Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

সোনার ইতিহাস লিখলেন শীতল দেবী ও তোমান, প্যারা আর্চারি বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ

শনিবার প্যারা আর্চারি বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে মহিলাদের কম্পাউন্ড বিভাগের ব্যক্তিগত ইভেন্টে সোনা জিতলেন তিনি।

সোনার ইতিহাস লিখলেন শীতল দেবী ও তোমান, প্যারা আর্চারি বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ
  • ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সিউল: ইতিহাসের পাতায় অমরত্বের তকমা ছিনিয়ে নিলেন শীতল দেবী। শনিবার প্যারা আর্চারি বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে মহিলাদের কম্পাউন্ড বিভাগের ব্যক্তিগত ইভেন্টে সোনা জিতলেন তিনি। আর সেটাও পা দিয়ে তির ছুড়ে। এই বিভাগে বিশ্বের এক নম্বর আর্চার ওজনুক কিউর গির্দিকে ১৪৬-১৪৩ ব্যবধানে হারালেন ১৮ বছরের দিব্যাঙ্গজন তরুণী। এই আসরে প্রথম ভারতীয় মহিলা তিরন্দাজ হিসেবে সোনা জয়ের নজির গড়লেন প্যারিস প্যারালিম্পিকসে ব্রোঞ্জ জয়ী তারকা। চলতি প্রতিযোগিতায় এটি তাঁর তৃতীয় পদক। এর আগে মিক্সড ইভেন্টে তোমান কুমারের সঙ্গে জুটিতে জিতেছেন ব্রোঞ্জ পদক। টিম ইভেন্টে সরিতাকে সঙ্গে নিয়ে ছিনিয়ে নিয়েছেন রুপো। পাশাপাশি পুরুষদের ইভেন্টে সোনা জিতলেন তোমান কুমার। অল ইন্ডিয়া ফাইনালে রাকেশ কুমারের বিরুদ্ধে শেষ হাসি হাসেন তিনি। সবমিলিয়ে এই আসরে মোট পাঁচটি পদক পেল ভারত।

Advertisement

শীতল দেবীর কাহিনি রূপকথাকেও হার মানাবে। দূরারোগ্য ফোকোমেলিয়ার প্রকোপে ছোট বেলাতেই খোয়াতে হয়েছিল দু’টি হাত। কিন্তু সাফল্যের পথে তা বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। পায়ের অবলম্বনে ধনুক ধরে চিবুক দিয়ে ছিলা টেনে বিশ্ব জয় করলেন তিনি। শেষ চারের লড়াইয়ে তাঁর দাপট বুঝিয়ে দিয়েছিল সোনা স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। সেমি-ফাইনালে গ্রেট ব্রিটেনের জোডি গ্রিনহ্যামকে ১৪৫-১৪০ ব্যবধানে হারান শীতল। এরপর ফাইনালে তুরস্কের ওজনুক গির্দির সঙ্গে হয় কড়া টক্কর। একটা সময় টাই ছিল ম্যাচ। কিন্তু ফাইনাল রাউন্ডে বাজিমাত করেন ভারতীয় তরুণী। তিনটি তিরই ‘বুলস আই’তে হিট করে সোনা জিতলেন শীতল। পাশাপাশি মিক্সড ইভেন্টে ব্রোঞ্জ জয়ের পথে তিনি ও তোমান মিলে ১৫২-১৪৯ পয়েন্টে  হারালেন ব্রিটেনের জোডি ও নাথান ম্যাককুইনকে। দলগত ইভেন্টেও তুরস্কের বিরুদ্ধে সোনা হাতছাড়া হয় অপ্লের জন্য। ব্যক্তিগত ইভেন্টের ফাইনালে তারই মধুর প্রতিশোধ নেন শীতল। 
অন্যদিকে, পুরুষদের কম্পাউন্ড ইভেন্টের ফাইনালে ভারতের সোনা নিশ্চিত ছিল। কারণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল তোমান কুমার ও রাকেশ কুমারের মধ্যে। লড়াই চলাকালীন রাকেশের ধনুকে সমস্যা দেখা দেয়। এর ফলে মাঝ পথেই প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়ান তিনি। শেষ পর্যন্ত ৪০-২০ ব্যবধানে সোনা ওঠে তোমানের গলায়। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ