জাকার্তা, ১৩ সেপ্টম্বর: ফের ইন্দোনেশিয়ায় মাঝ সমুদ্রে বিপদে পড়ল একটি যাত্রীবাহী জাহজ। জানা গিয়েছে, খারাপ আবহাওয়ার কবলে পড়ে এই ইন্দোনেশিয়ার জাভা ও বোর্নিও দ্বীপের মধ্যে চলাচলকারী জাহাজটি। এখনও পর্যন্ত ১০৩ জন যাত্রী ও ক্রু সদস্যকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু ১ জনের মৃত্যুও হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় উদ্ধারকারী সংস্থা।
‘ভার্গো ট্রান্সপোর্ট ৮’ নামে ওই জাহাজটিতে মোট ২৪৩ জন যাত্রী ও ক্রু সদস্য ছিলেন। রবিবার পূর্ব জাভার সুরাবায়া থেকে রওনা হওয়ার পর ভোরের দিকে জাহাজটির সঙ্গে সম্পূর্ণরূপে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বলে জানা যায়। স্থানীয় সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ প্রধান জানান, এখনও পর্যন্ত মোট ১০৩ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। দুর্ঘটনায় এক জন যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। উদ্ধারকারী দল যখন জাহাজটির কাছে পৌঁছনোর চেষ্টা করে তখন সমুদ্রে ঢেউয়ের উচ্চতা ছিল প্রায় ২.৪ মিটার। তিনি আরো জানান, এইরকম পরিস্থিতিতে উদ্ধার কার্য প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। এমনকি প্রায় ৪০ মিটার দীর্ঘ উদ্ধারকারী জাহাজও প্রবল ঢেউয়ের কারণে বিপদের মুখে পড়েছিল। শেষবার জাহাজটির অবস্থান জাভা সাগরে নিশ্চিত করা হয়েছিল। গন্তব্য বানজারমাসিন থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দূরে ছিল সেটি। নিখোঁজ বা আটকে থাকা যাত্রীদের উদ্ধারে তল্লাশি অভিযান এখনো চলছে।
ইন্দোনেশিয়ায় এমন সামুদ্রিক দুর্ঘটনা নতুন নয়। ১৭ হাজারেরও বেশি দ্বীপ নিয়ে গঠিত এই দেশে দৈনন্দিন যাতায়াত ও পর্যটনের ক্ষেত্রে জলপথের উপরই বিশেষভাবে নির্ভর করতে হয়। কিন্তু দুর্বল নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং হঠাৎ বদলে যাওয়া আবহাওয়ার কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। এর মধ্যেই গত সোমবার বান্তেন প্রদেশের মাউন্ট আনাক ক্রাকাতাউয়ের কাছে আট জনকে নিয়ে একটি স্পিডবোট নিখোঁজ হয়। তাঁদের মধ্যে পাঁচ জন স্থানীয় এবং একজন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিক ছিলেন। আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে তাঁরা নিখোঁজ হন। ওই অগ্ন্যুৎপাতের জেরে জাকার্তার প্রধান বিমানবন্দর-সহ একাধিক বিমানবন্দরের পরিষেবাও ব্যাহত হয়েছিল। গত মাসেও ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপের কাছে লম্বক প্রণালিতে একটি জাহাজে আগুন লাগে। ঘটনায় এক জনের মৃত্যু হয় এবং পাঁচ জন নিখোঁজ হন। সেই ঘটনায় ২১১ জনকে উদ্ধার করা হয়েছিল। এর আগে জুলাই মাসে সুলাওয়েসির দক্ষিণে সেলায়ের কাছে ৭০ জনেরও বেশি যাত্রী নিয়ে একটি জাহাজ ডুবে যায়।