকেও ধরা হয়। তখন শিক্ষকরা স্কুলে এলেও কোনও পড়ুয়া আসে না। তাই এগুলিকে শিক্ষণ দিবসে ধরা উচিত নয়। অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডারকেও সেভাবে সাজাতে হবে। খাতায়-কলমে টার্গেট পূরণ করলে চলবে না। এদিকে, অল পোস্ট গ্র্যাজুয়েট টিচার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের দাবি, আগের মতোই মোট ছুটির সংখ্যা ৬৫ থেকে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ৮৫ দিন করে দেওয়া হোক। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক চন্দন গরাইয়ের যুক্তি, প্রতি বছরই ৮৫ দিনের বেশি প্রকৃত ছুটি থাকে। তাই এটাকে বৈধতা দিলে অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার অনেক সুসংহত হবে। সেই অনুযায়ী প্ল্যানিংও করা যাবে। গরমে যেভাবে হঠাৎ বাড়তি ছুটি দেওয়া হয়, সেগুলিও এর মধ্যে চলে আসবে। তবে, ১৫ আগস্ট, ২৬ জানুয়ারি, ২৩ জানুয়ারির মতো দিনগুলি স্কুলে অবশ্য পালনীয় ঘোষণা করে সমস্ত শিক্ষক এবং পড়ুয়াদের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা হোক। যদিও, মধ্যশিক্ষা পর্ষদের তরফে প্রস্তাব পাওয়ার কথা স্বীকার করা হলেও কোনও পরিবর্তনের কথা নিশ্চিত করা হয়নি।



