সংবাদদাতা, সাঁইথিয়া: জেলা সদর সিউড়ি শহরেই নেই গাড়ি পার্কিংয়ের নির্দিষ্ট ব্যবস্থা। রাস্তার যেখানে সেখানে রেখে দেওয়া হচ্ছে মোটর বাইক থেকে শুরু করে চারচাকা গাড়িও। তাই মাঝেমধ্যেই সৃষ্টি হচ্ছে যানজটের। এবিষয়ে প্রশাসনের উদাসীনতাকেই দায়ী করছেন স্থানীয়রা। সিউড়ি শহরকে সাজানোর জন্য অনেক পরিকল্পনা নিয়েছে পুরসভা। সেই মতো শহরজুড়ে চলছে সৌন্দর্যায়নের কাজ। কিন্তু রাস্তায় সৌন্দর্যায়নের কাজ হলেও শহরে নেই গাড়ি পার্কিংয়ের কোনও নির্দিষ্ট জায়গা। সদর শহর হওয়ায় প্রশাসন ভবন থেকে শুরু করে অফিস, আদালত সমস্ত দপ্তরের কর্তাব্যক্তিরা যেহেতু এখানেই থাকেন, সেই কারণে প্রতিদিন কয়েকশো লোক শহরে আসা যাওয়া করেন। প্রশাসন ভবনের নির্দিষ্ট গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা থাকলেও শহরের বাকি দপ্তরগুলিতে নেই এই ব্যবস্থা। তাই ওই সমস্ত অফিসে কাজে আসা লোকেরা বাধ্য হয়ে যেখানে সেখানে গাড়ি রেখে চলে যান। ফলে যত্রতত্র গাড়ি রাখার ফলে স্বভাবতই সৃষ্টি হয় যানজটের। এছাড়াও শহরে বেশ কয়েকটি বেসরকারি ব্যাঙ্ক, শপিং মল, খাবারের দোকান সহ বেশ কয়েকটি দপ্তরের নেই নির্দিষ্ট কোনও পার্কিংয়ের জায়গা। রাস্তার মধ্যেই যত্রতত্র রেখে দেওয়া হয় মোটর বাইক চারচাকা গাড়ি। এতে রাস্তা সংকীর্ণ হয়ে সৃষ্টি হয় যানজটের। ব্যস্ত সময়ে নাজেহাল হতে হয় শহরবাসীকে। এছাড়াও শহরে নির্দিষ্ট বাসস্ট্যান্ড থাকা সত্ত্বেও পুলিস লাইন থেকে প্রশাসন ভবন আসার প্রধান রাস্তার উপরেই রাস্তার একধারে দাঁড় করিয়ে রাখা হয় বাস, বড়-ছোট সমস্ত গাড়ি। সিউড়ির ট্রাফিক অফিসের পাঁচিলের ধারে প্রধান রাস্তার উপরেও রেখে দেওয়া হয় ট্রাক, বাস সমস্ত গাড়ি। বিশেষ করে আদালত, থানা, রেজিস্ট্রি অফিসের সামনে রাস্তার দু’পাশে রাখা গাড়ির কারণে রাস্তা সংকীর্ণ হয়ে যায়। সেই সময় ওই রাস্তা একটি গাড়ি ঢুকে পড়লে অন্য গাড়ির পেরনোর আর কোনও জায়গা থাকে না। এক্ষেত্রে প্রশাসনের উদাসীনতাকেই দায়ী করছেন শহরবাসী।
Advertisement
স্থানীয় বাসিন্দা ইন্দ্রনীল পাল জানান, সিউড়ি নামেই জেলা সদর। শহরে ঠিকভাবে কোনও কিছুরই ব্যবস্থা নেই। গাড়ি পার্কিং থেকে শৌচাগার সবই অমিল এই শহরে। পার্কিং না থাকায় যত্রতত্র দাঁড়িয়ে থাকে গাড়িগুলি। তারফলে পথ চলতে অসুবিধা হয়। সৃষ্টি হয় যানজটেরও। শহরে সৌন্দর্যায়নের পাশাপাশি প্রশাসন পার্কিংয়ের ব্যবস্থাও করুক। এ বিষয়ে সিউড়ি সদর মহকুমা শাসক সুপ্রতীক সিনহা বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে রয়েছে। শহরে নতুন বাসস্ট্যান্ড চালু হলেই পার্কিং সংক্রান্ত ব্যাপারে একটা সুস্পষ্ট নির্দেশিকা পাওয়া যাবে।



