


ঢাকা, ১ জুন: ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্ট মাসে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে অশান্ত হয় বাংলাদেশ। গোটা দেশজুড়েই রাস্তায় নেমে পড়ে লক্ষ লক্ষ মানুষ। গ্রাম থেকে শহর অবরুদ্ধ হয়ে যায়, ভাঙচুর, বিক্ষোভ, ধ্বংসলীলা চলতে থাকে। তা নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়েই জনতার সঙ্গে সংঘর্ষ হয় পুলিস ও সেনার। মৃত্যু হয় আমজনতার। যার ফলে বিক্ষোভ আরও ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে, বাধ্য হয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে বোন রেহানাকে নিয়ে দেশ ছাড়েন শেখ হাসিনা। সেই সময়কার পরিস্থিতি নিয়ে ঢাকায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয় মুজিব কন্যার বিরুদ্ধে। আজ, রবিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জুলাই ও আগস্টের ঘটনায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে হাসিনাকে। শুরু হয়েছে শুনানি।
শেখ হাসিনার পাশাপাশি এই মামলায় প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও পুলিসের প্রাক্তন আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। বাংলাদেশের চিফ প্রসিকিউটার তাজউল ইসলাম জানিয়েছেন, ‘প্রত্যেকটি খুন করা হয়েছে পরিকল্পনা মাফিক।’ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের গোটা বিচার প্রক্রিয়ার লাইভ সম্প্রচারও করা হচ্ছে। সূত্রের খবর, এই মামলায় হাসিনা দোষী সাব্যস্ত হলে বিপাকে পড়তে পারেন। বাংলাদেশের জুলাই ও আগস্ট মাসের অশান্তির ঘটনায় একটি তথ্য দিয়েছিল রাষ্ট্রসঙ্ঘ। তাতে বলা হয়েছিল, ঠিক ওই সময়ে বাংলাদেশে এই অশান্তিকে কেন্দ্র করে ১৪০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেই মৃত্যুর জন্য দায়ী হাসিনার সরকার। সেই কারণেই বাংলাদেশের তরফে হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ লাগু করা হয়েছে। এই মামলা ছাড়াও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আরও দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। যার মধ্যে একটি আওয়ামি লিগের শাসনকালে গুম খুনের ঘটনা ও অপরটি মতিঝিলের শাপলা চত্বরে একটি সমাবেশে হত্যাকাণ্ড সংক্রান্ত মামলা।
এদিকে বাংলাদেশে ইউনুস সরকারের আমলে আরও বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শেখ হাসিনার সময়ে রাজনৈতিক দল হিসেবে ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি’-র (জামাত) স্বীকৃতি বাতিল করে দিয়েছিলে হাইকোর্ট। আজ, রবিবার বাংলাদেশ হাইকোর্টের সেই রায় খারিজ করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগ আজ, রবিবার এই রায় দিয়েছেন। শেখ হাসিনার সময়কালে ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি’ ও তাঁর ছাত্র সংগঠনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। পট পরিবর্তনের পর, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে সেই ব্যান তুলে নেওয়া হয়। তারপর এদিন হাইকোর্টের রায়ও খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। যার ফলে বাংলাদেশের নির্বাচনে লড়তে আর বাধা রইল না ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি’র। এদিন বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্ট এও নির্দেশ দিয়েছে, দলটির ক্ষেত্রে আটকে থাকা রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত বিষয় এবং অন্য কোনও ইস্যু যদি থেকে থাকে, তা বিচারগত ও আইনগতভাবে দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে নির্বাচন কমিশনকে।