সংবাদদাতা, রামপুরহাট: তিন বছর হতে না হতেই কাঁধে বইয়ের ব্যাগ। স্কুল থেকে বাড়ি ফিরে সেই চার দেওয়ালেই বন্দি থাকে জীবন। বিনোদন বলতে টিভির পর্দায় কার্টুন অথবা বিকেলে বেড়ানো কিংবা পার্কে খেলাধুলো। যদিও পার্কের অবস্থা ছিল বেহাল। অবশেষে দীর্ঘদিন পরে হতশ্রী দশা থেকে মুক্তি পেতে চলেছে রামপুরহাট শহরের একমাত্র গান্ধী পার্ক। এক কোটি তিন লক্ষ টাকা ব্যয়ে ঘুচতে চলেছে তার হতশ্রী দশা। শিশুদের একমাত্র বিনোদনের এই পার্কে লাগছে রূপটান। এলাকার বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, পার্কের উন্নয়নে বরাদ্দ অর্থ জনসাধারণের মতামত নিয়ে ব্যয় করার জন্য পুরসভাকে অনুরোধ করা হবে। কারণ, সাধারণ মানুষই পার্কটি ব্যবহার করেন।
Advertisement
আগে এই পার্কটি বনদপ্তরের হাতে ছিল। ২০১৪ সালের ২২ জুলাই রামপুরহাট পুরসভাকে পার্কটি হস্তান্তর করে বনদপ্তর। এরপর রাজ্য পুর দপ্তরের তরফে পার্কটি সাজিয়ে তুলতে এক কোটি ৩৯ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়। পার্কে শিশুদের মনোরঞ্জনের জন্য ট্রয় ট্রেন, দোলনা, ও বিভিন্ন জীবজন্তুর মূর্তি বসানো হয়। সুবিশাল দিঘি সংস্কার করে অর্ধেকের উপর গার্ডওয়াল ও সিঁড়ি করা হয়। দিঘিতে বোটিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়। ছটপুজোর সময় এখানে প্রচুর ধর্মপ্রাণ মানুষের ভিড় জমে। তেমনি পার্ক জুড়ে বিদেশি গাছ লাগিয়ে সৌন্দর্যায়ন করা হয়। পরে এই পার্কটিকে ইলেট্রনিক্স পার্কে রূপান্তরিত করার কথা বলেছিলেন পুরসভার তৎকালীন চেয়ারম্যান অশ্বিনী তেওয়ারি। কিন্তু ইলেকট্রনিক্স পার্ক দুরঅস্ত্, বর্তমানে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে খুব অল্পদিনেই বেহাল হয়ে পড়েছে পার্কটি। ফলে কচিকাঁচাদের সঙ্গে এনে অনেকেই নিরাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। সুবিশাল দিঘির জল নষ্ট হয়ে শুকিয়ে গিয়েছে। নষ্ট হয়েছে ফোয়ারা, লাইট ও বোটিংয়ের সরঞ্জাম। যদিও কয়েকমাস আগে বিধায়ক তহবিলের অর্থে পার্কে লাইট লাগানো হয়। সেই সঙ্গে জীবজন্তুর স্ট্যাচুগুলি রং করা হয়।
বর্তমানে মাথা পিছু ২০ টাকা করে টিকিট নিয়ে ঢুকতে হচ্ছে। মিকি মাউস ও খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলা ট্রয় ট্রেনে চড়তে গেলে আলাদা খরচ লাগে। এলাকায় কোন সিনেমা হলও নেই। বাধ্য হয়ে বাচ্চাদের নিয়ে কিছুটা সময় কাটাতে অনেক অভিভাবক এখানে আসেন। কিন্তু শিশুদের মনোরঞ্জনের বিষয়টি মাথায় রেখে দ্রুত পার্কের হাল ফেরানো উচিত বলে অনেকেই মত প্রকাশ করেন। কিন্তু পুরসভার উদাসীনতার কারণে ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যেতে থাকে পার্কটি। এছাড়া চুরি লেগেই রয়েছে। তাই কম উচ্চতার পাঁচিলে কাঁটাতারের ফেন্সিং দেওয়ার দাবিও ওঠে।
বর্তমানে মাথা পিছু ২০ টাকা করে টিকিট নিয়ে ঢুকতে হচ্ছে। মিকি মাউস ও খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলা ট্রয় ট্রেনে চড়তে গেলে আলাদা খরচ লাগে। এলাকায় কোন সিনেমা হলও নেই। বাধ্য হয়ে বাচ্চাদের নিয়ে কিছুটা সময় কাটাতে অনেক অভিভাবক এখানে আসেন। কিন্তু শিশুদের মনোরঞ্জনের বিষয়টি মাথায় রেখে দ্রুত পার্কের হাল ফেরানো উচিত বলে অনেকেই মত প্রকাশ করেন। কিন্তু পুরসভার উদাসীনতার কারণে ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যেতে থাকে পার্কটি। এছাড়া চুরি লেগেই রয়েছে। তাই কম উচ্চতার পাঁচিলে কাঁটাতারের ফেন্সিং দেওয়ার দাবিও ওঠে।
অবশেষে দেরিতে হলেও পার্কের উন্নয়নে রাজ্য সরকার পুরসভাকে এক কোটি তিন লক্ষ টাকা বরাদ্দ করেছে। চেয়ারম্যান সৌমেন ভকত বলেন, ৩০ লক্ষ টাকা পার্কের উন্নয়নে খরচ করা হবে। বাকি ৭৩ লক্ষ টাকায় দিঘিতে খনন কার্য চালিয়ে জল ভরার পাশাপাশি বাকি সৌন্দর্যায়নের কাজ করা হবে। খুব শীঘ্রই কাজ শুরু হয়ে যাবে। বিধায়ক অবশ্য বলেন, জনসাধারণের অনেক মতামত থাকে। অনেক ক্ষেত্রে আমরা সেটা গুরুত্ব দিই না। তাই মানুষের মতামত নিয়ে কাজ করতে হবে।



